ভাসুরপোর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। গত কয়েক দিন ধরে সেই সম্পর্কে টানাপড়েন চলছিল। অভিযোগ, কোনও কারণে বচসার মধ্যেই সেই ভাসুরপোর হাতে খুন হলেন তাঁর কাকিমা! ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত। ঘটনাটি ঘটে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর ব্লকের কলাগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের বসনচক এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, কেশপুর ব্লকের বসনচক গ্রামের এক কৃষকের সঙ্গে বিয়ে হয় ওই ব্লকেরই আনন্দপুর গ্রামের এক তরুণীর। চার বছরের বৈবাহিক সম্পর্ক তাঁদের। কিন্তু তাঁদের কোনও সন্তান ছিল না। তা নিয়ে সংসারে মাঝেমধ্যে অশান্তি লেগে থাকত। অভিযোগ, ওই তরুণী তাঁর ভাসুরপোর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ান। বছরখানেক ধরে সেই সম্পর্কে ছিলেন তাঁরা। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বেশ কয়েক বার তা মিটমাট করার চেষ্টা হয়। কিন্তু রফাসূত্র বার হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে এ-ও দাবি, ওই তরুণী দিন কয়েক ধরেই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছিলেন। কিন্তু রাজি ছিলেন না তাঁর ভাসুরপো। তা নিয়ে প্রায়শই দু’জনের মধ্যে অশান্তি হত। অভিযোগ, শনিবার তাঁদের বাড়ির অদূরের এক চাষের জমিতে দু’জনের মধ্যে বচসা হয়। সেই সময় আচমকা ওই তরুণীর পেটে ভোজালি দিয়ে কোপ মারেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে ফেলে পালিয়ে যান অভিযুক্ত। ওই তরুণীর চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে আসেন স্থানীয়েরা। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কেশপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে পাঠানো হয় তাঁকে। তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কেশপুর থানার পুলিশ। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ওই যুবকের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। যদিও, ঘটনার পর থেকেই পলাতক তিনি।