চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় পরিবারের ১০ সদস্যের নামের পাশে লেখা কেবল একটি শব্দ— ‘বিবেচনাধীন’। সেই পরিবারেরই প্রবীণ সদস্যের হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। পরিজনদের দাবি, আতঙ্কই কারণ। সোমবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল মুর্শিদাবাদ থানার গুধিয়া গ্রামে। মৃতদেহ রাস্তায় রেখে হরিরামপুর-বহরমপুর রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে শামিল হল তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে এই অবরোধ, যার জেরে ব্যাহত হয় যান চলাচল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গুধিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল শেখ মুর্শিদাবাদ বিধানসভার ২৪৪ নম্বর বুথের ভোটার ছিলেন। তাঁর বয়স ৭০ বছর। সম্প্রতি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা যায়, আব্দুলের পরিবারের ১০ জন সদস্যের নামের পাশে বিবেচনাধীন লেখা রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, এই খবর পাওয়ার পর থেকেই উৎকণ্ঠায় ভুগছিলেন বৃদ্ধ। রবিবার রাতে আচমকাই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
সোমবার সকাল থেকেই গুধিয়া বকুলতলা মোড়ে দেহ নিয়ে বিক্ষোভে দেখান স্থানীয়দের একাংশ এবং তৃণমূল কর্মীরা। হরিরামপুর-বহরমপুর রাজ্য সড়কের উপর টায়ার জ্বালিয়ে শুরু হয় অবরোধ। দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তি হয় নিত্যযাত্রীদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় মুর্শিদাবাদ থানার পুলিশ। তবে বিক্ষোভকারীদের সকাল ১০টা পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয় পুলিশকে। অনেক যানবাহন বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ ধরে।
বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল নেত্রী শাওনি সিংহ রায় এবং ব্লকের অন্যান্য নেতৃত্ব। কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে শাওনি বলেন, ‘‘এই মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বছরের পর বছর এই রাজ্যে বাস করা একটি পরিবারের ১০ জনের নাম হঠাৎ করে বিবেচনাধীন করে দেওয়া হল কেন? এই আতঙ্কেই আব্দুল শেখের প্রাণ গেল। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব। সাধারণ মানুষকে এ ভাবে ঘরছাড়া করার চক্রান্ত বরদাস্ত করা হবে না।’’
অন্য দিকে, অবরোধে আটকে পড়া লরিচালক কামাল শেখ বলেন, ‘‘জরুরি কাজে যাচ্ছিলাম, কিন্তু প্রায় এক ঘণ্টা ধরে গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে।’’ পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হলে দীর্ঘক্ষণ পর অবরোধ ওঠে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এলাকায় পুলিশি টহল জারি রয়েছে।