Advertisement
E-Paper

দক্ষ বনকর্মীদের পুরস্কৃত করার দাবি

কর্মক্ষেত্রে পারদর্শিতার জন্য বনকর্মীদের ‘সেবা পুরস্কার’ দেওয়ার আবেদন জানানো হবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। রবিবার খড়্গপুরের হিজলি বন-প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ‘বন শহিদ দিবস’-এর অনুষ্ঠানে এমনটাই জানালেন ‘চিফ কনজারভেটর অফ ফরেস্ট’ নীরজ সিঙ্ঘল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ০০:০০
বন শহিদের স্মৃতিতে চারারোপণ। খড়্গপুরে। ছবি: রামপ্রসাদ সাউ।

বন শহিদের স্মৃতিতে চারারোপণ। খড়্গপুরে। ছবি: রামপ্রসাদ সাউ।

কর্মক্ষেত্রে পারদর্শিতার জন্য বনকর্মীদের ‘সেবা পুরস্কার’ দেওয়ার আবেদন জানানো হবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। রবিবার খড়্গপুরের হিজলি বন-প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ‘বন শহিদ দিবস’-এর অনুষ্ঠানে এমনটাই জানালেন ‘চিফ কনজারভেটর অফ ফরেস্ট’ নীরজ সিঙ্ঘল। তাঁর মতে, “পুলিশ ও সেনাবাহিনীতে কাজের পারদর্শিতার জন্য সেবা পুরস্কার দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের বনকর্মীদের এমন কোনও পুরস্কার দেওয়া হয় না। আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাব যাতে আমাদের কর্মীদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এই সম্মান পেলে বনকর্মীরা নিজেদের কাজে আরও উদ্বুদ্ধ হবেন।’’

এ দিন খড়্গপুর বন দফতর আয়োজিত বন শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে ১৯৭৭ সাল থেকে এ রাজ্যে জঙ্গলে কর্মরত অবস্থায় মৃত ৩২ জন বনকর্মী ও আধিকারিককে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এঁদের কেউ মারা গিয়েছেন বাঘের হামলায়, কারও প্রাণ নিয়েছে হাতি, কাউকে আবার চোরাকারবারিদের শিকার হতে হয়েছে। ৩২ জন বনকর্মীর স্মৃতিতে চারাগাছ রোপণ করা হয়। খড়্গপুর বন বিভাগের দুই বন শহিদ, আধিকারিক সুধীররঞ্জন চৌধুরীর স্ত্রী গীতাঞ্জলী চৌধুরী ও নিরোদবরণ মাহাতোর স্ত্রী রাধারানি মাহাতোর হাতে পরিজনের হাতে মরণোত্তর সম্মান তুলে দেওয়া হয়। ১৯৯২সালে কাঠ মাফিয়াদের বাধা দিতে গিয়ে নয়াগ্রামে খুন হন ডেপুটি রেঞ্জার সুধীররঞ্জন চৌধুরী। আর ২০০৪সালে নয়াগ্রামেই হাতির হানায় মৃত্যু হয়েছিল ফরেস্ট গার্ড নিরোদবরণ মাহাতোর। এ দিন সুধীরবাবু ও নিরোদবাবুর স্ত্রী স্বামীর স্মৃতিতে চারাগাছ পোঁতেন। হিজলি ইকো পার্ক থেকে বন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যাওয়ার রাস্তা সুধীররঞ্জন চৌধুরী সরণি এবং ইকো পার্ক থেকে সালুয়া যাওয়ার বনপথ নিরোদবরণ মাহাতো স্মরণি নামকরণও হয়েছে। এ দিন সেই নামাঙ্কিত ফলক উন্মোচন করা হয়।

কলকাতা, খড়্গপুর ও জলপাইগুড়িতে এ দিন বন শহিদ দিবস পালনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে। রাজ্যের অন্য বন বিভাগেও দিনটি পালিত হয়েছে। ১৭৩০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাজস্থানের যোধপুরের খেজরালিতে অরণ্য রক্ষার আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছিলেন অমৃতা সিংহ বেনিওয়ান। তাঁর স্মৃতিতেই পালিত হয় বন শহিদ দিবস। খড়্গপুরের অনুষ্ঠানে চিফ কনজারভেটর ছাড়াও অনুষ্ঠানে ছিলেন বিধায়ক দীনেন রায়, ডিএফও অঞ্জন গুহ প্রমুখ। ডিএফও অঞ্জনবাবু বলেন, “আমাদের এই কর্মজীবনে অনেক বিপদের মুখে পড়তে হয়। এই বন শহিদদের কথা স্মরণ করলে আমাদের মনোবল দৃঢ় হয়।’’ চিফ কনজারভেটর নিরজ সিঙ্ঘলও বনকর্মীদের নানা পারদর্শিতার কথা তুলে ধরেন।

২০০৪ সালের ১০ নভেম্বর হদহদির জঙ্গলে হাতির হামলা মৃত শঙ্করপ্রসাদ দুলের স্ত্রীকেও এ দিন সম্মান জানায় বন দফতর। রবিবার মেদিনীপুর বন বিভাগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে শঙ্করবাবুর স্ত্রী অলোকা দুলের হাতে মানপত্র তুলে দেওয়া হয়। তাঁর নামে ২০ হাজার টাকা ৬০ মাসের জন্য স্থায়ী আমানত করে দেওয়া হয়েছে। শঙ্করবাবুর স্মৃতিতে বন বিভাগের অফিসে একটি রুদ্রাক্ষ গাছও লাগানো হয়েছে। শঙ্করবাবুর ছেলে নয়নের কথায়, “বাবার মৃত্যুর এত বছর পরেও বন দফতর আমাদের মনে রেখে বাবাকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করায় আমরা কৃতজ্ঞ।’’ এই অনুষ্ঠানেও ছিলেন নীরজ সিঙ্ঘল।

Sapling Plant Forest department
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy