পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। শনিবার রাত প্রায় সাড়ে ৮টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে। বিজেপি নেতার দাবি, বাঁশ, লাঠি নিয়ে তাঁর গাড়ির উপর চড়়াও হয়েছেন একদল তৃণমূল কর্মী ও সমর্থক। এ সব প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে চললেও পুলিশ এগিয়ে আসেনি বলে দাবি। প্রতিবাদে চন্দ্রকোনা রোড পুলিশ ফাঁড়িতে ঢুকে অবস্থানে বসেছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, যত ক্ষণ না অপরাধীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, তত ক্ষণ সেখানেই বসে থাকবেন তিনি।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় পুরুলিয়া থেকে জনসভা সেরে ফিরছিলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। শুভেন্দুকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য আগে থেকেই দাঁড়িয়ে ছিলেন বিজেপি কর্মীরা। পথে গড়বেতা থানার অন্তর্গত চন্দ্রকোনা রোড বাজারের কাছে হঠাৎ বিপত্তি বাধে। ঘড়িতে তখন রাত প্রায় সাড়ে ৮টা। অভিযোগ, বিজেপি নেতার কনভয় চৌরাস্তা পার হতে না হতেই তাঁদের পথ আটকে দাঁড়ান তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। লাঠি, বাঁশ দিয়ে শুভেন্দুর গাড়ির উপর আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। দু’পক্ষে স্লোগান-পাল্টা স্লোগান চলতে থাকে। কিন্তু প্রকাশ্য রাস্তায় বেশ কিছু ক্ষণ ধরে ঝামেলা চললেও পুলিশের দেখা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন:
এর পরেই চন্দ্রকোনা পুলিশ ফাঁড়িতে ঢুকে পড়েন শুভেন্দু। সটান মেঝেতে বসে পড়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, যত ক্ষণ না অপরাধীদের গ্রেফতার করা হবে, তত ক্ষণ অবস্থান চালিয়ে যাবেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, ‘‘যত ক্ষণ না আপনারা দোষীদের গ্রেফতার করছেন, তত ক্ষণ বসে থাকব। এখান থেকে উঠব না। এসপি-কে জানান। পদাধিকারীকে জানান যে আমরা বসে আছি।’’ আপাতত মেঝেতে বসেই আইনজীবীকে ডেকে অভিযোগপত্র লেখানোর কাজ চলছে। তবে অভিযোগপত্র লেখানো নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। খবর পেয়ে চন্দ্রকোনা রোডের দিকে রওনা হয়েছে পুলিশ। আদতে কী ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।
প্রায় দুই ঘণ্টা হতে চলল এখনও পুলিশ ফাঁড়িতে বসে রয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারি। তিনি জানান, খড়গপুরে আমাকে সাত জায়গায়, ডেবরায় তিন জায়গায় আটকানোর পরিকল্পনা ছিল শাসকদলের, আটকাতে পারেনি। তিনি আরও জানান অভিযোগপত্র দেওয়ার পর এফআইর নম্বর না নিয়ে তিনিন থানা থেকে বেরোবেন না। খুনের চেষ্টায় অভিযোগ সহ আরও কী কী ধারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হচ্ছে তা না জেনে তিনি স্বাক্ষর করবেন না।
তিনি শাসকদল কে আক্রমণ করে জানান এই প্রথম তিনি জানতে পারলেন যে নির্বাচিত বিধায়কেরা সুরক্ষিত নয়। নেতাই করে সিপিএম গিয়েছিল আজ চন্দ্রকোনা করে তৃণমূল যাবে বলে তোপ বিরোধী দলনেতার।