পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) জটিলতা কাটাতে বৃহস্পতিবার আবার বৈঠকে বসেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। এই বৈঠকে ছিলেন, মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল, রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার এবং স্পেশাল রোল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত। প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক হয়।
সূত্রের খবর, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি (তথ্যগত অসঙ্গতি) নিয়ে যে সংখ্যা দেওয়া হয়েছিল, সেটাই চূড়ান্ত। কমিশনের পক্ষ থেকে আসল সংখ্যা বৃহস্পতিবার বলে দেওয়া হবে। এ ছাড়াও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের বাকি বিচার বিভাগীয় (জুডিশিয়াল) অফিসারদের লগ ইন আইডি তৈরি করে দেওয়া হবে বলেও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশা থেকে যে সমস্ত জুডিশিয়াল অফিসার আসছেন, তাঁদের কোথায় রাখা হবে, তাঁদের খাবারের কী ব্যবস্থা হবে— সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এ ছাড়া আরও বলা হয়েছে, ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যে সমস্ত নথি জমা পড়েছে, কিন্তু আপলোড হয়নি— সেগুলিকে বৃহস্পতি এবং শুক্রবারের মধ্যে কমিশন আপলোড করবে। সূত্রের খবর বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, বিধানসভা ভিত্তিক বিচার বিভাগীয় (জুডিশিয়াল) অফিসারদের কাজের রিপোর্ট প্রতিদিন কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে কলকাতা হাইকোর্টকে।
ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশা থেকে বিচার বিভাগীয় (জুডিশিয়াল) অফিসার কবে আসবেন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কারণ, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এখনও পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতিকে এ বিষয়ে কিছু জানাননি বলে সূত্রের খবর।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) শেষ পর্যায়ের কাজের একটা বড় অংশের ভার বিচার বিভাগের উপর দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। গত শুক্রবারের শুনানিতে দেশের শীর্ষ আদালত জানায়, এসআইআরের কাজে তথ্যগত অসঙ্গতির যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলির নিষ্পত্তি করবেন কলকাতা হাই কোর্ট নিযুক্ত আধিকারিকেরা!
তার পরই শনিবার বিকেলে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বে বৈঠক হয়। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে কমিশনের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়, প্রতি বিধানসভার জন্য এক জন করে বিচার বিভাগীয় (জুডিশিয়াল) অফিসার নিয়োগের জন্য। কমিশন বৈঠকে আরও জানিয়েছে, বিধানসভা, জেলাভিত্তিক তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের দেবে তারা। সোমবার থেকে আবার নথি যাচাই এবং নিষ্পত্তির কাজ শুরু করার কথা বলা হয়। ইতিমধ্যেই তা শুরু হয়েছে।