Advertisement
E-Paper

বালি-কাণ্ডে নিশানায় এক নেত্রী, ফাঁস অডিয়ো

চন্দ্রকোনা রোডেও তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে। তার জেরেই ওই অডিয়ো টেপ ফাঁস হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা 

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২১ ০৮:৪০
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

বালির বেআইনি কারবারে শাসক দলের নেতাদের জড়িয়ে থাকার অভিযোগ নতুন নয়। এ নিয়ে কানাঘুষো রয়েছে বহু দিন ধরেই। এ বার ফোনালাপের একটি অডিয়ো টেপ সমাজমাধ্যমে ফাঁস হয়েছে। আর তাতেই চরম অস্বস্তিতে শাসক দল।

জানা যাচ্ছে, ওই ফোনালাপ চন্দ্রকোনা রোডের তৃণমূলের দুই নেতা-কর্মীর মধ্যেকার। ওই অডিয়ো টেপের সত্যতা আনন্দবাজার যাচাই করেনি। তবে দলের এক সূত্রের দাবি, ফোনের একপ্রান্তে রয়েছেন চন্দ্রকোনা রোডের এক তৃণমূল নেতা।

এমভিআই সেজে এক অ্যাসোসিয়েশনের লোকেরা বালি গাড়ি ধরতে হানা দিচ্ছে বলেও ওই টেলিফোনিক কথোপকথনে দাবি করেছেন ওই তৃণমূল কর্মী। শাসক দলের দাবি, অডিয়ো টেপের বিষয়টি তাদের জানা নেই। তবে বেআইনি বালির কারবার বন্ধে তারা তৎপর। এই কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি দলের এক বুথ সভাপতিকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। তৃণমূলের গড়বেতা- ৩ ব্লকের (চন্দ্রকোনা রোড) সভাপতি রাজীব ঘোষ বলেন, ‘‘সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। দলের দুর্নাম হচ্ছে। আর কিছু অসাধু ব্যবসায়ী লাভবান হচ্ছে। এ সব চলতে দেওয়া যায় না। বেআইনি বালির কারবার বন্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।’’ তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতিরও দাবি, ‘‘দল কোনও অন্যায় কাজকে প্রশ্রয় দেয় না। দেবেও না।’’ বিজেপির রাজ্য সম্পাদক তুষার মুখোপাধ্যায়ের খোঁচা, ‘‘শাসক দলের প্রশ্রয়েই তো অবৈধ বালি কারবারের এই বাড়বাড়ন্ত।’’

অবৈধ বালির কারবার বন্ধে বারবারই কড়া হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেও যন্ত্র নামিয়ে বেআইনিভাবে বালি তুলে নেওয়া হচ্ছে নদীবক্ষ থেকে। নদীতে বহু কৃত্রিম খাদ তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি মেদিনীপুরে এক বৈঠকে জলসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী মানস ভুঁইয়াও মেনেছেন, ‘‘নদীগুলি থেকে অসাধু উপায়ে বালি তোলা হচ্ছে বলে খবর রয়েছে। কোনওভাবেই নদী থেকে বেআইনিভাবে বালি তোলা যাবে না।’’ বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে সরকারের অনেক রাজস্বের ক্ষতি হচ্ছে। দলের একাংশ নেতা-নেত্রীর সংস্পর্শে থাকা বেআইনি বালি ভর্তি লরি যে ভাবে অনায়াসে পার হয়ে যাচ্ছে, কোনও পুলিশি তল্লাশির মুখে না পড়েই, তাতে যে দলের নিচুতলায় ক্রমে ক্ষোভ জমছে, তা ভাইরাল হওয়া ওই অডিয়ো টেপের কথোপকথন থেকেই স্পষ্ট।

চন্দ্রকোনা রোডেও তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে। তার জেরেই ওই অডিয়ো টেপ ফাঁস হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ-প্রশাসনের দাবি, বালির অবৈধ কারবার বন্ধ করতে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy