×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৮ জানুয়ারি ২০২১ ই-পেপার

অবস্থান নিয়ে ধন্দে তৃণমূল নেতারা

কাছে না দূরে, দোলাচলের মধ্যে দ্বন্দ্বও 

নিজস্ব সংবাদদাতা
তমলুক ও কাঁথি২৯ নভেম্বর ২০২০ ০৪:৪৬
—ফাইল চিত্র

—ফাইল চিত্র

কোন পথে যাবেন বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী— সেই জল্পনার মধ্যেই কোন্দল! জেলায় তৃণমূলের সাংগঠনিক কাজকর্ম এবং ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্তিকরণ নিয়ে বিরোধী শিবিরের নেতাদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ নেতা তথা জেলা পরিষদের মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ আনন্দময় অধিকারী।

সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুরে তিনজনকে কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব দেন রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্ব। দুই বিধায়ক অখিল গিরি এবং অর্ধেন্দু মাইতির সঙ্গে সেই তালিকায় রয়েছেন আনন্দময় অধিকারীও। দলীয় সূত্রের খবর, হলদিয়া, মহিষাদল, নন্দকুমার, তমলুক, ময়না, পূর্ব ও পশ্চিম পাঁশকুড়া বিধানসভার দায়িত্ব দেওয়া হয় আনন্দময়কে। তাঁর অভিযোগ, সম্প্রতি আর এক কো-অর্ডিনেটর অখিল গোপনে তাঁর দায়িত্ব এলাকার দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করছেন। পাশাপাশি, ওই সব এলাকায় ভোটার তালিকায় নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্তিকরণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত কো-অর্ডিনেটর আনন্দময়কে দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আনন্দময় বলেন, ‘‘যেভাবে আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিধানসভাগুলিতে অন্য কো-অর্ডিনেটরেরা গোপনে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় রাখছেন, তা আক্ষরিক অর্থে দল বিরোধী কার্যকলাপ বলেই মনে হচ্ছে। এ ব্যাপারে রাজ্য নেতৃত্ব দ্রুত পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছি। অন্যথায় কয়েকদিনের মধ্যেই আমি আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনব।’’

Advertisement

উল্লেখ্য, শুভেন্দুর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ধন্দে রয়েছে সকলে। তাঁর দলবদলের জল্পনা শোনা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতার এ রকম অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়েই দেখা উচিত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও আনন্দময়ের অভিযোগ অখিল গিরি বলেন, ‘‘আমি এ নিয়ে কিছুই জানি না। উনি যদি এ ব্যাপারে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে কোনও অভিযোগ করে থাকেন, তবে রাজ্য নেতৃত্ব যা সিদ্ধান্ত নেবেন, তা মেনে চলবে।’’

অন্য দিকে শুভেন্দুর বর্তমান অবস্থান নিয়ে দোটানায় জেলায় তৃণমূলের বহু নেতা-কর্মী-অনুগামী। নন্দীগ্রাম- ১ পঞ্চায়েত সমিতির মৎস্য- প্রাণীসম্পদ কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেতা স্বদেশ দাসঅধিকারী বলেন, ‘‘জমি আন্দোলনের সময় থেকেই শুভেন্দুবাবুর সহযোগিতা পেয়েছি। তবে তিনি তৃণমূল ত্যাগ করলে তাঁর সঙ্গে থাকব কি না, সে নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় রয়েছি।’’ ময়না ব্লক তৃণমূলের সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি সুব্রত মালাকার বলেন, ‘‘শুভেন্দুবাবু মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেও দল ছাড়েননি। তাই উনি তৃণমূল ত্যাগ করলে কী করব, তা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’’

আবার শহিদ মাতঙ্গিনী পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেতা জয়দেব বর্মন বলছেন, ‘‘আমি শুভেন্দুবাবুর সঙ্গেই রয়েছি। ওঁর সঙ্গেই থাকব।’’ আবার শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নন্দীগ্রাম-১ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি মেঘনাদ পাল প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, শুভেন্দুবাবু যে দলে যাবেন, তিনিও সে দলে যাবেন। আবার শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ খেজুরির বিধায়ক রণজিৎ মণ্ডল এবং ময়নার বিধায়ক সংগ্রাম দোলাই এখনও তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছেন বলে প্রকাশ্যে জানিয়েছেন।

Advertisement