Advertisement
E-Paper

শুনানি করবেন কি, তাঁদেরই দিতে হবে হাজিরা! ৩ এইআরও-কে এসআইআর নোটিস, তালিকায় তৃণমূল জনপ্রতিনিধিরাও

জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ঝাড়গ্রাম জেলায় দুই এইআরও অর্থাৎ, বিডিও-কে শুনানির নোটিস পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পূর্ব মেদিনীপুরের এক এইআরও-ও হাজিরা দেওয়ার কাগজ পেয়েছেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:০৫
SIR Notice

এসআইআর নোটিস ঘিরে রাজনৈতিক তরজা চলছে রাজ্যে। —প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এসআইআর শুনানিতে ডাক পাচ্ছেন এইআরও-রাও! এ পর্যন্ত রাজ্যের তিন বিডিও (এসআইআরের কাজে যাঁরা সহকারি নির্বাচনী রিটার্নিং অফিসার বা এইআরও) নোটিস পেলেন। দু’জন কর্মসূত্রে রয়েছেন ঝাড়গ্রামে। এক জন পূর্ব মেদিনীপুরে। পাশাপাশি, জনপ্রতিনিধিদের হাজিরার জন্য ডাক পাচ্ছেন। সোমবারই এসআইআরের নোটিস পেয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক তাজমুল হোসেন এবং কোচবিহার জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুমিতা রায়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, সোমবার ঝাড়গ্রাম জেলার দুই এইআরও অর্থাৎ, বিডিও-কে শুনানির নোটিস পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সাঁকরাইলের বিডিও অভিষেক ঘোষ নোটিসপ্রাপ্তির কথা স্বীকার করেছেন। অভিষেকের বাড়ি হাওড়ার ডোমজুড়ে। আগামী ২৭ জানুয়ারি তাঁকে শুনানির জন্য যেতে হবে সেখানে। জানা যাচ্ছে, বিডিওর পিতার নামের বানানে ভুল থাকায় ডাক পড়েছে। অভিষেক বলেন, ‘‘সমস্ত তথ্য জমা দেওয়ার পরেও ডাক পড়েছে। শুনানির দিন নিজে কোনও হিয়ারিং করব না।’’

একই ভাবে ঝাড়গ্রামের বীরপুর-২ ব্লকের বিডিও এবং পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের নাইকুড়ি ব্লকের বিডিও শেখ ওয়াসিম রেজা এসআইআরের নোটিস পেয়েছেন। ওয়াসিম হাওড়ার উলুবেড়িয়া দক্ষিণের ১৭৮ নম্বর বিধানসভার ৮৩ নম্বর বুথের বাসিন্দা। প্রত্যেক দিন শতাধিক ভোটারের শুনানি করছিলেন তিনি। সেই তাঁকেই নোটিস পাঠানো হয়েছে। শুনানিতে তলবের কারণ হিসাবে লেখা রয়েছে, বর্তমান ভোটার তালিকা এবং পূর্ববর্তী এসআইআরের ভোটার তালিকায় নামের অমিল রয়েছে। নাইকুড়ির বিডিও বলেন, ‘‘প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য সঠিক ভাবে দেওয়ার পরেও এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। নামের বানান ভুল দেখানো হয়েছে।’’

BLO

নোটিস পেয়েছেন, মনকে বোঝাতে ডান হাতে নোটিস নিয়ে বাঁ হাতে ধরান বিএলও রিজিয়া খাতুন। —নিজস্ব চিত্র।

নির্বাচন কমিশনের ফরমানের ‘মান রাখতে’ ডান হাত দিয়ে নিয়ে বাঁ হাতে নোটিস ধরিয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের এক বিএলও বা বুথ স্তরের আধিকারিক। ২৬০ বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভার ৪০ নম্বর বুথের বিএলও রিজিয়া খাতুন জানিয়েছেন, তাঁর বুথে এ পর্যন্ত ২৭৩ জনের নামে এসআইআর শুনানির নোটিস এসেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা বাড়ি বাড়ি ঘুরে তিনি নোটিস দিয়েছেন। তার পর জেনেছেন, তাঁর নামেও একটি নোটিস রয়েছে। হাজিরা দিতে বলা হয়েছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র জন্য। হতবাক রিজিয়া বলেন, ‘‘নিজেকে বিশ্বাস করাতে ডান হাত দিয়ে নোটিস তুলে বাঁ হাতে নিলাম।’’

তৃণমূলের লোকসভার দুই সাংসদ দেব এবং বাপি হালদার, রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম এসআইআর হাজিরার নোটিস পেয়েছেন। সোমবার রাজ্যের মন্ত্রী তাজমুলের নামেও নোটিস গিয়েছে। বস্তুত, তিনি যে বিধানসভার বিধায়ক, সেই হরিশ্চন্দ্রপুরে লক্ষাধিক মানুষকে এসআইআরের জন্য হাজিরা দিতে হবে। এ নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর।

এসআইআরের নোটিস পেয়ে কোচবিহার জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুমিতা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি জানান, ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় তাঁর বাবার নাম ছিল। তাঁর সমস্ত নথিই আপ-টু-ডেট। তার পরেও শুধুমাত্র হয়রানি করার জন্যই নোটিস পাঠানো হয়েছে তাঁকে। সুমিতা বলেন, ‘‘পরিকল্পিত ভাবে ভোটার তালিকা থেকে কিছু মানুষের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে বিজেপি। সাধারণ মানুষকে যে ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে, তাতে আন্দোলনের পথে যাব আমরা।’’ আগামী ২২ জানুয়ারি শুনানিতে ডাকা হয়েছে তৃণমূলের জেলা পরিষদের সভাধিপতিকে।

SIR West Bengal SIR Notice SIR hearing
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy