Advertisement
E-Paper

প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর অবরোধ উঠল বেলডাঙায়, দীর্ঘ ভোগান্তি শেষে স্বস্তি ট্রেন ও বাসযাত্রীদের, অশান্তিতে জখম অন্তত ১২ জন

ভিন্‌রাজ্যে কাজে গিয়ে মুর্শিদাবাদের আরও এক শ্রমিকের রহস্যমৃত্যু ঘিরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয় বেলডাঙায়। শুক্রবার সকাল থেকে রেললাইন এবং ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে উত্তেজিত জনতা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৫৮
Beldanga Agitation

বিক্ষোভকারীদের সংযত হওয়ার বার্তা জেলাশাসক নিতিন সিংহানিয়ার। —নিজস্ব ছবি।

পুলিশের সঙ্গে আলোচনার পর আপাতত সচল হল মুর্শিদাবাদের রেলপথ এবং সড়কপথে যোগাযোগ। কলকাতাগামী একটি এবং লালগোলাগামী দুটো ট্রেন মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন স্টেশন থেকে ছেড়েছে। আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হচ্ছে জাতীয় সড়কে যান চলাচল। প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা আটকে থাকার পরে গন্তব্যের উদ্দেশে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

ভিন্‌রাজ্যে কাজে গিয়ে মুর্শিদাবাদের আরও এক শ্রমিকের রহস্যমৃত্যু ঘিরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয় বেলডাঙায়। শুক্রবার সকাল থেকে রেললাইন এবং ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে উত্তেজিত জনতা। টানা তিন-চার ঘণ্টা অবরোধের জেরে উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চরম ভোগান্তির শিকার হন হাজার হাজার যাত্রী। ওই পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ এবং কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তিনি মৃতের বাড়িতে গিয়েও পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন।

কিন্তু অশান্তি থামেনি। ভাঙচুর চলে বেলডাঙার রাস্তায় থাকা ট্রাফিক কিয়স্কে। ভাঙা হয় পুলিশের গাড়ি। ছোড়া ইটের ঘায়ে অন্তত ১২ জন জখম হন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েক জন সাংবাদিকও রয়েছেন। একজন সাংবাদিক মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলকে শান্ত থাকার আর্জি জানান। দুপুরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলতে যান মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার সুপার সানি রাজ এবং জেলাশাসসক নিতিন সিংহানিয়া। বেশ কিছু ক্ষণের আলোচনার পরে বিক্ষোভ প্রত্যাহার করতে রাজি হন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর তদন্ত হচ্ছে। সুবিচার পাবে পরিবার। এর পর ধীরে ধীরে ট্রেন এবং বাস চলাচল শুরু হয়।

শুক্রবার সকালেই বেলডাঙার বাসিন্দা জনৈক আলাউদ্দিন শেখের দেহ ঝাড়খণ্ডে উদ্ধার হওয়ার খবর মেলে। সেখানে কাজে গিয়েছিলেন ওই পরিযায়ী শ্রমিক। পরিবারের দাবি, ‘নৃশংস ভাবে’ আলাউদ্দিনকে খুন করা হয়েছে। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই অশান্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার মহেশপুরে রেললাইনে বাঁশ ফেলে বসে পড়েন শয়ে শয়ে মানুষ। আপ ও ডাউন লাইনে থমকে যায় হাজারিকা এক্সপ্রেস-সহ একাধিক লোকাল ট্রেন। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ চলে। সেখানেও শয়ে শয়ে বাস এবং লরি আটকে পড়ে।

খবর পেয়ে পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। কিন্তু উত্তেজিত জনতাকে সরাতে বেগ পেতে হয় তাদের। পুলিশের সঙ্গে বচসা ও ধস্তাধস্তিতে ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, মানুষের ক্ষোভের সঙ্গত কারণ রয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকেরা আক্রান্ত হচ্ছেন। তাঁর সরকার মৃতের পরিবারের সঙ্গে রয়েছে। পাশাপাশি মমতা অভিযোগ করেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থার নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি। তারাই অশান্ত সৃষ্টি করতে চাইছে। তবে কাউকে প্ররোচনায় পা দিতে বারণ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বেলডাঙায় কাদের প্ররোচনা আছে আপনারা জানেন... আমি বলব, শান্তি বজায় রাখুন, কারও প্ররোচনায় পা দেবেন না। শুক্রবার ওঁদের জমায়েত হয়। চিরকালই হয়। আমাদের দুর্গাপুজো, শিবরাত্রিতেও জমায়েত হয়। আমি কি বারণ করতে পারি? ওঁদের ক্ষোভ সঙ্গত। আমি বলব, আমরা সর্বধর্ম সমন্বয়ে বিশ্বাসী। শান্তি বজায় রাখুন। সাংবাদিকদের মারধর করবেন না।’’

অন্য দিকে, মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর কংগ্রেস নেতা অধীর আঙুল তোলেন রাজ্য সরকারের দিকে। তিনি বলেন, “ভিন্‌রাজ্যে কাজে গিয়ে কেন বার বার আমাদের ভাইদের লাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে? রাজ্য সরকার কেন এখানকার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারছে না? আজ যে যুবকের মৃত্যু হল, তার পরিবারের দায়িত্ব কে নেবে? আমরা ঝাড়খণ্ড সরকারের সঙ্গেও কথা বলব, যাতে দোষীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে ফাঁসির ব্যবস্থা করা হয়। মানুষের এই ক্ষোভ ন্যায়সঙ্গত।” জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, “মুর্শিদাবাদের মানুষ কাজের সন্ধানে বাইরে গিয়ে বার বার প্রাণ হারাচ্ছেন। এ বার আলাউদ্দিন শেখকে ঝাড়খণ্ডে হত্যা করা হয়েছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।”

Beldanga Agitation Murshidabad migrant labour Death
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy