E-Paper

জীবন জ্যোতির টাকা পেলেন স্বামীহারা

২০২৩ সালের ৪ অগস্ট কিডনির সমস্যায় সবিতার স্বামী মধুসূদনের মৃত্যু হয়। মধুসূদনের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ওই বিমা করা ছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:০০
মামলা নিষ্পত্তির পরে বিচারকের চেম্বারে সবিতা।

মামলা নিষ্পত্তির পরে বিচারকের চেম্বারে সবিতা। নিজস্ব চিত্র।

আড়াই বছরের টানাপড়েন আর অনিশ্চয়তার শেষে মিলল সুরাহা। ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনার (পিএমজেজেবিওয়াই) দাবি করা (ক্লেমের) দু’লক্ষ টাকা পেলেন সবিতা বাড়ি। গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকের ছাতিনশোল গ্রামের বাসিন্দা তিনি। সোমবার ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে এই মামলার নিষ্পত্তি হতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন সবিতা।

২০২৩ সালের ৪ অগস্ট কিডনির সমস্যায় সবিতার স্বামী মধুসূদনের মৃত্যু হয়। মধুসূদনের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ওই বিমা করা ছিল। যার জন্য বার্ষিক ৪৩৬ টাকা প্রিমিয়াম কাটত ব্যাঙ্ক। নিয়ম অনুযায়ী, ১৮-৫৫ বছর বয়সের মধ্যে গ্রাহকের মৃত্যু হলে মনোনীত ব্যক্তি (নমিনি) দু’লক্ষ টাকা পাবেন। স্বামীর মৃত্যুর পর সবিতা ব্যাঙ্কের ছাতিনাশোল শাখায় নথিপত্র জমা দিয়ে টাকার দাবি জানান। অভিযোগ, টাকা মেলেনি। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার দরবার করলে তাঁরা দায় এড়িয়ে বিমা সংস্থায় যোগাযোগের পরামর্শ দেন বলে দাবি সবিতার। তিনি একপ্রকার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। এরই মধ্যে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের কাজের কথা জানতে পারেন সবিতা। গত বছর ১৬ অক্টোবর গোপীবল্লভপুর-২ নম্বর ব্লকের ‘অধিকার মিত্র’ রিতা দাস দত্তের মাধ্যমে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিবের কাছে আবেদন করেন সবিতা। সবিতার আবেদনের ভিত্তিতে সচিব তথা বিচারক রিহা ত্রিবেদী ‘প্রি-লিটিগেশন’ মামলা রুজু করেন। নোটিস পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখা প্রবন্ধক এবং বিমা সংস্থার কর্মকর্তাদের তলব করেন।

৩ ডিসেম্বর ও ১৯ জানুয়ারি শুনানিতে বিমা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি হাজির ছিলেন। কিন্তু ব্যাঙ্কের কেউ আসেননি। ৩ ফেব্রুয়ারি বিচারকের নির্দেশে বিমা কর্তৃপক্ষ সবিতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করে দেন। সোমবার মামলার নিষ্পত্তি করেন বিচারক রিহা ত্রিবেদী। টাকা পেয়ে সবিতা বলেন, ‘‘জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের জন্যই আজ এই টাকা হাতে পেলাম। আড়াই বছরের লড়াইয়ের ইতি ঘটল মাত্র চার মাসে।’’ ‘অধিকার মিত্র’ রিতা বলেন, ‘‘নিখরচায় আইনি পরিষেবার এমন সুযোগে বিমার বেনিফিটের টাকা পেয়েছেন সবিতা।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Gopiballavpur

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy