E-Paper

মনরেগা: কেন্দ্রীয় শর্ত মেনে শ্রম বাজেটের সিদ্ধান্ত

দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে একশো দিনের কাজে পশ্চিমবঙ্গকে দেওয়া বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছিল কেন্দ্র। তার পরে এই নিয়ে হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খায় তারা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:২৯
(বাঁ দিকে) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

অবশেষে একশো দিনের কাজের প্রকল্পে (মনরেগা) শ্রম বাজেট (লেবার বাজেট) তৈরির সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। সম্প্রতি সব জেলা প্রশাসনকে লিখিত ভাবে রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতর জানিয়েছে, এই প্রকল্পে সর্বাধিক ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ করে ফেলতে হবে। একশো দিনের কাজ থেকেই মূলত গ্রামীণ কর্মসংস্থান হত। তাই ভোটের মুখে সেই কর্মসংস্থানের প্রয়োজনেই ‘মনরেগা’ থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা রাজ্যের পক্ষে সম্ভব নয় বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহলের একাংশ।

দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে একশো দিনের কাজে পশ্চিমবঙ্গকে দেওয়া বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছিল কেন্দ্র। তার পরে এই নিয়ে হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খায় তারা। আদালত জানিয়ে দেয়, দুর্নীতির তদন্ত চলুক, তবে সাধারণ মানুষের টাকা আটকে রাখা যায় না। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কেন্দ্রকে শর্তও ঠিক করতেও বলেছিল আদালত। সেই মতো এমন কিছু শর্ত কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গের উপরে চাপায়, যা সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বেশ কঠিন। সেই শর্ত মানবেন না বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যেই কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এই অবস্থায় সম্প্রতি ফের রাজ্যকে শ্রম বাজেট পাঠাতে বার্তা দেয় কেন্দ্র। একই সঙ্গে জানানো হয়, বকেয়া ৫২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। এর পরেই রাজ্য আগের অবস্থান থেকে একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে শ্রম বাজেট তৈরির সিদ্ধান্ত নিল। শুক্রবার সব জেলায় পাঠানো চিঠিতে পঞ্চায়েত দফতর জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসের শ্রম বাজেট তৈরি করে ফেলতে হবে সকলকে। এ কাজে সব প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য ২১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

জেলাগুলিকে বলা হয়েছে, সর্বাধিক ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কাজ বাছতে হবে। গ্রাম পঞ্চায়েত পিছু সর্বাধিক ১০টি কাজ গ্রহণ করা যাবে। সবিস্তার প্রকল্প রিপোর্ট তৈরি এবং সব কাজের পরিকল্পনা অনুমোদন করাতে হবে জেলাশাসককে দিয়ে। কোনও কাজ ভাগ করে করা যাবে না। যে কাজ কোনও স্থায়ী সম্পদ তৈরি করে না, তা গ্রাহ্য হবে না। সমস্ত কাজের আগাম পর্যবেক্ষণ বাধ্যতামূলক। সমস্ত বরাদ্দের প্রস্তাব সুনির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করতে হবে। এই সমস্ত বিষয় যথাযথ ভাবে যে মানা হচ্ছে, দিতে হবে তার শংসাপত্রও। আরও বলা হয়েছে, ১০০ শতাংশ জব কার্ডে ‘কেওয়াইসি’ বাধ্যতামূলক। বকেয়া থাকা সব সোশ্যাল অডিট শেষ করতেই হবে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজগুলির জিও-ট্যাগ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করে ফেলতে হবে।

অভিজ্ঞ কর্তাদের একাংশের মতে, সংশ্লিষ্টদের মতে এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, কেন্দ্র বরাদ্দ ছাড়ার বার্তা দিলেও ‘স্বচ্ছতার স্বার্থে’ চাপানো শর্ত না মানলে গ্রামের চাহিদাসম্পন্ন বহু মানুষকে বঞ্চিত হতে হত। আগামী ভোটের আগে তা না করলে প্রশ্নের মুখে পড়তে হত তৃণমূলকে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

MNREGA 100 Days Work West Bengal government Central Government Mamata Banerjee PM Narendra Modi

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy