E-Paper

উঠছে না মাছ, বিকল্প পেশায় মৎস্যজীবীরা

পূর্ব মেদিনীপুরে দিঘা মোহনা ছাড়াও শঙ্করপুর, পেটুয়াঘাট মৎস্য বন্দর এবং নন্দীগ্রাম থেকে সব মিলিয়ে এ বছর ২,১০০ টি ট্রলার লাইসেন্স নবীকরণ করেছিল।

কেশব মান্না

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৩৯
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

সে ভাবে দেখা মেলেনি সমুদ্রের ইলিশের। তার সঙ্গে অন্য মাছেরও আকাল চলছে বলে অভিযোগ। সঙ্গে জুড়েছে ডিজেল সহ অন্য খরচ। আর্থিক ক্ষতির কারণে মরশুম শেষ হওয়ার প্রায় দু’ মাস আগে থেকেই মাছ ধরতে যাচ্ছে না অধিকাংশ ট্রলার। বিকল্প পেশার খোঁজে মৎস্যজীবীরা।

আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময়। ১৫ এপ্রিল থেকে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি হবে বা ' ব্যান পিরিয়ড' শুরু হবে। কিন্তু , ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই এ বছর শ’য়ে শ’য়ে ট্রলার মাছ ধরতে যাচ্ছে না। নথিভুক্ত ৯০ শতাংশ ট্রলার ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে জেলার বিভিন্ন মৎস্য বন্দরে! সুকুমার জানা নামে এক ট্রলার মালিক বলছেন, ‘‘একবার মাছ ধরতে গেলে মৎসজীবীদের পারিশ্রমিক, ডিজেল, বরফ সব মিলিয়ে ৩ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। প্রতি বছর ১০-১৫ হাজার টাকা খরচ বেড়েছে। কিন্তু মাছের দেখা নেই।’’ ট্রলার মালিক মৃণাল কান্তি বর্মন বলেন," ইলিশ ধরা পড়ছে না। অন্য মাছও কম উঠছে। বাধ্য হয়ে কিছু ট্রলার বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’’

পূর্ব মেদিনীপুরে দিঘা মোহনা ছাড়াও শঙ্করপুর, পেটুয়াঘাট মৎস্য বন্দর এবং নন্দীগ্রাম থেকে সব মিলিয়ে এ বছর ২,১০০ টি ট্রলার লাইসেন্স নবীকরণ করেছিল। ওই সব ট্রলারে মাছ ধরতে যান দুই লক্ষেরও বেশি মৎস্যজীবী। ‘দিঘা মোহনা ফিসারমেন অ্যান্ড ফিস ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন’ সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাসে তৃতীয় সপ্তাহে মাত্র ১০% ট্রলার মাছ ধরতে গিয়েছে। দৈনিক ১০০-১৫০ মেট্রিক টন মাছ আমদানি হচ্ছে। সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন অনেক মৎস্যজীবী। তাঁরা মূলত কাঁথি মহকুমার বাসিন্দা।

কাঁথি-৩ ব্লকের পঞ্চানন দোলুই নামে মৎস্যজীবীর কথায়, ‘‘দশ মাস উপার্জন করে ১২ মাস সংসার চালাতে হয়। সংসার চালাতে কেরলে রাজমিস্ত্রির কাজে চলে যাব বলে ঠিক করেছি।’’ একই রকম ভাবে গ্রামে গিয়ে অন্যের মাছের ভেড়িতে কাজ করছেন সিজুয়ার বাসিন্দা উত্তম বর্মন। পূর্ব মেদিনীপুর মৎস্যজীবী ফোরামের জেলা সম্পাদক দেবাশিস শ্যামল বলেন, ‘‘এখনই সামুদ্রিক মাছের সুষ্ঠু প্রজনন প্রয়োজন। তার জন্য ব্যান পিরিয়ড আরও দু'মাস বাড়ানো দরকার। ১২০ দিন মাছধরা নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে কেন্দ্রকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।"

এ বিষয়ে সহ মৎস্য অধিকর্তা (সামুদ্রিক) সুমন সাহা বলেন, "কত ট্রলার নিয়মিত মাছ ধরতে যাচ্ছে, বলা মুশকিল।’’ কিন্তু জালে মাছ কম ওঠায় বাজারে সামুদ্রিক মাছের আমদানি নেই বললেই চলে। কাঁথি শহরের সুপার মার্কেটে অন্ততপক্ষে ৩০-৪০ জন সামুদ্রিক মাছ বিক্রি করেন। বুধবার তাঁরা এক জনও সামুদ্রিক মাছ বিক্রি করতে যাননি। মৎস্যজীবীদের সংগঠনের সভাপতি প্রণব কুমার কর বলেন, ‘‘দোল পূর্ণিমার আগে প্রায় ৭০ শতাংশ ট্রলার মাছ ধরতে যায় না। কিছু কিছু ট্রলার এই সময় আর্থিক ক্ষতি করেও মাছ ধরতে যায়।’’

তৃণমূলের কর্মসূচি

পাঁশকুড়া: তৃণমূলের উন্নয়নের পাঁচালি কর্মসূচি হল মাইশোরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার। তেঘরি বুথে ওই কর্মসূচিতে ছিলেন এলাকার শতাধিক তৃণমূল কর্মী। ছিলেন তমলুক সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের সভাপতি সুজিত কুমার রায়, ব্লক সভাপতি মনোরঞ্জন মালেক-সহ অন্যরা।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

digha Fishermen

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy