Advertisement
১৬ জুন ২০২৪
চিন্তায় পুলিশ-প্রশাসন

কাল থেকে আদিবাসীদের টানা অবরোধ

সিদ্ধান্তে অনড় ‘ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল’। কাল, সোমবার থেকে রেল ও জাতীয় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি রয়েছে এই আদিবাসী সংগঠনের। আদিবসী সমন্বয় মঞ্চও এই কর্মসূচি সমর্থন করছে বলে শনিবার জানিয়েছেন তাদের নেতা বাবলু মুর্মু।  ফলে, চিন্তায় রয়েছে প্রশাসন। 

নিজস্ব সংবাদদাতা
ঝাড়গ্রাম শেষ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৭:৩০
Share: Save:

সিদ্ধান্তে অনড় ‘ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল’। কাল, সোমবার থেকে রেল ও জাতীয় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি রয়েছে এই আদিবাসী সংগঠনের। আদিবসী সমন্বয় মঞ্চও এই কর্মসূচি সমর্থন করছে বলে শনিবার জানিয়েছেন তাদের নেতা বাবলু মুর্মু। ফলে, চিন্তায় রয়েছে প্রশাসন।

আদিবাসীদের শিক্ষা সংক্রান্ত ও সামাজিক নানা দাবিতে সংগঠনের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির উদ্যোগে সোমবার থেকে বিভিন্ন জায়গায় অনির্দিষ্টকালের জন্য রেল ও সড়ক অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে। সংগঠন সূত্রে খবর, মূল কর্মসূচিটি হবে ঝাড়গ্রাম জেলার সীমানা লাগোয়া পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর গ্রামীণ এলাকায়। সেখানে টাটা-খড়্গপুর শাখার রেল লাইন অবরোধ করা হবে। খেমাশুলি স্টেশনের পাশে ৬ নম্বর জাতীয় সড়কও অবরোধ করা হবে। পাশাপাশি দুই জেলার বিভিন্ন এলাকায় তির-ধনুক-টাঙি-র মতো চিরাচরিত অস্ত্র নিয়ে অবরোধে শামিল হবেন আদিবাসীরা।

রেল সূত্রের খবর, ঝাড়গ্রাম, বালিচক, নেকুড়সিনি, খেমাশুলি ও শালবনি স্টেশনে আদিবাসীরা অবরোধ করবেন। তার জেরে টাটা-খড়্গপুর, হাওড়া-খড়্গপুর, খড়্গপুর-জলেশ্বর, মেদিনীপুর-বাঁকুড়া শাখায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন রেল কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সঞ্জয় ঘোষ বলেন, “রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সোমবার রেল চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য রাজ্য সরকারের সাহায্য চাওয়া হবে।’’ ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশের এক কর্তার আশ্বাস, “পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।’’

গত বছর ৩০ জুন খেমাশুলি-সহ বিভিন্ন জায়গায় রেল ও সড়ক অবরোধ করে আদিবাসী সংগঠনটি। এ বার আরও বড় আকারে কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন আদিবাসীরা। কোনও ভাবে যাতে আদিবাসীদের আন্দোলন ঘিরে অশান্তি না ছড়ায় সে জন্য সংযত ভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নবান্ন থেকে দুই জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের আরও দাবি, আদিবাসী সংগঠনের নেতাদের আলোচনায় ডাকা হলেও তাঁরা আসছেন না। তবে সংগঠনের অন্যতম নেতা যজ্ঞেশ্বর হেমব্রম বলেন, “আমাদের নেতৃত্ব দাবিগুলি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। কিন্তু চার মাস পরেও সাঁওতালি মাধ্যমে শিক্ষার পরিকাঠামোর উন্নতি হয়নি। একাদশ শ্রেণিতে সাঁওতাল মাধ্যমের পড়ুয়ারা পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে পারছে না।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, আন্দোলন দমনের চেষ্টা হচ্ছে।

আদিবাসী নেতৃত্বের যাঁরা সরকারি চাকরি করেন, তাঁদের দূরে বদলি করে দেওয়া হচ্ছে। তাই দাবি আদায়ে এ বার আদিবাসীরাও দ্বিতীয় হুলের ডাক দিয়েছেন।’’

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:
Advertisement

Share this article

CLOSE