বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার হিড়িক শুরু হয়েছে ঘাটালে। গত কয়েকদিনে ঘাটাল ব্লকের শতাধিক বিজেপি কর্মী ও সমর্থক বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলের পতাকা নিয়েছেন। দলত্যাগীদের মধ্যে বিজেপির স্থানীয় স্তরের একাধিক নেতৃত্বও রয়েছেন বলে তৃণমূলের দাবি।
সামান্য ব্যবধানে ঘাটাল বিধানসভা এ বার হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। ৯৬০ ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপির শীতল কপাট। এ বার বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পরই নড়বড়ে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল ঘাটাল ব্লক তৃণমূলে। দলীয় প্রার্থীর হারের জন্য নেতৃত্বকে দায়ী করে সরব হয়েছিলেন কর্মীদের একাংশ। এই পরিস্থিতিতে দলকে ফের চাঙ্গা করতে উঠেপড়ে লেগেছে ঘাটাল তৃণমূল। পুরভোটকে সামনে রেখে ঘাটাল শহর তৃণমূলও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কর্মসূচি শুরু করে দিয়েছে। গত তিন, চারদিন ঘাটাল ব্লকের বীরসিংহ গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্যামসুন্দরপুর ও মারিচ্যা এবং সুলতানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কোমরা, বালিডাঙায় পরপর তৃণমূলের যোগদান কর্মসূচি ছিল। শ্যামসুন্দরপুরে বিজেপির একাধিক নেতৃত্ব-সহ শতাধিক বিজেপি কর্মী তৃণমূলে যোগ দেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ঘাটালের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতা শঙ্কর দোলই, ব্লক সভাপতি দিলীপ মাঝি, মন্টু বাইরি সহ অন্য ব্লক নেতৃত্বেরা।
বিধানসভা ভোটে শ্যামসুন্দরপুরে বিজেপি ভাল ‘লিড’ পেয়েছিল। সংগঠনও ছিল মজবুত। বীরসিংহ গ্রাম পঞ্চায়েতের আরেক শক্তঘাঁটি মারিচ্যাতেও বিজেপির বহু কর্মী তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। লোকসভা ভোটের পর থেকেই মারিচ্যায় এলাকায় বিজেপির প্রভাব বাড়তে শুরু করেছিল। বুধবার ঘাটালের সুলতানপুর পঞ্চায়েত এলাকার কোমরা, বালিডাঙাতেও বিজেপির স্থানীয় বুথ কমিটির একাধিক নেতৃত্ব সহ শতাধিক বিজেপি কর্মী তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন বলে শাসক দলের দাবি। সুলতানপুর এলাকাটিও লোকসভা ভোটের পর থেকে তৃণমূলের কার্যত হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল।
ঘাটালের প্রাক্তন বিধায়ক শঙ্কর দোলই বলেন, “ঘাটাল ব্লকে যে দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপি ভাল ভোট পেয়েছে, সেই দু’টি এলাকা থেকে পুরনো দল ছেড়ে তৃণমূলে ফিরছেন বিজেপির কর্মী, সমর্থকেরা। বিজেপির অনেক নেতৃত্বও এসেছেন। অনেকেই তৃণমূলে ফেরার জন্য যোগাযোগ করছেন।” ঘাটাল শহর তৃণমূল সভাপতি অরুণ মণ্ডল বলেন, “ঘাটাল শহরেও বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিক্ষিপ্ত ভাবে বহু বিজেপি কর্মী তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। আরও অনেকে আসতে চাইছেন।”
ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট অবশ্য বলেন, “ঘাটালে স্বেচ্ছায় কোনও বিজেপি কর্মী দল ছাড়েননি। ভয় দেখিয়ে কিছু কর্মী সমর্থককে জোর করে তৃণমূলে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে। কোনও নেতৃত্ব দল ছাড়েননি। ঘাটালে বিজেপির সংগঠন আগে যেমন ছিল, এখনও তেমনই আছে।”