নিহত তৃণমূল নেতা কুরবান শা'র দাদা আফজল শা'র অফিসের সামনে সন্দেহভাজনদের ঘোরাঘুরি। আফজল না থাকায় ফিরে যায় ওই আগন্তুকরা। এমন ঘটনায় নিজের প্রাণনাশের আশঙ্কা করে জেলা পুলিশ সুপারকে চিঠি দিলেন আফজল।
২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর মাইশোরায় নিজের অফিসের মধ্যে খুন হন তৃণমূলের পাঁশকুড়া ব্লক কার্যকরী সভাপতি তথা পাঁশকুড়া ১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি কুরবান শা। কুরবান খুন হওয়ার পর ভাইয়ের অফিসেই নিয়মিত বসেন দাদা আফজল শা। অভিযোগ বুধবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ পাঁশকুড়ার দিক থেকে দুটি গাড়ি এসে থামে আফজলের অফিসের অদূরে। গাড়ি থেকে সাতজন যুবক নেমে সটান চলে যায় আফজলের অফিসের দরজার সামনে। অফিস বন্ধ থাকায় ওই যুবকরা মাইশোরা বাজারে বেশ ঘোরাঘুরি করে বলে অভিযোগ। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের নাম-ঠিকানা জানতে চাইলে তারা তা বলতে অস্বীকার করে বলে অভিযোগ। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে ওই যুবকরা আফজল সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করছিল বলেও অভিযোগ। শ্রীদাম পাত্র নামে এক প্রাক্তন শিক্ষক বলেন, ‘‘কয়েক জন যুবক আফজল শা'র অফিসের সামনে ঘোরাঘুরি করছিল। আমি ওদের নাম-ধাম জিজ্ঞাসা করলেও বলেনি। শুধু বলেছিল মহিষাদল থেকে এসেছে। কেন এসেছিল তাও জানাতে অস্বীকার করে।এলাকার রাস্তাঘাট সম্পর্কে নানা তথ্য জেনে নিচ্ছিল ওই যুবকরা। আফজল সম্পর্কেও জানতে চেয়েছিল।’’ প্রায় আধঘণ্টা ঘোরাঘুরি করার পর ওই যুবকরা ফের পাঁশকুড়ার দিকে চলে যায় বলে জানা গিয়েছে।
কুরবান খুনের আতঙ্ক এখনও টাটকা মাইশোরায়। সেখানে হঠাৎ দুটি গাড়িতে অপরিচিত জনা সাতেক যুবক এসে এলাকায় ঘোরাঘুরি করায় এবং নিজেদের নাম-ধাম বলতে রাজি না হওয়ায় রহস্য দানা বেঁধেছে। ঘটনার পর সুরক্ষার দাবি জানিয়ে জেলার পুলিশ সুপার, জেলাশাসক এবং পাঁশকুড়া থানার আইসিকে ই-মেল মারফৎ আবেদন জানিয়েছেন আফজল শা তিনি বলেন, ‘‘২মার্চ তমলুক আদালত চত্বরে আমার ভাইয়ের স্ত্রী তথা মাইশোরা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শাবানা খাতুনের ওপর হামলা হল। ভাইয়ের খুনের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমার ওপর লাগাতার চাপ আসছে। আমার আশঙ্কা ওই অপরিচিত যুবকরা আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই এসেছিল। সিসিটিভি ফুটেজে ওই যুবকদের আমি দেখেছি। ওদের চিনি না। পুলিশ সুপারকে আমার এবং আমার পরিবারের সুরক্ষার বিষয়টি সুনিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছি।’’