পণ্য কিনলে মিলছে হ্যান্ড স্যানিটাইজ়র!
খবর ছড়িয়ে পড়তেই বুধবার সন্ধ্যায় ভিড় আছড়ে পড়ল হলদিয়া রিফাইনারি কনজুমার্স কো অপারেটিভে।
করোনাভাইরাস আতঙ্কে হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ারের চাহিদা হঠাৎ করে বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু মানুষ হন্যে হয়ে ঘুরেও দোকানে স্যানিটাইজ়ার পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে হলদিয়া রিফাইনারি আবাসনের মধ্যে থাকা রিফাইনারি কনজুমার্স কো অপারেটিভ কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেন, একটি বিলের সঙ্গে একটি স্যানিটাইজ়ার দেওয়া হবে।
ওই খবর পাওয়ার মুহূর্তের মধ্যেই শয়ে শয়ে মানুষ ভিড় করেন দোকানে। আর সেই ভিড় সামাল দিতে শীতাতপ দোকানের মধ্যে রীতিমতো ঘামতে শুরু করেন কর্মীরা। হলদিয়া পুরসভার কর্মী সুজিত ভক্তা থেকে শুরু করে জনস্বাস্থ্য দফতরের তরফে যাদু দেখিয়ে সচেতনতা প্রচার করা জাদুকর বৈদ্যনাথ ঘোষ ছিলেন ত্রেতাদের ভিড়ে। হলদিয়া রিফাইনারি কনজুমার্স কো অপারেটিভের আধিকারিক সুমন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘এই স্যানিটাইজ়ার বহু কষ্ট করে আনা হয়ে হয়েছে। সবাই যাতে পান তাই বিলিং কাউন্টারে রাখা হয়েছে। একটি বিলে একটি দেওয়া হচ্ছে।’’
কিন্তু হঠাৎ করে এত ক্রেতার জমায়েতে স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকা উঠেছে শিকেই। দোকানে না রয়েছে থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা, না রয়েছে অধিকাংশ কর্মীর মুখে মাস্ক। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্নও উঠে গিয়েছে। জাদুকর বৈদ্যনাথ বলেন, ‘‘এত ভিড় হবে ভাবতেই পারিনি। ন্যূনতম সচেতনতা নেই এখানে। কম করে দোকানে লোক ঢোকানো যেতে পারে বা বাইরে হ্যাণ্ডওয়াস দিয়ে ধুইয়ে ঢোকানোর ব্যবস্থা করা উচিত।’’
এত ভিড় প্রসঙ্গে কো অপারেটিভের আধিকারিক সুমন বলেন, ‘‘এত ভিড় হয়ে যাবে ভাবা যায়নি। আমরা এবার প্রবেশ পথে থার্মাল স্ক্যানিং করব। সে জন্য স্ক্যানার আনতে দেওয়া হয়েছে।’’দোকানে এভাবে জমায়েত প্রসঙ্গে হলদিয়ার মহকুমাশাসক অবনীত পুনিত বলেন, ‘‘এ দিনই মহকুমাশাসক হিসেবে যোগ দিয়েছি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’’
ভিড়-লাইন-ধাক্কাধাক্কির মধ্যেও অবশ্য যুদ্ধ জয়ের হাসি বহু ক্রেতার মুখে। ১০০ মিলিলিটারের স্যানিটাইজ়ার মিলেছে যে!