পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা পরিষদের সভাধিপতির পদ ছাড়লেন উত্তম বারিক। জানা গিয়েছে, ব্যক্তিগত কারণ দর্শিয়ে মেদিনীপুরের ডিভিশনাল কমিশনারের অফিসে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনে চণ্ডীপুর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যাওয়া উত্তম জানান, রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর ওই পদে থেকে যাওয়ার কোনও অর্থ নেই। এর ফলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় জেলা পরিষদও তৃণমূলের হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা।
বস্তুত, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর উত্তমকে প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যায়নি। জেলা পরিষদের কাজকর্মেও তিনি অংশ নেননি বলে খবর। ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় পঞ্চায়েত স্তরে একাধিক পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দায়িত্ব ছাড়ছেন। নবতম সংযোজন জেলা পরিষদের সভাধিপতির পদত্যাগ। উত্তম বলেন, ‘‘গত বিধানসভা ভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছেন, সেটা মাথা পেতে নিয়েছি। জনগণ চাইছেন না, তাই পদত্যাগ করছি।’’ উত্তমের দাবি, তিনি ভোটের ফলের পর থেকেই মানসিক ভাবে প্রস্তুত ছিলেন পদত্যাগ করবার জন্য। তাঁর ব্যাখ্যা, যে হেতু রাজ্যের ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেছে, সে ক্ষেত্রে জেলার সভাধিপতি থেকে কাজ করতে অসুবিধে হবে তৃণমূলের।
মেদিনীপুরের ডিভিশনাল কমিশনারের অফিস গিয়ে পদত্যাগ উত্তম বারিকের। —নিজস্ব চিত্র।
কাঁথি-২ সরদা অঞ্চলের বোটসাউড়ি গ্রামের জন্ম উত্তমের। বরাবর ডানপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত উত্তম প্রথমে ছিলেন কংগ্রেসে। ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের জমানাতেও দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটের ঠিক আগে ৫৯ দিন জেলবন্দি থাকতে হয় তাঁকে। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সে বছরই কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। প্রায় ১০ বছর পর সেই উত্তমকেই জেলা পরিষদের সভাধিপতি করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে কাঁথি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন উত্তম। লোকসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বে কাঁথির তৃণমূল প্রার্থী তথা জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তমের সঙ্গে তৎকালীন মন্ত্রী অখিল গিরির সংঘাত বারংবার প্রকাশ্যে আসে। যা নিয়ে খোঁচা দেন তৎকালীন বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের ফলপ্রকাশের পর রাখঢাক না করে নিজের হারের জন্য পক্ষান্তরে অখিলকেই দায়ী করেন উত্তম। বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর পূর্ব মেদিনীপুরের একের পর এক তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হচ্ছেন। পদত্যাগ করেছেন অনেকে। এই প্রেক্ষিতে সরে দাঁড়ালেন উত্তমও।