আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ বাড়ছিলই। তাকে আরও উস্কে দিল ঘাটাল শহরের এক করোনা আক্রান্তের মৃত্যু।
ওই যুবক মেদিনীপুরে করোনা হাসপাতালে (লেভেল-২) ভর্তি ছিলেন। সোমবার সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। ক’দিন আগে দাসপুরেও এক করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছিল। মঙ্গলবার দাসপুরে নতুন করে আরও তিনজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিমাইচন্দ্র মণ্ডল বলেন, “সোমবার মেদিনীপুরের করোনা হাসপাতালে ঘাটালের এক করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। ওই যুবকের করোনা রিপোর্ট পজ়িটিভ এসেছে। দাসপুরে নতুন করে তিন জন আক্রান্ত হয়েছে। তবে উদ্বেগের কিছু নেই।”
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, ঘাটাল শহরের বাসিন্দা বছর ঊনচল্লিশের ওই যুবক ২৬ মে মুম্বই থেকে ফিরে বাড়ি লাগোয়া একটি ঘরে আলাদা থাকছিলেন। ৪ জুন জ্বর, শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঘাটাল হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই রাতেই তাঁকে মেদিনীপুর করোনা হাসপাতালে (লেভেল-২) স্থানান্তরিত করা হয়। ৫ জুন তাঁর লালারস নেওয়া হয়েছিল। ৬ জুন করোনা রিপোর্ট পজ়িটিভ আসে। ৮ জুন, সোমবার ওই হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার দাসপুরে নতুন করে যে তিন জন আক্রান্ত হয়েছেন তাঁরা পরিযায়ী শ্রমিক। ২১ মে মহারাষ্ট্র থেকে বাসে করে বাড়ি ফিরে সরকারি নিভৃতবাস কেন্দ্রে ছিলেন। দাসপুর গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে তাঁদের লালারস নেওয়া হয়। মঙ্গলবার রিপোর্ট পজ়িটিভ আসে। তবে কারও কোনও উপসর্গ নেই।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘাটাল মহকুমায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ ছুঁয়েছে। এদের মধ্যে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা এখন ৫৮। তাঁরা বিভিন্ন হাসপাতাল কিংবা সরকারি নিভৃতবাস কেন্দ্রে রয়েছেন। কিন্তু সংক্রমণের সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও ঘাটাল মহকুমা জুড়েই এখন স্বাস্থ্যবিধি শিকেয় উঠেছে। মাস্ক না পরেই ঘুরছেন অনেকে। মানা হচ্ছে না সামাজিক দুরত্বও। এখন ঘাটালে ২৭টি, দাসপুরে ৩৭টি ও চন্দ্রকোনায় ৪টি কন্টেনমেন্ট জ়োন রয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই সবকটি কন্টেনমেন্ট জ়োনে কড়া পুলিশি নজরদারি শুরু হয়েছে। অকারণে বাইরে ঘোরাঘুরি বন্ধ করা হয়েছে। বাফার জ়োনগুলিতেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে দাসপুর, সাগরপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় আনাজ বাজারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “ঘাটাল-দাসপুরের কন্টেনমেন্ট জ়োনগুলিতে বাড়তি নজরদারি চলছে। মাস্ক না পরলেই ধরা হবে।”