চেয়েছিলেন পুত্র। জন্মেছে কন্যাসন্তান। তাই সদ্যোজাতকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল মা-বাবার বিরুদ্ধে। সদ্যোজাতের অবস্থা সঙ্কটজনক। অভিযুক্ত দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার নদিয়ার শান্তিপুর থানার নবলা গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব পরেশনাথপুর দাসপাড়া এলাকার এই ঘটনায় শোরগোল উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত দম্পতির নাম রাম দাস এবং কাকলি দাস। এর আগে তাঁদের তিনটি সন্তান হয়েছে, দু’টি কন্যা এবং একটি পুত্র। আবার পুত্রসন্তানের আশা করেছিলেন স্বামী-স্ত্রী। তা না-হওয়ায় সদ্যোজাতকে খুন করার চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, শুক্রবার ভোরে বাড়িতে ‘লুকিয়ে’ প্রসব করানো হয় কাকলির। কন্যাসন্তান হওয়ায় দম্পতি সিদ্ধান্ত নেন, একে তাঁরা বড় করবেন না। তাই সদ্যোজাতকে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় পুরে বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দেন। দুই গ্রামবাসীর চোখে পড়ে সেটা। তাঁরা কৌতূহলী হয়ে পুকুরে নামেন। বস্তার মুখ খুলে দেখেন একটি শিশু!
শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। স্থানীয়েরাই সদ্যোজাতকে ফুলিয়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসক জানান, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভাল নয়। তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। সেই পরিষেবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মিলবে না। অতঃপর শিশুটিকে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন ওই হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা চলছে শিশুর। হাসপাতাল সূত্রে খবর, শিশুটির শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক।
এমন ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। গ্রামবাসীদের কয়েক জন শিশুটির বাবা-মাকে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় শান্তিপুর থানার অধীনস্থ ফুলিয়া ফাঁড়ির পুলিশ। গ্রামবাসীদের হাত থেকে রাম ও কাকলিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় তারা। বর্তমানে আটক দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
গ্রামবাসীদের প্রশ্নের মুখে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন পেশায় শ্রমিক রাম। তিনি জানিয়েছেন, অভাবের সংসারে মেয়েকে বড় করতে পারবেন না ভেবে ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে নেপথ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য কাজ করছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে শান্তিপুর থানার পুলিশ। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।