Advertisement
E-Paper

বিজ্ঞপ্তির বছর পার! শিক্ষক নিয়োগ হল না

জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ সূত্রের খবর, পূর্ব মেদিনীপুরে মোট তিন হাজার ২৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে অনেক প্রাথমিক স্কুলেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ ০১:৫৬
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

শূন্যপদের বিজ্ঞপ্তি বেরিয়েছিল প্রায় এক বছর আগে। কিন্তু সেই সব পদে এখনও কোনও নিয়োগ হয়নি বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারে সরব হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের প্রাথমিকের শিক্ষক সংগঠনগুলি।

জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ সূত্রের খবর, পূর্ব মেদিনীপুরে মোট তিন হাজার ২৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে অনেক প্রাথমিক স্কুলেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। ২০১৪ সালের নভেম্বরে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে শেষ নিয়োগ হয়েছিল। এর পরের প্রায় পাঁচ বছরে বহু প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকা অবসর নিয়েছেন। এর ফলে একদিকে যেমন শূন্য পদের সংখ্যা বেড়েছে, তেমনই সহকারি শিক্ষক বা শিক্ষিকাদের অস্থায়ীভাবে প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকা হিসাবে কাজ করায় তাঁদের উপরেও চাপ বেড়েছে।

বর্তমানে জেলার প্রায় দেড় হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকা নেই। সেই পদগুলিতে নিয়োগের জন্য ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি সংসদের তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে এক হাজার ৪৫০ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছ থেকে আবেদনপত্র জমা নেওয়া শুরু হয়। গত ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ওই সব আবেদনপত্র জমা নেওয়া হয়। আবেদনপত্র খতিয়ে দেখে চলতি বছরের মধ্যে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার কথা। কিন্তু প্রায় এক বছর হতে চললেও প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হয়নি।

প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকা পদের জন্য আবেদনকারী সহ শিক্ষক-শিক্ষিকারা আপাতত হতাশ। দ্রুত নিয়োগের দাবিতে শিক্ষক সংগঠনগুলির তরফে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের কাছে একাধিকবার স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু লাভের লাভ কিছু হয়নি। এ দিকে আসন্ন শিক্ষাবর্ষ থেকেই জেলার প্রায় অর্ধেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস চালু হচ্ছে। ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দ্বায়িত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। তাতে তিন্তা আরও বেড়েছে।

বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক সতীশ সাউ বলেন, ‘‘জেলার প্রায় অর্ধেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ কালি। ওই দায়িত্ব পালনের জন্য একজন সহকারী শিক্ষক বা শিক্ষিকা কোনও আর্থিক সুবিধা পান না। এবার অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি চালু হলে তো দ্বায়িত্ব আরও বাড়বে।’’ নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক অশোক দাসের অভিযোগ, ‘‘নিয়মঅনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি জারি করার পর সেই বছরের ৩১ ডিসেম্বর মধ্যেই প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা হল না। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংসদের সভাপতির কাছে দাবি জানানো হয়েছে।’’ পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক অরূপ ভৌমিক বলেন, ‘‘প্রধান শিক্ষক পদের জন্য যারা আবেদন করেছেন তাঁদের দ্রুত নিয়োগ করার জন্য পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছি।’’

শিক্ষকদের অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ সভাপতি মানস দাস বলেন, ‘‘আবেদনপত্র খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবে অনুমোদন পেলেই প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা হবে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy