Advertisement
E-Paper

‘চাইছি দেশু৭-এ অনির্বাণ কাজ করুক’, সটান বলে দিলেন দেব! লিখেছিলই আনন্দবাজার ডট কম

অবশেষে ঘোষণা করেই দিলেন দেব। সরাসরিই বললেন তিনি চাইছেন, ‘দেশু ৭’-এ কাজ করুন টালিগঞ্জে ‘নিষিদ্ধ’ অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩৮
‘দেশু ৭’-এ অনির্বাণকে দেখতে চাইছেন দেব।

‘দেশু ৭’-এ অনির্বাণকে দেখতে চাইছেন দেব। ছবি: সংগৃহীত।

রবিবার অবধি তিনি চাইছিলেন না, ‘দেশু-৭’ ছবিতে অনির্বাণ ভট্টাচার্য কাজ করুন। সোমবার তিনি চাইছেন, অনির্বাণ ওই ছবিতে কাজ করুন। বক্তা অভিনেতা তথা তৃণমূল সাংসদ দেব।

‘দেশু’র আগামী ছবিতে অন্যতম খলনায়ক চরিত্রে টালিগঞ্জের ফেডারেশনের খাতায় অলিখিত ভাবে ‘নিষিদ্ধ’ অভিনেতা অনির্বাণকে যে দেখা যাবে, তা গত বৃহস্পতিবার প্রথম লিখেছিল আনন্দবাজার ডট কম। সেই খবরে এমনও বলা হয়েছিল যে, টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিতে তৃণমূল নেতা স্বরূপ বিশ্বাস যে ‘একচ্ছত্র আধিপত্য’ কায়েম করেছেন, অনির্বাণকে নিজের ছবিতে নিয়ে তার বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাতে নেমে পড়তে চাইছেন দেব।

শুভশ্রীর সঙ্গে লাইভে বসেই সটান জানিয়ে দিলেন দেব আগামী ছবিতে অনির্বাণকে চান।

শুভশ্রীর সঙ্গে লাইভে বসেই সটান জানিয়ে দিলেন দেব আগামী ছবিতে অনির্বাণকে চান। ছবি: ফেসবুক।

ওই খবর প্রকাশের পরে বিভিন্ন মহল থেকে তা অস্বীকার করার চেষ্টা শুরু হয়। এরই মধ্যে গত শুক্রবার টালিগঞ্জের স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠকের পরে সেই সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে দেব বলেছিলেন, “এমন কোনও কথা হয়নি। আমি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করেছিলাম। কিন্তু দাদা এখনও ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কিছু বলেননি। তবে কাল খবর বেরোনোর পর থেকে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছি যে, এটা হলে (অনির্বাণকে ওই ছবিতে নিলে) তো খারাপ হবে না।” বস্তুত, দেব জানিয়েছিলেন, তিনি অনির্বাণের হয়ে অরূপ বিশ্বাস-স্বরূপ বিশ্বাসের কাছে ক্ষমা চাইতে রাজি আছেন। একসঙ্গেই তিনি অনির্বাণের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপও প্রার্থনা করেছিলেন।

দেব ওই বক্তব্য জানানোর পরেই একে একে প্রসেনজিৎ, পরিচালক রাজ চক্রবর্তী ফেডারেশন বনাম অনির্বাণ দ্বন্দ্বে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তার পরে শনি এবং রবিবার কেটেছে। রবিবার ঘোষণা করা হয়েছে, সোমবার দেব-শুভশ্রী ‘লাইভ’ করবেন। সেখানে থাকবে বিশেষ ঘোষণা।

বস্তুত, ওই ঘোষণাটিই হল অনির্বাণের ‘দেশু-৭’ অভিনয় করা সংক্রান্ত। যা সোমবারের সরাসরি সম্প্রচারে পরিকল্পিত ‘চমক’ হিসাবে উপস্থাপিত করার কথা ছিল। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যা হয়ে গেল আনন্দবাজার ডট কম-এর খবরে ‘সিলমোহর’।

ঘোষণাটি হয়েছেও নাটকীয় ভাবে। সরাসরি সম্প্রচার চলতে চলতেই সরল গলায় শুভশ্রী দেবকে প্রশ্ন করেন, ‘‘আচ্ছা, আমাদের ছবিতে কি অনির্বাণ থাকছে?’’ শুনেই হেসে ফেলেন দেব। শুভশ্রী আরও সরলমতি হয়ে প্রশ্ন করেন, ‘‘আচ্ছা, ওকে কেন কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না?’’ এ বার দেব অট্টহাস্য জুড়ে দেন এবং বলেন, ‘‘এতটাও ইনোসেন্ট না তুমি। একটু বেশি ইনোসেন্স হয়ে যাচ্ছে।’’ অতঃপর দেব বলেন, ‘‘আমি জানি না, অনির্বাণকে নিয়ে কী ঝামেলা বা কেন। আমি আমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। হঠাৎ করে একটা নিউজ় দেখি। তখনও পর্যন্ত আমি ভাবিনি। তার পর থেকে ভাবতে শুরু করলাম। আমি এটুকু জানি যে, ফেডারেশনের সঙ্গে একটা মনোমালিন্য চলছে।’’

ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস বনাম অনির্বাণের সমস্যা ইন্ডাস্ট্রির সকলের জানা। বিগত বেশ কয়েক মাস ধরে অভিনেতার নতুন কোনও কাজের কথাও শোনা যায়নি। টালিগঞ্জে কাজ পাচ্ছেন না বলে অনির্বাণ নিজের গানের দল খুলেছেন। এই পরিস্থিতিতেই দেবের এমত ঘোষণা।

সোমবার দেব বলেন, “চাই সবাই সুস্থ ভাবে কাজ করুক। এত ছোট ইন্ডাস্ট্রি! হিরোই নেই। আমি, জিৎদা (জিৎ), বুম্বাদা (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়) বাদ দিয়ে অঙ্কুশ (হাজরা), আবীর (চট্টোপাধ্যায়), পরমব্রত (চট্টোপাধ্যায়) সবাই চেষ্টা করছে ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচিয়ে রাখার। সেখানে এক জন হিরো ‘ব্যান্‌ড’ (নিষিদ্ধ) হলে অনেকগুলো কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বছরে ৩৬৫ দিনের মধ্যে ১০০ দিন তো কাজ করবে। সেটাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।’’

এর পরেই দেব আসেন শিল্পীর সম্মান প্রসঙ্গে। তাঁর কথায়, ‘‘একটা শিল্পীর কাছে নিজের সম্মান ছাড়া আছে কী? সকলকে যদি ক্ষমা চাইতে হয়, সেটা শুনতে কেমন লাগছে না? একটা সর্দারজিকে যদি কেউ বলে তার পাগড়ি খুলে পায়ে দিতে, একজন মুসলমান ভাইকে যদি বলে তার টুপি খুলে পায়ে জমা দিতে বা একজন ব্রাহ্মণকে যদি বলে ঠাকুরের ফুলটা পায়ে দিতে, সেটা কি হয়? একজন শিল্পীর সম্মান চলে গেলে সে তো নগ্ন হয়ে যাবে!’’ সাংসদ তথা অভিনেতার আক্ষেপ, ‘‘আমরা কি শুধুই কাঁকড়া? আমরা তো বিপ্লবীর জাতও ছিলাম একটা সময়ে। আবার বলছি, ‘দেশু ৭’-এ কাল অবধি অনির্বাণকে চাইছিলাম না। কিন্তু আজ সত্যিই চাইছি অনির্বাণ কাজ করুক।”

দেবের কথায় স্পষ্ট যে, ফেডারেশনের কাছে অনির্বাণের ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে তিনি খুব একটা রাজি নন। বস্তুত, কারও কাছেই কারও ক্ষমা চাওয়া তাঁর না-পসন্দ। তৃণমূল সাংসদের কথায়, ‘‘আমাদের রাজ্যটা তো একটা পলিটিক্যাল স্টেট। এখানে কি এক জন নেতা অন্য কোনও দলে গিয়ে ক্ষমা চান?’’ দেবের সঙ্গে সুর মিলিয়ে শুভশ্রী বলেন, ‘‘আমাদের রাজ্য সংস্কৃতিমনস্ক। কাউকে ছোট করে কেউ বড় হতে পারে না। কাউকে ছোট করে বড় হওয়া যায় না।’’

দেব বলেন, ‘‘আমি চাই না, টেকনিশিয়ানদের কোনও ক্ষতি হোক। সকলেরই কাজ করার অধিকার আছে। আমি নিজে টেকনিশিয়ানদের পাশে দাঁড়িয়েছি বহুবার। কিন্তু ১০ মাস হয়ে গিয়েছে। সকলকেই তাই অনুরোধ করব। ক্ষমা চাইতে হলে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।’’ শুভশ্রী বলেন, ‘‘অনির্বাণদার মতো প্রতিভাবান অভিনেতা বাংলার গর্ব। ইন্ডাস্ট্রির যাঁদেরই অনিচ্ছাকৃত ভাবে কাজ থেকে বিরতি নিতে হয়েছে, তাঁদের জন্য হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, এই জট এ বার তাড়াতাড়ি খোলা হোক।”

প্রসঙ্গত, শুভশ্রী যখন অনির্বাণকে ‘ট্যালেন্টেড’ (প্রতিভাবান) অভিনেতা বলে বর্ণনা করছেন, দেব দ্রুত বলেন, ‘‘টেকনিশিয়ানরাও আছেন। আমাদের এখানকার অনেক টেকনিশিয়ান মুম্বইয়ে গিয়ে ফাটিয়ে কাজ করছেন!’’ যা থেকে স্পষ্ট যে, দেব উভয়পক্ষকেই একটা মধ্যপন্থায় আসার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। সেই কারণেই দেব-শুভশ্রীর এই যৌথ আবেদন এবং তার পাশাপাশিই দেবের তরফে টেকনিশিয়ানদেরও মর্যাদা দেওয়ার প্রয়াস। পারস্পরিক বিরোধিতায় টালিগঞ্জে ইন্ডাস্ট্রি যে দিকে যাচ্ছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন দেব। তাঁর বক্তব্য, সকলেই কাজ করুন। শিল্পীরা শিল্পীদের সম্মান নিয়ে। টেকনিশিয়ানরা টেকনিশিয়ানদের সম্মান নিয়ে।

সন্দেহ নেই, দক্ষ রাজনীতিকের মতো নরমে-গরমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন দেব। এখন দেখার, তাঁর এই প্রয়াসে স্বরূপ সাড়া দেন কি না। দেখার এ-ও যে, অনির্বাণ শেষপর্যন্ত ক্ষমা চান কিনা। নাকি ‘দেশু’র ক্ষমাপ্রার্থনাতেই কাজ হয়।

Tollywood Actor
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy