বিশ্ব আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানে এলেন। কিন্তু বন প্রতিমন্ত্রী তথা ঝাড়গ্রামের বিধায়ক বিরবাহা হাঁসদা ছাড়া দলের বাকি জেলা নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের কার্যত গুরুত্বই দিলেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। তাহলে কি সম্ভাব্য সাংগঠনিক রদবদলের কথা মাথায় রেখে দলের নেতাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখলেন তৃণমূল নেত্রী!
সূত্রের খবর, চলতি মাসেই ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের সাংগঠনিক রদবদল হতে পারে। জেলা সভাপতি পদে নতুন কাউকে বেছে নেওয়া হবে কি-না তা নিয়েও শাসকদলের অন্দরে জল্পনা তুঙ্গে। আগে মুখ্যমন্ত্রী ঝাড়গ্রামে রাত্রিযাপনের সময়ে দলের নেতাদের ডেকে কথা বলতেন। এবারে তেমন কিছুই হয়নি। কেবল মঙ্গলবার কপ্টার ধরার জন্য ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্স ছাড়ার সময় কয়েক মিনিটের জন্য জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও বন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন।
সোমবার অনুষ্ঠানস্থলে বিরবাহা হাঁসদা ও আদিবাসী মহিলা শিল্পীদের সঙ্গে নেচেছেন মমতা। তার আগে বিরবাহা তাঁকে আদিবাসী প্রথার পাঞ্চি শাড়ি পরিয়ে দেন। অনুষ্ঠান সেরে ফেরার সময়ে দলের জেলা চেয়ারম্যান বিরবাহা সরেন টুডুর পরণে পাঞ্চি শাড়ি দেখে মমতা বলেন, ‘‘শাড়িটা ভাল পরেছিস।’’ এক জেলা কো-অর্ডিনেটরকে দেখে বলেন, ‘‘কী রে বদমাস ছেলে!’’ এর বাইরে আর কোনও কথা হয়নি। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্স ছাড়ার সময়ে দলের নেতা-নেত্রীরা হাজির ছিলেন। বন প্রতিমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা ছাড়া আর কারও সঙ্গে কথা বলেননি মুখ্যমন্ত্রী। বিরবাহা বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী সবাইকে নিয়ে ভালভাবে কাজ করতে বলেছেন।’’
সোমবার মঞ্চে জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা নয়াগ্রামের বিধায়ক দুলাল মুর্মু, গোপীবল্লভপুরের বিধায়ক খগেন্দ্রনাথ মাহাতো ও বিনপুরের বিধায়ক দেবনাথ হাঁসদা স্থান পাননি। পরে অবশ্য মমতা গুণিজনদের সম্মান দেওয়ার সময়ে মঞ্চে থাকা মন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার হস্তক্ষেপে তিনজন বিধায়ককে মঞ্চে ডাকা হয়। প্রশাসনের এক সূত্রের খবর, মঞ্চে কারা থাকবেন সে ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকেই নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। আর সেটা হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর সম্মতিতেই।