×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৯ জুলাই ২০২১ ই-পেপার

জটিল অস্ত্রোপচারে সাফল্য মেডিক্যালে

সুমন ঘোষ
মেদিনীপুর ২৪ জুন ২০১৫ ০১:৫৫

জটিল অস্ত্রোপচারে সাফল্য পেল মেদিনীপুর মেডিক্যাল। ১৭ জুন বছর তেইশের এক যুবতীর ইউটেরো ভ্যজাইনাল অ্যানাসটোমোসিস করেন সব্যসাচী রায়ের নেতৃত্ব তিন চিকিৎসক। সাফল্যও পেয়েছেন, আর তাতেই খুশি তাঁরা।

অন্যদিকে যুবতীর পরিবারেও স্বস্তি। পশ্চিম মেদিনীপুরের গোদাপিয়াশাল এলাকার ওই যুবতী বয়ঃসন্ধির পরও ঋতুমতী হননি। দিনের পর দিন অপেক্ষা করেছিলেন আদিবাসী হতদরিদ্র পরিবারের মেয়েটির মা। শিক্ষার আলো সে ভাবে না থাকলেও মেয়ের চিকিৎসার চেষ্টা করেছিলেন তাঁরা। ওষুধের খরচ যোগাতে বেচতে হয়েছে ছাগলও। কিন্তু তবু সমস্যা মেটেনি।

তবে শারীরিক অসুস্থতার কোনও লক্ষণ ছিল না। কিন্তু গত একমাস অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করেছেন ওই যুবতী। পেটের ব্যথা সারাতে আবারও দ্বারস্থ হয়েছেন গ্রামের চিকিৎসকের কাছে, গিয়েছেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও। ফল হয়নি।

Advertisement

অবশেষে জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে মেয়েকে নিয়ে আসেন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এখানকার চিকিত্‌সকেরা রিপোর্ট দেখে প্রথমে অবাকই হয়েছিলেন। প্রাথমিক ভাবে অস্ত্রোপচার করে সিস্ট বের করে দিতে হবে ভেবেই তৈরি হয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু পরে অন্য সিদ্ধান্ত নেন।

জানা গিয়েছে, ওই যুবতীর শরীরে যোনি, জরায়ু, ডিম্বাশয় সবই আছে। নেই শুধু জরায়ুমুখের ছিদ্র। তাই এতদিন স্বাভাবিক নিয়মে ঋতুস্রাব হলেও তা শরীরের বাইরে বেরতে পারেনি। ফ্যালোপিয়ান টিউব থেকে বেরিয়ে জরায়ুর দু’দিকে ক্রমাগত জমা হয়েছে রক্ত। তৈরি হয়েছে ‘চকোলেট সিস্ট’। চিকিৎসক সব্যসাচী রায়ের কথা অনুযায়ী দু’টি সিস্টের এক একটির দৈর্ঘ্য প্রায় আট সেন্টিমিটার।

সাধারণত, এ ধরনের রোগের ক্ষেত্রে পুরো জরায়ুটাই কেটে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু অবিবাহিতা ওই যুবতীর ক্ষেত্রে অন্য কিছু করার কথাই ভেবেছিলেন তাঁরা। ফলে সিস্ট দু’টি বের করার পর কী ভাবে জরায়ুমুখ তৈরি করা যায় সে চেষ্টাই করেছেন তাঁরা। জটিল সেই অস্ত্রোপচারে টানা ৪ ঘন্টার চেষ্টায় সফল হয়েছেন চার জন চিকিত্‌সক। যুবতী এখন সম্পূর্ণ সুস্থ।

হাসপাতালে শুয়ে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়ে খুশি যুবতী। তিনি বলেন, “অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি। ওষুধও খেয়েছি। কিছুই ফল হয়নি। অনেকেই অনেক কথা বলত। আতঙ্কে থাকতাম। এ বার আমিও আর পাঁচজন মেয়ের মতো সুস্থভাবে বাঁচতে পারব ভেবে ভীষণ ভাল লাগছে।”

পাশেই বসেছিলেন তাঁর মা। তাঁর কথায়, “মেয়েকে সুস্থ ভাবে ফিরে পাব কিনা তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এখানকরা চিকিৎসকরা যা করলেন, তার জন্য ধন্যবাদ। মেয়ের বিয়েও দিতে পারব ভেবে ভারমুক্ত হলাম।”

চিকিৎসক সব্যসাচী রায় বলেন, “এই অস্ত্রোপচার অসম্ভব নয়। কিন্তু অত্যন্ত ঝুঁকির। জরায়ুমুখের কাছাকাছি প্রস্রাব, মলদ্বার থাকায় অস্ত্রোপচারের সময় অন্য জায়গায় ক্ষত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সহজ পথ হিসাবে জরায়ু কেটে বাদ দেওয়াই রেওয়াজ। কিন্তু ওই যুবতীর ক্ষেত্রে এমন হলে তাঁর জীবনের স্বাভাবিকতা নষ্ট হত। তাই ঝুঁকি নিয়েই চেষ্টা করেছি। সাফল্য পেয়ে ভালোই লাগছে।” সব্যসাচীবাবুর সঙ্গেই ছিলেন অন্য তিন চিকিৎসক কিঙ্কর সিংহ, ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায় ও অর্চনা কুমারী। খুশি তাঁরাও। মেদিনীপুরে এ ধরনের সাফল্য এই প্রথম।

Advertisement