এসআইআরের ‘আতঙ্কে’ একই দিনে নদিয়ার দুই ব্যক্তি প্রাণ হারালেন। সোমবার নাকাশিপাড়া ও করিমপুরে দু’টি মৃত্যুর ঘটনায় শোকস্তব্ধ এলাকাবাসী। চলছে রাজনৈতিক চাপানউতর।
নাকাশিপাড়ার মুরাগাছা পঞ্চায়েতের শালিগ্রামে মৃত্যু হয়েছে সামীর আলি দেওয়ান নামে ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধের। করিমপুর ব্লকের হোগলবেড়িয়া থানা এলাকায় এসআইআর সংক্রান্ত জটিলতার জন্যই ৫৪ বছরের ফিজুর খান মারা গিয়েছেন বলে দাবি পরিবারের। বস্তুত, সোমবার জোড়ামৃত্যুতে এসআইআরের ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতিকে দায়ী করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সোমবারই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায়) তথ্যগত অসঙ্গতির সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
নাকাশিপাড়ার মৃতের পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় সামীর আলির পদবি ছিল ‘দেওয়ান’, কিন্তু বর্তমানে তা বদলে হয়েছে ‘শেখ।’ এই পদবি-বিভ্রাটের কারণে গত ১৬ জানুয়ারি তাঁর চার মেয়ে ও এক ছেলেকে শুনানির নোটিস পাঠায় কমিশন। সোমবারই ছিল হাজিরার দিন। পরিবারের দাবি, নোটিস পাওয়ার পর থেকেই সামীর মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। তাঁর পরিবারের এক সদস্যের কথায়, ‘‘বার বার বলছিল, ‘নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে।’ ও আক্ষেপ করছিল যে, ওর ভুলের জন্য সন্তানেরা ভবিষ্যতে অসুবিধায় পড়বে।’’ রবিবার মধ্যরাতে হঠাৎ অসুস্থবোধ করেন সামীর। তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে হাসপাতালে নিয়ে যান পরিবারের লোকজন। কিন্তু হাসপাতালেই মৃত্যু হয়েছে সামীরের।
মৃতের কনিষ্ঠ পুত্র সোহেল রানা শেখ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘‘কমিশনের সামান্য ভুলের জন্য আমার বাবা চলে গেলেন। ২০০২ সালের তালিকায় আমাদের পদবি ছিল দেওয়ান। কিন্তু এখন সেটা শেখ হয়ে গিয়েছে। সে নিয়ে নোটিস আসার পর থেকে আমার বাবা সারাক্ষণ ভয়ে ভয়ে থাকতেন। আমরাও বাবাকে মাঝেমধ্যে দোষ দিচ্ছিলাম। আজ (সোমবার) হেয়ারিং ছিল। তার আগে বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।”
আরও পড়ুন:
পদবিতে গরমিল থাকায় দু’দিন আগে নোটিস গিয়েছিল ফিজুর খানের স্ত্রীর কাছে। তাতে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন প্রৌঢ়। অভিযোগ, ওই আতঙ্কে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। মৃতের পরিবারের দাবি, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ সংক্রান্ত নোটিসকেই ‘দেশছাড়া হওয়ার পরোয়ানা’ ভেবে বসেছিলেন প্রৌঢ়। সেই আতঙ্কে নিজেকে শেষ করে দিয়েছেন তিনি।
তৃণমূল বিধায়ক রুকবানুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘‘কমিশনের অপরিকল্পিত কাজের জন্য রাজ্যে এসআইআর-মড়ক শুরু হয়েছে।’’ তবে বিজেপির দাবি, প্রতিটি মৃত্যুকে এসআইআরের সঙ্গে জুড়ে রাজনীতির চেষ্টা করছে তৃণমূল।