E-Paper

নিয়মের গেরো, এজেন্ট নিয়োগে সজাগ যুযুধান

২৩ এপ্রিল পূর্ব মেদিনীপুরে ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রথম দফায় ভোট মিটে গিয়েছে। তারপর জেলাতে গণনার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১০:২৮
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ভোট গণনার প্রস্তুতি হিসাবে এক দিন আগেই প্রশাসনের সঙ্গে হয়েছে সর্বদল বৈঠক। বৈঠকে সামনে এসেছে, সরকারি চাকুরিরত (স্থায়ী এবং আংশিক) কেউই ফলাফল ঘোষণার দিন কোনও প্রার্থীর ‘কাউন্টিং এজেন্ট’ হিসাবে থাকতে পারবেন না বলে নির্দেশ রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। এতেই খানিকটা বিপাকে রাজনৈতিক দলগুল। উপযুক্ত ‘কাউন্টিং এজেন্ট’ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তৃণমূল এবং বিজেপির মতো দলগুলি সন্তর্পনে পদক্ষেপ করছে।

২৩ এপ্রিল পূর্ব মেদিনীপুরে ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রথম দফায় ভোট মিটে গিয়েছে। তারপর জেলাতে গণনার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। নিয়ম করে স্ট্রং-রুম পরিদর্শন করা এবং গণনার দিনের প্রস্তুতি নিয়ে সর্বদল বৈঠক হয়েছে। এ বার জেলায় মোট ১৩৩ জন প্রার্থী রয়েছেন। এই সব প্রার্থীদের কাউন্টিং এজেন্টদের তালিকা আগামী ৩ মে পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার রিটার্নিং অফিসারদের কাছে জমা দিতে হবে। তবে এ বার, সাংসদ, বিধায়ক, জেলা পরিষদের সভাধিপতির মতো কেউই কাউন্টিং এজেন্ট থাকতে পারবেন না। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, প্যারা মেডিকেল এবং স্বাস্থ্য দফতর কর্মীদেরও এই কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। পরিচয় গোপন করে এঁদের কেউ এজেন্ট হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এজেন্টদের তিন মাসের জেল এবং আর্থিক জরিমানাওহতে পারে।

এর আগে ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনেও কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে এ রকম নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। তবে সে বার এই নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছিল বলেও নানা জায়গায় অভিযোগ মিলেছিল। তাই এ বার কঠোর ভাবে এই বিধি মেনে চলা হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর। তাই কাউন্টিং এজেন্টদের নাম চূড়ান্ত করার আগে অত্যন্ত সাবধানে পা ফেলছে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি।

রামনগরের বিজেপি প্রার্থী তথা দলের জেলা (কাঁথি) সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রশেখর মণ্ডল বলেন, ‘‘২৫-৩০ জন করে কাউন্টিং এজেন্ট দরকার এক-একটি বিধানসভা এলাকায়। যেহেতু আমাদের ফলাফল ভাল হবে বলে অনুমান, তাই অনেকেই কাউন্টিং এজেন্ট হতে চাইছেন। তবে আমরা কমিশনের সমস্ত নির্দেশ মেনে তালিকা চূড়ান্ত করব।’’ একই প্রতিক্রিয়া চণ্ডীপুরের তৃণমূলের প্রার্থী তথা জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিকের। তিনি বলছেন, ‘‘ভোটের দিনে আমরা দেখেছি কমিশন এক পক্ষ নিয়ে কাজ করছে। তাই গণনার দিন নিয়মের গেরো দেখিয়ে আমাদের নানাভাবে হয়রানির চক্রান্ত করবে বিজেপি। আমরা তাই কমিশনের নির্দেশ একদম ঠিকঠাক ভাবে এজেন্টের তালিকা তৈরি করছি।’’

প্রশাসন সূত্রের খবর, সমস্ত প্রার্থীকেই এজেন্ট তালিকা আগাম জমা দেওয়ার জন্য জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে বলা হয়েছে। জেলার এক নির্বাচনী আধিকারিক বলছেন, ‘‘প্রতি বিধানসভায় এলাকায় যত ইভিএমে ভোট হয়েছে, সেই সংখ্যাকে ১৪ দিয়ে ভাগ করলে যা ভাগফল মিলবে, সেই সংখ্যক রাউন্ড গণনা হবে। তবে বিধানসভা ভিত্তিক পাঁচ থেকে ছয় রাউন্ড গণনা হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Contai TMC BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy