Advertisement
E-Paper

এগরা রাখি না পিংলা, উভয় সঙ্কটে প্রবোধবাবু

আটবারের বিধায়ক। বয়স আশি। এগরা থেকে জিতেই তিনি রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন সতেরো বছর। আবার ২০০৬ ও ২০০৯ সালে জন্মভূমি এগরাই ফিরিয়ে দিয়েছে তাঁকে।

অমিত কর মহাপাত্র

শেষ আপডেট: ০৬ মার্চ ২০১৬ ০১:০৫
প্রবোধ সিংহ। ফাইল ছবি।

প্রবোধ সিংহ। ফাইল ছবি।

আটবারের বিধায়ক। বয়স আশি। এগরা থেকে জিতেই তিনি রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন সতেরো বছর। আবার ২০০৬ ও ২০০৯ সালে জন্মভূমি এগরাই ফিরিয়ে দিয়েছে তাঁকে।

অন্য দিকে, ২০১১ সালে পরিবর্তনের প্রবল জোয়ারেও তাঁকে জিতিয়ে দিয়েছিল পিংলা। একদিকে অভিমান-জন্মভূমির টান আর অন্যদিকে কৃতজ্ঞতা এই দুইয়ের মাঝখানে পড়ে উভয় সঙ্কটে গণতান্ত্রিক সমাজবাদী দলের (ডিএসপি) রাজ্য সম্পাদক প্রবোধ সিংহ।

প্রবোধবাবু এগরায় ফিরে আসবেন কি না তা নিয়ে জল্পনা চলছে অনেক দিন ধরেই। শুক্রবার নির্বাচন ও তৃণমূলের প্রার্থীতালিকা ঘোষণার পর থেকেই সেই জল্পনা এলাকাবাসীর মুখে মুখে। ডিএসপি দলের রাজ্য নেতা সুকুমার রায় কিংবা সিপিএমের এগরা জোনাল কমিটির সম্পাদক কৃষ্ণপদ মাইতিরা বলেন, “আমাদের দল তো বটেই, তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ লোকজনও চাইছেন প্রবোধবাবুকে। কংগ্রেসও চাইছে প্রবোধবাবু দাঁড়ালে জয় পাওয়া সহজ হবে।” কংগ্রেসের জেলা সাধারণ সম্পাদক মানস করমহাপাত্র বলেন, “এখনও জোট প্রক্রিয়া চলছে। আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হয়নি। প্রবোধবাবুর ফেরা নিয়ে তাই মন্তব্য করব না।” জেলা কংগ্রেসের একটি সূত্র দাবি করছে, জোটের শর্ত মানা হলে ডিএসপিকে তাদের দু’টি আসনের একটি ছাড়তে হতে পারে। পিংলা জেতা আসন বলেই সেখানে থেকে যেতে পারেন প্রবোধবাবু। তাহলে এগরা আসননটি কংগ্রেস পেলে তার দাবিদার ক্ষিতীন্দ্রমোহন সাহু বা মানসবাবু।

এগরা কেন্দ্রে ২০০৬ সালে শিশির অধিকারীর কাছে ও ২০০৯ সালে উপনির্বাচনে সমরেশ দাসের কাছে পরাজিত হন প্রবোধবাবু। ২০১১ সালে এই কেন্দ্রে প্রবোধবাবু না দাঁড়ালেও তাঁর দল সমরেশবাবুর থেকে পিছিয়েছিল প্রায় পনেরো হাজার ভোটে। ২০১৩ সালে পঞ্চায়েত ভোটে বামেরা কিছুটা ভালো ফল করলেও গত লোকসভা ভোটে এই এলাকায় বামেরা পিছিয়েছিল প্রায় ২৬ হাজার ভোটে। অন্য দিকে, ২০১১ সালে পিংলা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে মাত্র ১২০০ ভোটে জিতেছিলেন প্রবোধবাবু। লোকসভা ভোটে ওই কেন্দ্রেই বামেরা পিছিয়ে যায় প্রায় ২৫ হাজার ভোটে। বাম দলগুলির বিশ্লেষণ অনুযায়ী এগরায় প্রাক্তন মন্ত্রী অধ্যাপক প্রবোধবাবুর গ্রহণযোগ্যতা বরাবরই সব দলের মানুষের মধ্যে রয়েছে। সাধারণভাবে বয়স হিসাব করলে এবারই হয়তো তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার শেষ সুযোগ। পিংলায় বিধায়ক হওয়ার পর এগরায় তাঁর জনসংযোগ স্বাভাবিকভাবেই কমেছে। বরাবরই সিপিএম নির্ভরশীলতা নিয়ে ভোটে জিতেছে ডিএসপি। দলের একমাত্র কাণ্ডারী তিনিই। তিনি না থাকলে দল থাকবে না এই মত
সিপিএমের একাংশের।

প্রবোধবাবু অবশ্য এই বিষয়ে কিছু বলতে নারাজ। তাঁর কথায়, ‘‘দুই এলাকার মানুষই আমাকে চাইছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি কাউকে ফেরাতে পারব না। তাই পুরোটাই ছেড়ে দিয়েছি দল ও বামফ্রন্টের উপর।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy