রবিবার সকালে ফের ব্যাহত হল মেট্রো পরিষেবা। রবীন্দ্র সরোবর স্টেশনে এক যাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে খবর। লাইনে ঝাঁপ দেওয়ায় মেট্রো চলাচল থমকে যায়। অন্তত ৪৫ মিনিট ভাঙা পথে ময়দান থেকে দক্ষিণেশ্বর স্টেশনের মধ্যে মেট্রো চালানো হয়েছে। ময়দানের পর অর্থাৎ, রবীন্দ্র সদন থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত পরিষেবা বন্ধ ছিল। মেট্রো স্টেশনে সে কথা ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে।
মেট্রো সূত্রে খবর, শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দক্ষিণেশ্বরের দিকে যাচ্ছিল মেট্রোটি। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট নাগাদ আপ লাইনে চলন্ত মেট্রোর সামনে এক ব্যক্তি ঝাঁপ দেন। দ্রুত মেট্রো থামিয়ে দেন চালক। ওই যাত্রীকে উদ্ধারের পর পরিষেবা স্বাভাবিক হয় বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ। উদ্ধারকাজের জন্য লাইনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। ওই মেট্রোর এক যাত্রী বলেন, ‘‘স্টেশনে অর্ধেক ঢুকে পড়েছিল মেট্রো। তখন আচমকা প্রচণ্ড জোরে ব্রেক কষা হয়। অনেকে ছিটকে পড়েন ভিতরে। প্রায় ১০ মিনিট পর দুর্ঘটনার কথা ঘোষণা করা হয়। আমরা নেমে আসি।’’
আরও পড়ুন:
কলকাতা শহরে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম মেট্রো। রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় ভিড় কিছুটা কম ছিল। তবে সপ্তাহের অন্যান্য দিনে এই ব্যস্ত সময়ে লাইনে আত্মহত্যার চেষ্টা হলে চাপ বাড়ত কর্তৃপক্ষের। রবিবার মেট্রো পরিষেবা শুরু হয় সকাল ৯টা থেকে। তার পরপরই পরিষেবা বিঘ্নিত হয়। ঘোষণা শুনে অনেকে মেট্রো থেকে নেমে যান। যাঁরা স্টেশনে ছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ অন্য ভাবে গন্তব্যে পৌঁছোনের চেষ্টা করেন। স্টেশনগুলিতে ভিড়ও বেড়েছে।
গত বৃহস্পতিবার এই রবীন্দ্র সরোবরেই আর এক জন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন একই ভাবে। বিকেলের দিকে পরিষেবা ব্যাহত ছিল প্রায় এক ঘণ্টা। ফলে অফিসফেরত যাত্রীরা সমস্যায় পড়েছিলেন। কাজের দিন হওয়ায় তখন স্টেশনে ভিড় ছিল আরও বেশি।
কলকাতা মেট্রোর ব্লু লাইনে হামেশাই আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটে। বার বার তার জন্য পরিষেবা ব্যাহত হয়। ব্লু লাইনের স্টেশনগুলিতে মেট্রোর লাইনের পাশে কোনও রকম পাঁচিল নেই। ফলে লাইন অসুরক্ষিত। পরবর্তী সময়ে কলকাতায় মেট্রোর যত নতুন রুট তৈরি হয়েছে, সর্বত্র পাঁচিল তৈরি করে লাইন সুরক্ষিত করা হয়েছে। কিন্তু প্রাচীনতম রুট হওয়ায় ব্লু লাইনে তা করা সম্ভব হয়নি। মেট্রোর নিরাপত্তা নিয়ে আবার প্রশ্ন তুলে দিল রবিবারের ঘটনা।