পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজের জন্য ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশা থেকে ১০০ জন করে বিচারক চেয়ে পাঠাল কলকাতা হাই কোর্ট। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী রাজ্য থেকে বিচারক চাওয়া যেতে পারে। তার পরেই পদক্ষেপ করা হয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার বিচারকের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে ওই দুই রাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কলকাতা হাই কোর্ট।
এসআইআর-এর কাজে রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। তার পরেই তথ্যগত অসঙ্গতির বিচারে কলকাতা হাই কোর্টের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে জানায় শীর্ষ আদালত। বলা হয়, কলকাতা হাই কোর্ট বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের এই কাজে নিয়োগ করবে। তারা তথ্যগত অসঙ্গতির বিষয়গুলির নিষ্পত্তি করবেন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছিল, বুধবার পর্যন্ত ৫৩২ জন বিচারককে এই কাজে নিয়োগ করা হয়েছে। কাজ শুরু করে দিয়েছেন ২৭৩ জন। তবে গোটা রাজ্যে বিপুল পরিমাণ কাজ বাকি। তাতে আরও আধিকারিক প্রয়োজন। পরিস্থিতি বিবেচনা করে শীর্ষ আদালত জানায়, প্রয়োজনে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদেরও নিয়োগ করতে পারবে হাই কোর্ট। ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে বিচারকদের আনা যাবে।
আরও পড়ুন:
আদালত সূত্রে খবর, আপাতত দুই রাজ্য থেকেই ১০০ জন করে বিচারক চাওয়া হয়েছে। কত জনকে এই কাজের জন্য দেওয়া যাবে, তা বিবেচনা করে জানানো হবে। আপাতত দুই রাজ্যের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে আদালত। পরে পরিস্থিতি বুঝে আরও আধিকারিক চাওয়া হতে পারে। এ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল বৃহস্পতিবারই কমিশন এবং রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গত শনিবার থেকে একাধিক বার বৈঠক হয়েছে। বৃহস্পতিবার আলোচনা চলে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে। ছিলেন, রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল, রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার এবং স্পেশাল রোল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত।
সূত্রের খবর, ২১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে তথ্যগত অসঙ্গতি নিয়ে যে সংখ্যা দেওয়া হয়েছিল, সেটাই চূড়ান্ত বলে ধরা হবে বলে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে আসল সংখ্যা বৃহস্পতিবার বলে দেওয়া হবে। এ ছাড়াও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের বাকি বিচার বিভাগীয় (জুডিশিয়াল) অফিসারদের লগ ইন আইডি তৈরি করে দেওয়া হবে। ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশা থেকে যে সমস্ত জুডিশিয়াল অফিসার আসছেন, তাঁদের কোথায় রাখা হবে, তাঁদের খাবারের কী ব্যবস্থা হবে— সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কমিশনকে ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তত দিনে যতটা কাজ হবে, তার ভিত্তিতেই তালিকা দিতে হবে। তার পর ধাপে ধাপে আরও তালিকা প্রকাশ করতে পারবে কমিশন। ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যে সমস্ত নথি পাওয়া গিয়েছে কিন্তু এখনও নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে আপলোড করা হয়নি, সেগুলি বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যেই এসআইআরের কাজে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের হাতে তুলে দিতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
ঠিক হয়েছে, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের প্রতি দিনের কাজের রিপোর্ট কমিশন হাই কোর্টে জমা দেবে।