E-Paper

দাবি আদায়ে দিল্লি দরবারে দুই কুর্মি নেতা

ভাষা দিবসের আবহে ক’দিন আগে কুর্মিদের কুড়মালি ভাষাকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কেন্দ্রকে প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য।

কিংশুক গুপ্ত

শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩৮
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে দিল্লিতে হাজির কুর্মি সংগঠনের দুই নেতা। কুড়মালি ভাষা নিয়ে কেন্দ্র বড়সড় কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

ভাষা দিবসের আবহে ক’দিন আগে কুর্মিদের কুড়মালি ভাষাকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কেন্দ্রকে প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে চিঠি লিখেছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। কুর্মিদের জনজাতি তালিকাভুক্তির দাবিটিও দীর্ঘ দিনের। এই বিষয়ে কালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রিপোর্টের প্রেক্ষিতে রাজ্যের মন্তব্য ও ব্যাখ্যা এখনও কেন্দ্রে পাঠানো হয়নি। তা নিয়ে বারবার সরব হয়েছে কুর্মি সামাজিক সংগঠনগুলি।

এই পরিস্থিতিতেই দিল্লি গিয়েছেন আদিবাসী নেগাচারী কুর্মি সমাজের মহামোড়ল ঝাড়গ্রাম জেলার বাসিন্দা অনুপ মাহাতো এবং সংগঠনের উপদেষ্টা পুরুলিয়া জেলার বাসিন্দা নৃপেন মাহাতো। সঙ্গে গিয়েছেন সংগঠনের আরও দুই সদস্য ঝাড়গ্রামের জ্যোতির্ময় মাহাতো ও রজনী মাহাতো। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেছেন অনুপরা।দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকেও নিজেদের দাবির বিষয়টি জানাতে আপাতত দিল্লিতে রয়েছে ওই কুর্মি প্রতিনিধি দল। সূত্রের খবর, কুর্মিদের দাবির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই অনুপদের আমন্ত্রণ জানিয়ে দিল্লিতে উড়িয়ে আনা হয়েছে।

এমন খবরে জল্পনা শুরু হয়েছে জঙ্গলমহলে। যদিও নৃপেন দিল্লি থেকে ফোনে বললেন, ‘‘ভোট এলে আমাদের দাবি শোনার সময় হয় রাজনৈতিক নেতাদের। তবে আমরা আশাবাদী কুর্মিদের ভাষা কুড়মালি এ বার স্বীকৃতি পাবে।’’ অনুপও ফোনে বলেন, ‘‘আপাতত মাতৃভাষাটা স্বীকৃতি পাক। সেই দাবি নিয়ে দিল্লিতে দরবার করতে এসেছি।’’

জঙ্গলমহলে কুর্মি ভোট অনেকটাই। শুধুমাত্র ঝাড়গ্রাম জেলায় মোট জনসংখ্যার ২৩ শতাংশ কুর্মি। আর পুরুলিয়ায় এলাকাভেদে জনসংখ্যার ৩০-৩৫ শতাংশ কুর্মি। কুর্মি সামাজিক সংগঠনের নেতারা গত বিধানসভা ও লোকসভা ভোটে একাধিক আসনে দাঁড়িয়ে শোচনীয় ভাবে হেরেছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ বার প্রতিষ্ঠান বিরোধী আবহে কুর্মি ভোট, জনজাতি ভোটের মতো জাতিভিত্তিক ভোট শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। সূত্রের খবর, ভোটের আগে কুর্মি সামাজিক সংগঠনগুলির সমর্থন পেতে এ বার তৃণমূল ও বিজেপি উভয় শিবিরই মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। জঙ্গলমহলের এক কুর্মি সামাজিক সংগঠনের নেতা কয়েকদিনের মধ্যেই গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন বলেও খবর। তার মধ্যেই অনুপদের দিল্লি যাত্রা নিয়ে জল্পনার পারদ চড়ছে।

ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি অজিত মাহাতো বলছেন, ‘‘কুর্মিদের পাশে গোড়া থেকেই রাজ্য সরকার রয়েছে। এখন ভোটের আগে এসবই বিজেপি’র নাটক।’’ বিজেপির জেলা সভাপতি তুফান মাহাতোর আবার দাবি, ‘‘জঙ্গলমহলের সার্বিক উন্নতির জন্য যেটা উপযুক্ত মনে হবে সেটাই কেন্দ্রীয় সরকার গ্রহণ করবে।’’ অনুপের অবশ্য সাফ কথা, ‘‘কুর্মি জাতির দীর্ঘদিনের দাবি নিয়ে দিল্লিতে দরবার করতে এসেছি। রাজনীতির কারবারি আমরা নই। তবে এ কথা ঠিক আমাদের সঙ্গে কুর্মি জনগণ রয়েছেন।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

West Bengal Assembly Election 2026 Jhargram

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy