ফের উত্সবমুখর শহর মেদিনীপুর। দুর্গা, লক্ষ্মী, কালীর পরে এ বার জগদ্ধাত্রী পুজো। চন্দননগরের আলো, প্রতিমার নজরকাড়া সাজ— হাজির সবই।
এখন মেদিনীপুরে প্রচুর বারোয়ারি জগদ্ধাত্রী পুজো হয়। বৃহস্পতিবার থেকে শহরে শুরু হয়ে গিয়েছে পুজোর উদ্বোধন। শুক্রবারও অনেক পুজোর উদ্বোধন হয়। তবে বেশিরভাগ পুজোর উদ্বোধন হবে আজ, শনিবার। দর্শকদের নজর কাড়তে সকলেই পুজোর আয়োজনে নতুন কিছু তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। কোথাও থিমের মণ্ডপ, কোথাও আলোর রোশনাইয়ে দর্শকের মন জয়ের তোড়জোড়।
মেদিনীপুরের পঞ্চুরচকে অগ্নিকন্যা ক্লাবের পুজোর উদ্বোধন হয়েছে শুক্রবার সন্ধ্যায়। এখানে মণ্ডপ হয়েছে চেন্নাইয়ের এক রাজবাড়ির আদলে। শুক্রবার দিনভর পুজোর শেষ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন ক্লাবের সকলে। পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী, বুদ্ধ মণ্ডলরা বলছিলেন, ‘‘কালীপুজোর সময় বৃষ্টি হয়েছিল। পরেও দিন কয়েক বৃষ্টি হয়। তবে এখন আর বৃষ্টি হয়নি। এটাই রক্ষা! বৃষ্টি হলে পুজোর প্রস্তুতি ব্যাহত হত।’’ প্রসেনজিৎ বলছিলেন, “এই পুজো শুধু এই এলাকার বা আমাদের ক্লাবের নয়, পুরো শহরবাসীর। অনেকে পুজো দেখতে আসেন। সকলের ভাল লাগলে সেটাই প্রাপ্তি।’’ পঞ্চুরচক নানা রঙের আলোয় ভাসছে। দুর্গাপুজোর পরে জগদ্ধাত্রী পুজো ঘিরে বিভিন্ন পাড়ায় মানুষ একাত্ম হন। সর্বজনীন পুজো ঘিরে পাড়ায় পাড়ায় নানা আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা হয়। এই সব প্রতিযোগিতায় এলাকার ছোট-বড় সকলেই সামিল হন।
পুজো ঘিরে সাজো সাজো রব বক্সীবাজারে। ১৯ নম্বর ওয়ার্ড সর্বজনীন জগদ্ধাত্রী পুজোর আয়োজন হয়েছে এখানে। পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা, এলাকার প্রাক্তন কাউন্সিলর বিশ্বনাথ পাণ্ডবের কথায়, “পুজো আমাদের সকলের। সীমিত ক্ষমতার মধ্যে থেকেও যতটা সম্ভব আমরা ততটা করার চেষ্টা করি। এলাকার সকলে সহযোগিতা করেন। পুজোর কয়েক দিন খুব আনন্দ হয়।’’ শুক্রবার সন্ধ্যায় এই পুজোর উদ্বোধন হয়েছে।
এ দিন সন্ধ্যায় মির্জাবাজারের স্টার অ্যাথলেটিক ক্লাবের জগদ্ধাত্রী পুজোরও উদ্বোধন হয়েছে। মেদিনীপুরের ক্ষুদিরামনগরের আবির্ভাব ক্লাবের জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধন হয়েছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। ছিলেন মেদিনীপুরের বিধায়ক মৃগেন মাইতি। পুজো উপলক্ষে রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। এদিন থেকেই আলোর সাজে সেজে উঠতে শুরু করেছে শহর। মীরবাজার থেকে কর্নেলগোলা, অলিগঞ্জ থেকে পাহাড়িপুর-সর্বত্রই আলোর ঝলক। অলিগঞ্জ সর্বজনীন জগদ্ধাত্রী পুজো ঘিরেও নানা আয়োজন রয়েছে। এই পুজো ঘিরেও পাড়ার সকলে এক জায়গায় মিলিত হন। আনন্দ করেন। কর্নেলগোলার নবীন-প্রবীণ সম্প্রদায়ের পুজোও বেশ জাঁকজমক করে হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, শহর মেদিনীপুর ফের উত্সবে মাতোয়ারা।