Advertisement
E-Paper

দুই জেলাতেই ‘হুড়কা জাম’

কুড়মি সমন্বয় মঞ্চের নেতারা স্বতঃস্ফূর্ত বন্‌ধের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন জঙ্গলহলের মানুষকে। 

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০২১ ০২:১১
হুড়কা জামের রাস্তায় চলল ক্রিকেটও। শালবনিতে। ছবি: কিংশুক আইচ।

হুড়কা জামের রাস্তায় চলল ক্রিকেটও। শালবনিতে। ছবি: কিংশুক আইচ।

কুড়মিদের ‘হুড়কা জামে’ অবরুদ্ধ হল জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ। পথ অবরোধে আটকাল যানবাহন। ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অনেক জায়গায় বন্ধ থাকল দোকান-বাজার। খুলল না ব্যাঙ্ক, সরকারি অফিসও। দিনের শেষে কুড়মি সমন্বয় মঞ্চের নেতারা স্বতঃস্ফূর্ত বন্‌ধের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন জঙ্গলহলের মানুষকে।

২৬ দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার জঙ্গলমহলের চার জেলায় ‘হুড়কা জাম’ অর্থাৎ বন্‌ধ ডেকেছিল কুড়মি সমন্বয় মঞ্চ। সকাল থেকেই পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড়, শালবনি, মেদিনীপুর সদর-সহ কুড়মি অধ্যুষিত এলাকার ব্লকগুলিতে পথে নামেন বন্‌ধ সমর্থনকারীরা। ঝাড়গ্রাম জেলাতেও দেখা যায় একই চিত্র।

অবশ্য ঝাড়গ্রাম জেলায় ‘হুড়কা জামে’র মিশ্র প্রভাব পড়ে। জেলাশহর ঝাড়গ্রামে বন্‌ধ সর্বাত্মক আকার নেয়। শহরের কলেজ মোড় ও বংশী মোড়ে রাস্তা অবরোধ করা হয়। ঝাড়গ্রাম গ্রামীণের সেবায়তন, ডিয়ার পার্ক-সহ বিভিন্ন রাস্তায় অবরোধ হয়েছে। গুপ্তমণি ও খড়্গপুরের খেমাশুলিতে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক সকাল থেকেই অবরোধ করা হয়। অবরোধের ফলে জাতীয় সড়কে তুমুল যানজটে নাকাল হয় দূরপাল্লার পণ্যবাহী লরি-সহ বহু যানবাহন। জেলার সাঁকরাইল, ঝাড়গ্রাম গ্রামীণ, জামবনি, বেলপাহাড়ির শিলদা, নয়াগ্রামের খড়িকামাথানি সহ বিভিন্ন জায়গায় বন্‌ধের প্রভাব পড়ে। ওই সব এলাকায় রাস্তা অবরোধও করা হয়। ঝাড়গ্রাম শহর ও মানিকপাড়া এলাকার দু’টি কাগজকলে কাজকর্ম বন্ধ করে দেওয়া হয়। যদিও বোরিয়ার সিমেন্ট কারখানা ও জিতুশোলের স্পঞ্জ আয়রন কারখানায় স্বাভাবিক উৎপাদন হয়েছে।

সরডিহা পঞ্চায়েতে ‘দুয়ারে সরকার’ শিবির বন্ধ করে দেন ‘হুড়কা জামে’র সমর্থকেরা। যদিও চুবকা পঞ্চায়েতে এই শিবির বন্ধ করতে গিয়ে ব্যর্থ হন মঞ্চের লোকজন। এ নিয়ে তাঁরা বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। এ দিন লালগড় ব্লকে বন্‌ধের তেমন প্রভাব পড়েনি। গোপীবল্লভপুর ও বেলিয়াবেড়া ব্লকেও পড়েনি প্রভাব। এ দিন নেতাইয়ের পথে শুভেন্দু অধিকারী, তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়-সহ অন্য নেতাদেরও আটকানো হয়নি। কুড়মি সমন্বয় মঞ্চের ঝাড়গ্রাম জেলার নেতা অশোক মাহাতো বলেন, ‘‘দাবি আদায়ের আন্দোলনে আমরা কোনও সংঘাত চাইনি। আমরা কারও তাঁবেদার নই, সেটা এ দিন হুড়কা জামের সর্বাত্মক প্রভাবেই প্রমাণ হয়ে গিয়েছে।’’

পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড়ে সকাল থেকেই পথে নামেন কুড়মি সমন্বয় মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। গোয়ালতোড়ে ঢোকার সব রাস্তাই অবরুদ্ধ করা হয়। পাটাশোল, ছাগুলিয়া, বুলানপুর, শাঁখাভাঙা, কিয়ামাচায় পথ অবরোধ করেন বন্‌ধ সমর্থকেরা। গোয়ালতোড়ে বন্ধ ছিল বেশিরভাগ দোকান-বাজার, ব্যাঙ্ক। সরকারি অফিসেও কাজ হয়নি। শালবনিতে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কে অবরোধ করা হয় সকালে। পিড়াকাটা, রঞ্জা, ভীমপুরেও অবরোধ হয়। বন্‌ধের প্রভাব পড়ে মেদিনীপুর গ্রামীণেও।

কুড়মি সমন্বয় মঞ্চের নেতা রাজেশ মাহাতো, চিন্ময় মাহাতোরা বলেন, ‘‘বিভিন্ন এলাকায় আমাদের অবরোধ হয়েছে। জরুরি পরিষেবা ছাড়া সর্বাত্মক বন্‌ধ হয়েছে। এ জন্য জঙ্গলমহলের মানুষকে ধন্যবাদ জানাই।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy