Advertisement
E-Paper

গরমের সঙ্গে বাড়ছে রোদচশমার বিক্রিও

যৌবনের চোখে নাকি রঙিন চশমা থাকে, তাতেই তামাম দুনিয়ায় হরেক রঙের মেলা। তবে সূর্যদেবের কৃপায় ঝলসে যাওয়া পৃথিবীর দিক চোখ তুলে তাকাতেও এখন দরকার রঙিন চশমার। তাই ফুটপাথ থেকে বড় দোকান সর্বত্রই তুঙ্গ চাহিদা লাল নীল হলদে সবুজ চশমার।

অভিজিৎ চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০১৫ ০০:৩৩
গরম থেকে বাঁচতে। মেদিনীপুরের রাস্তায় তোলা নিজস্ব চিত্র।

গরম থেকে বাঁচতে। মেদিনীপুরের রাস্তায় তোলা নিজস্ব চিত্র।

যৌবনের চোখে নাকি রঙিন চশমা থাকে, তাতেই তামাম দুনিয়ায় হরেক রঙের মেলা। তবে সূর্যদেবের কৃপায় ঝলসে যাওয়া পৃথিবীর দিক চোখ তুলে তাকাতেও এখন দরকার রঙিন চশমার। তাই ফুটপাথ থেকে বড় দোকান সর্বত্রই তুঙ্গ চাহিদা লাল নীল হলদে সবুজ চশমার।

তবে চাইলেই পাওয়া যাচ্ছে না। চাহিদা এমনই যে জোগান দিতে হিমশিম দোকানিরাও। এমনকী শহরের চশমা বিক্রেতারা কেউ কেউ বলছেন, সাধারণ চশমার বিক্রি প্রায় বন্ধ হওয়ার জোগাড়। সারাদিন শুধু রোদ চশমার ক্রেতার ভিড়। আর তাঁদের হাজারো আবদার।

সেটাই স্বাভাবিক। প্রয়োজন মিটলেই তো আর সন্তুষ্ট হওয়া যায় না। সঙ্গে চাই কেতা। তাই পছন্দের তালিকা ক্রমশ লম্বা হচ্ছে। বাড়ছে দোকানির ঝক্কি। এক চশমা বিক্রেতা তো বলেই ফেললেন, ‘‘আগে মানুষ রোদ চশমা কিনলেও কিনতেন কম দামী। এখন সকলেই বেশ দামী চশমা খুঁজছেন। দাম যেমনই হোক কেতাটাই মুখ্য হয়ে উঠছে।’’

তবে এমনটা মানতে নারাজ সাধারণ মানুষ। কলেজ পড়ুয়া তন্বী থেকে ছেলেকে স্কুলে পাঠানো গৃহিণী, কিংবা অফিসযাত্রী সকলেই বলছেন স্বাচ্ছন্দ্যটাই আসল কথা। যা রোদ তাতে বাড়ি থেকে বেরতেই ভয় করে। কিন্তু বেরোতে তো হবেই। কী আর করা যাবে?

ঘাটালের এক চশমা ব্যবসায়ী অমলেশ বর্মন বলেন, “সাধারণত মোটর বাইক চালকরাই এত দিন রোদ-চশমা বেশি ব্যবহার করতেন। সারা বছরে সাত-আটশো রোদ-চশমা বিক্রি করেছি এত দিন। কিন্তু এ বার তা রেকর্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কাল এক দিনেই সাড়ে তিনশোর বেশি চশমা বিক্রি করে ফেলেছি।’’

অমলেশবাবু জানান, গত আড়াই মাসে দু’হাজারের বেশি বিভিন্ন দামের চশমা বিক্রি হয়ে গিয়েছে। চাহিদা এতটাই বেশি যে প্রায় প্রতিদিনই কলকাতা থেকে কিনে নিয়ে যেতে হচ্ছে। ঘাটাল শহরের আর এক দোকানি উত্তম দে-র কথায়, “শিশু থেকে বয়স্ক— সকলেই চশমা কিনছেন। গত কালই সব শেষ হয়ে গিয়েছে। এখনও দেড় হাজার অর্ডার দেওয়া হয়েছে। সে গুলোও এলেই বিক্রি হয়ে যাবে।”

এমনকী যাঁদের চোখে পাওয়ার রয়েছে তাঁরাও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে তৈরি করাচ্ছেন রোদ-চশমা। দাসপুরের এক চক্ষু বিশেষজ্ঞ নির্মল পালধি বলেন, “এখন আমার কাছে সাধারণ চশমার চেয়ে রোদ চশমার জন্য চোখ দেখাতে আসছেন বেশি মানুষ।’’ ব্যবসা এমন বেড়েছে যে শুধু চশমার দোকান নয়, রোদ-চশমা বিকোচ্ছে ভুষিমাল, মনোহারি দোকান এমনকী বইয়ের দোকানেও। মূলত ৬০ থেকে ২৫০ টাকার চশমার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। অনেকেই আবার কম দামের চশমা একাধিক কিনছেন। তবে পাঁচশো থেকে হাজার টাকা দামের চশমাও ভালই বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দোকানিরা। দামী সংস্থার চশমার বিক্রিও ভালই। কিন্তু হাজার দুয়েকের উপর খরচ করতে নারাজ ক্রেতারা। তাঁদের বেশিরভাগই চান কম খরচে কেতাদূরস্থ হয়ে উঠতে।

ঘাটাল কলেজের ছাত্রী সবিতা সরকারও সে কথাতেই সায় দিলেন, ‘‘যা গরম তাতে খালি চোখে সত্যিই রাস্তায় বেরোনো যায় না। হাতখরচের টাকা বাঁচিয়ে রোদ চশমা কিনেছি। দামি দিয়ে কী হবে? তার চেয়ে দু’টো থাকলে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে পরা যাবে।’’

abhijit chakraborty sunglasses sunglass medinipur sunglass sale
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy