জলের স্রোতে ভেসেছে নদীর উপর বাঁশের সাঁকো। প্রায় ২৫ ফুট উপরের খাদ বেয়ে নীচে নেমে নৌকায় চেপে যুদ্ধে যাচ্ছেন ‘করোনা যোদ্ধা’ এক মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী।
তাঁর সঙ্গেই ঝুঁকি নিয়ে নীচে নেমে নৌকায় উঠে নদী পারাপার হচ্ছেন ছাত্রছাত্রীরা। বাদ নেই কৃষিজীবীরাও। শ্রাবণের ধারার আগেই দুর্ভোগের এই ছবি দেখা গেলো গড়বেতা ১ ব্লকের সন্ধিপুর অঞ্চলের রাজবল্লভপুরে।
কয়েকদিনের অতিবৃষ্টিতে শিলাবতীতে জল বেড়েছে। দিন কয়েক আগেই গড়বেতাতেই নদী পেরোতে গিয়ে জলে ভেসে যান এক প্রৌঢ়। একদিন পর নদী থেকে উদ্ধার হয় তাঁর মৃতদেহ। সন্ধিপুর অঞ্চলের মধ্য দিয়ে চলে গিয়েছে শিলাবতী। রাজবল্লভপুরে নদী পারাপারের জন্য গ্রামবাসীই উদ্যোগী হয়ে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। প্রতিবছর সেটি তাঁরা সংস্কারও করেন। গত ১৪ জুলাই রাতে নদীর জলে ভেসে যায় বাঁশের সাঁকো। এর ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন রাজবল্লভপুর, গড়বেড়িয়া, কিশোরপুর, এলনা, লাউমারা, রঘুনাথপুর, বৃকভানুপুর সহ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। সাঁকো ভেসে যাওয়ায় তাঁদের ভরসা একটি মাত্র নৌকা। সেই নৌকায় চড়তে হলে নদী তীর থেকে নীচে প্রায় ২৫ ফুট খাদে বাঁশের নড়বড়ে সিঁড়ি বেয়ে নামতে হবে। তারপর নৌকায় চড়ে নদী পেরিয়ে ওপারে যাওয়া।
সাঁকো ভেসে গিয়েছে। কিন্তু কাজ থামালে চলবে কেন! তিনি যে ‘করোনা যোদ্ধা’। চন্দ্রকোনার মহেশপুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রথম এএনএম স্মৃতিকণা মাইতি তাই অন্যদের মতোই ঝুঁকি নিয়েই পারাপার করছেন নদী। করোনা কালে দায়িত্ব বেড়েছে তাঁর। কিন্তু সাঁকোটি ভেসে যাওয়ায় আতান্তরে পড়েছেন রাজবল্লভপুর গ্রামের বাসিন্দা স্মৃতিকণা। বছরের অন্য সময় সাঁকোর উপর দিয়ে সাইকেলে করেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতেন। বুধবার থেকে বদলেছে যাতায়াতের ধরণ। নদীর সামনে এসে আরও অনেকের সাথে প্রায় ২৫ ফুট খাদ বেয়ে নীচে নেমে নৌকা করে ওপারে গিয়ে টোটো, অটো বা যেকোনও উপায়ে ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যাচ্ছেন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে।
নৌকায় উঠতে খাদে নামার আগে স্মৃতিকণা বলেন, ‘‘সাঁকো ভেসে যাওয়ায় আমার দুর্ভোগ আরও বাড়ল। তার মধ্যেই করোনার সময় তো কাজ বন্ধ করা চলবে না’’ যা হয় হবে বলে খাদের সিঁড়ি বেয়ে নেমে গেলেন এই স্বাস্থ্যকর্মী। ডিম ব্যবসায়ী বাণেশ্বর মাইতি, স্কুল পড়ুয়া সুনীল মাইতিরা বলেন, ‘‘সাঁকো ভেসে যাওয়ায় এবার আমাদের সারা বর্ষাকাল এভাবেই প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হবে।’’ রাজবল্লভপুর গ্রামের বাসিন্দা রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষক মঙ্গলপ্রসাদ মাইতি বলেন, ‘‘প্রতি বর্ষায় ৭-৮ টি গ্রামের মানুষ এই দুর্ভোগে পড়েন। নদী পারাপারে স্থায়ী ব্যবস্থা করা উচিত প্রশাসনের।’’ এলাকার বিডিও শেখ ওয়াসিম রেজা বলেন, ‘‘এবিষয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলব।’’
উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল সম্পর্কিত যাবতীয় আপডেট পেতে রেজিস্টার করুন এখানে