প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যে আবার মৃত্যু! এ বার ঘটনাস্থল মালদহ।
মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানার দৌলতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শীতলপুর গ্রামের বাসিন্দা হাজেরা বিবির ডাক পড়েছিল এসআইআরের শুনানিতে। নথি জমা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে দেখা যায় ৪৪ বছরের হাজেরার নামের পাশে লেখা বিবেচনাধীন। অভিযোগ, ওই আতঙ্কে সোমবার রাতে বিষপান করেন তিনি। আশঙ্কাজনকত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাঁচানো যায়নি যুবতীকে। মঙ্গলবার তাঁর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদহ মেডিক্যাল কলেজে পাঠিয়েছে পুলিশ। পরিবার দুষছে এসআইআর প্রক্রিয়াকে। উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী তাজমুল হোসেন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, হাজেরার কাছে তাঁর বাবার নথিপত্র বিশেষ ছিল না। স্বামীকে অভিভাবক দেখিয়ে তাঁর নথি দিয়েছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর তাঁর নাম ‘বিচারাধীন’ দেখে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন যুবতী। পরিবারের এক সদস্যের কথায়, ‘‘শুনানিতে ডাকার সময় থেকেই ভয় পেয়ে গিয়েছিল। পড়াশোনা নেই। যে যা বলেছে, তাই করেছে। কাগজপত্র জোগাড় করে জমা দিয়েছে। তার পর ওই খবর পেয়ে ভেঙে পড়ে। সবার অজান্তে ঘরে বিষ খেয়ে নিয়েছিল।’’
আরও পড়ুন:
শাসকদল জানিয়েছে, তারা শোকগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকবে। যুবতীর মৃত্যুসংবাদ পেয়ে হাসপাতালে যান মন্ত্রী তাজমুল। মৃতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাজমুল বলেন, ‘‘এসআইআরের নাম করে মানুষকে আতঙ্কগ্রস্ত করে মারছে বিজেপি আর কমিশন। আমরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যাধ্যায়ের নির্দেশে ওই পরিবারের পাশে থাকব। কিন্তু এই মৃত্যুর দায় বিজেপি এবং কমিশনেরই।’’
অন্য দিকে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় একটি বুথের অর্ধেক ভোটারের নাম বিবেচনাধীন থাকার প্রতিবাদে ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছেন বাসিন্দার। মঙ্গলবার সকালে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের তুলসীহাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের সালালপুর গ্রামে বিএলও-কে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। স্থানীয় সূত্রে খবর, সালালপুর ৮৬ নম্বর বুথে ১২৯১টি ভোটারের মধ্যে ৫৪০ জনের নাম বিবেচনাধীন। শুনানিতে উপস্থিত থেকে সমস্ত নথি দেখানোর পরেও কেন এমন হল, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএলও মনব্বর হোসেনের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা।