×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৮ জুলাই ২০২১ ই-পেপার

পর্যটনে লোকসান!

নিজস্ব সংবাদদাতা
ঝাড়গ্রাম ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:৩৭
রবিবার সকালেও বাতিল হয়ে যায় কয়েকটি ট্রেন। মেদিনীপুর স্টেশনে অপেক্ষায় যাত্রীরা। ছবি: সৌমেশ্বর মণ্ডল

রবিবার সকালেও বাতিল হয়ে যায় কয়েকটি ট্রেন। মেদিনীপুর স্টেশনে অপেক্ষায় যাত্রীরা। ছবি: সৌমেশ্বর মণ্ডল

রাজ্যে সাম্প্রতিক অশান্তির জেরে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন ঝাড়গ্রামের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। জাতীয় নাগরিক পঞ্জি ও নতুন নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভের জেরে ব্যাহত ট্রেন চলাচল। জাতীয় সড়কে বিক্ষোভের জেরে নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন পর্যটকদের একাংশ।

রাজ্যে অশান্ত পরিস্থিতির জেরে কয়েকজন পর্যটক ঝাড়গ্রামের অতিথিশালার অগ্রিম বুকিং বাতিল করেছেন। অশান্তির জেরে ট্রেন বাতিল হওয়ায় গাড়ি ভাড়া করে ঝাড়গ্রাম থেকে কলকাতায় ফিরতে হচ্ছে পর্যটকদের। ফলে মরসুমে লাভের মুখ দেখার আশায় থাকা পর্যটন ব্যবসায়ীদের কপালে তাই চিন্তার ভাঁজ! শীতের মরসুমে ঝাড়গ্রামে ঢল নামে পর্যটকদের। সপ্তাহান্তে ভিড় আরও বাড়ে। কিন্তু জাতীয় নাগরিক পঞ্জি ও নাগরিকত্ব আইন পাশ হওয়ায় গোলমালের জেরে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের হাওড়া-খড়্গপুর শাখায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আবার জাতীয় সড়কের বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি হওয়ায় পর্যটকরা গাড়ি নিয়ে ঝাড়গ্রামে যেতেও নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন।

অথচ এখন শীতের মরসুমে ঝাড়গ্রামের বেশির ভাগ সরকারি ও বেসরকারি অতিথিশালা অগ্রিম বুকিং হয়ে রয়েছে। জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই যাঁদের অগ্রিম বুকিং রয়েছে এমন কয়েকজন পর্যটক বুকিং বাতিল করেছেন। ঝাড়গ্রাম জেলা হোটেল ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মধুসূদন কর্মকার বলেন, ‘‘ট্রেন বাতিল হয়ে যাওয়ায় শুক্র, শনি ও রবিবার বেশ কিছু পর্যটক অগ্রিম বুকিং করেও ঝাড়গ্রামে আসতে পারেননি। আশঙ্কায় কয়েকজন পর্যটক অগ্রিম বুকিং বাতিল করে দিয়েছেন। পর্যটনের মরসুমে এ রকম চললে পর্যটন ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়বেন।’’

Advertisement

ঝাড়গ্রামের বাঁদরভোলায় বন উন্নয়ন নিগমের ঝাড়গ্রাম প্রকৃতি পর্যটন কেন্দ্রের ম্যানেজার অর্ণব বসু বলেন, ‘‘আমাদের সমস্ত কটেজ পুরো ডিসেম্বর মাস জুড়ে অগ্রিম বুকিং হয়ে রয়েছে। অশান্তির জন্য পর্যটকেরা ট্রেনের পরিবর্তে গাড়িতে আসছেন। তবে এখনও বুকিং বাতিল হয়নি। তবে কয়েকজন পর্যটক রবিবার ফেরার ট্রেন না পেয়ে গাড়ি ভাড়া করে ফিরেছেন।’’ হাওড়া থেকে ঝাড়গ্রামের রেল পথের দূরত্ব ১৫১ কিমি। রিজার্ভেশন-সহ থেকে এক্সপ্রেস ট্রেনের দ্বিতীয় শ্রেণির জনপ্রতি ভাড়া ৯০ টাকা। আর এসি চেয়ার কার-এ জনপ্রতি ভাড়া ৩১০ টাকা। ঝাড়গ্রাম শহর থেকে সড়ক পথে কলকাতার দ্বিতীয় হুগলি সেতু পর্যন্ত দূরত্ব ১৬০ কিমি। গাড়ি ভাড়া করলে প্রায় চার হাজার টাকা গাড়ি ভাড়া লাগে। এমন পরিস্থিতিতে কী ভাবে পর্যটকেরা আসবেন, এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ঝাড়গ্রামের পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

পর্যটন দফতর স্বীকৃত ঝাড়গ্রাম ট্যুরিজমের কর্তা সুমিত দত্ত বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার উপযুক্ত পদক্ষেপ করুন। এটাই আমাদের প্রার্থনা।’’

Advertisement