Advertisement
E-Paper

পরিষেবা নেই, দিব্যি চলছে রোগী রেফার

খড়্গপুর মহকুমার দশটি ব্লকের মানুষ এই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে দেখাতে আসেন কয়েকশো রোগী। রোগীর পরিজনেদের অভিযোগ, একাধিক পরিষেবা না থাকায় প্রায়ই রোগীদের অন্যত্র রেফার করে দেওয়া হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ অগস্ট ২০১৭ ০২:০৫
অপেক্ষা: প্রতীক্ষালয় নেই। তাই বাগানে রোগীর পরিজনেরা। নিজস্ব চিত্র

অপেক্ষা: প্রতীক্ষালয় নেই। তাই বাগানে রোগীর পরিজনেরা। নিজস্ব চিত্র

সিটি স্ক্যানের ব্যবস্থা নেই।

নেই আইসিইউ, এসএনসিইউ-ও।

রোগীর পরিজনেদের বসার বিশ্রামাগার, সাইকেল স্ট্যান্ড— নেই-এর তালিকায় রয়েছে এ সবও।

আরোগ্য লাভের আশায় হাসপাতালে আসেন রোগী। অথচ পরিকাঠামোর খামতি নিয়ে ধুঁকছে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালই।

খড়্গপুর মহকুমার দশটি ব্লকের মানুষ এই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে দেখাতে আসেন কয়েকশো রোগী। রোগীর পরিজনেদের অভিযোগ, একাধিক পরিষেবা না থাকায় প্রায়ই রোগীদের অন্যত্র রেফার করে দেওয়া হয়। ফলে বিপাকে পড়েন পরিজনেরা। খড়্গপুর গ্রামীণের বাসিন্দা অসীম দাস বলেন, “এত বড় মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান করা যায় না। শিশুদের জন্য এসএনসিইউ-ও নেই। অনেক গরিব মানুষকে টাকা খরচ গাড়ি ভাড়া করে রোগীকে নিয়ে মেদিনীপুর মেডিক্যালে ছুটতে হয়। সমস্যার সমাধানে নজর দেওয়া প্রয়োজন।”

শুধু পরিষেবার খামিতিই নয়, হাসপাতালে যত্রতত্র আবর্জনা পড়ে থাকে বলেও অভিযোগ। রোগীর পরিজনেদের অভিযোগ, অন্তর্বিভাগে বিভিন্ন ওয়ার্ডের জানালা, বিছানায় থেকে শৌচাগার— সর্বত্রই পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে। হাসপাতালের বাইরেও জমে থাকে আবর্জনা। হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সভাপতি বদলের পরে নিয়মিত সাফাই অভিযান চালানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে অভিযানের পরেও ফেরেনি হাল।

হাসপাতালে আসা রোগীর পরিজনেদের বিশ্রাম নেওয়ারও কোনও জায়গা নেই। পিংলার নিল্লু বেসরা, খড়্গপুর গ্রামীণের মন্মথ দাসেরা বলেন, “আত্মীয় ভর্তি থাকায় দিন কয়েক ধরেই হাসপাতালে আসছি। কিন্তু হাসপাতাল চত্বরে একটাও বসার জায়গা নেই। মোটরবাইকও রাখা রয়েছে যেমন খুশি। বাইরে খোলা আকাশের নীচেই সারাদিন শুয়ে থাকতে হয়। আর অন্তর্বিভাগে ঘুরছে কুকুড়, বিড়াল।”

হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসার জন্য কাউন্টারে টিকিট কাটতে হয়। চিকিৎসার পর ওষুধ নেওয়ার জন্য নিতে হয় টোকেন। এ ক্ষেত্রে তিনটি কাউন্টারে তিনজনের ওষুধ দেওয়ার কথা। এখন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অধীনে থাকা অস্থায়ী কর্মী দিয়ে চালানো হচ্ছে ওই কাউন্টার। এক রোগীর পরিজনের কথায়, ‘‘একজন কর্মীই তিনটি কাউন্টারে ওষুধ দিচ্ছেন। কোনও ভাবে ওষুধ দিতে ভুল হয়ে গেলে অনেক বড় বিপদ হতে পারে।’’ বহির্বিভাগে দেখাতে আসা গোপালীর বাসিন্দা সুমিত্রা রায়, নমিতা রায়-রা বলছিলেন, “নিয়ম অনুযায়ী টিকিট কাটার জন্য ছেলে ও মেয়েদের দু’টি কাউন্টার থাকার কথা। কিন্তু একটি কাউন্টার খোলা থাকে। অন্য কাউন্টারে কেউ থাকে না। এর জেরে আমাদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করা হয়।” হাসপাতালের সমস্যা প্রসঙ্গে রোগী কল্যাণ সমিতির সভাপতি নির্মল ঘোষ বলেন, “আমি সদ্য এসেছি। নিশ্চয় সমস্যাগুলি মেটানোর চেষ্টা হবে।”

হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলছেন, “পরিকাঠামো উন্নয়নে চেষ্টা করছি। সিটি স্ক্যান নিয়ে স্বাস্থ্য দফতরে অনেকবার জানিয়েছি। তবে এসএনটিইউ খোলা হবে। বিশ্রামাগার তৈরির পরিকল্পনাও হয়েছে।” জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বেরার বক্তব্য, “খড়্গপুর হাসপাতালে এসএনসিইউ খোলার পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে। ২০ শয্যার এসএনসিইউ গড়া হবে। ইতিমধ্যে জায়গাও দেখা হয়েছে। দু’ধরনের বিশ্রামাগারও তৈরি করা হবে।”

Kharagpur Sub Divisional Hospital Facilities Health Refer খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতাল
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy