ছোটবেলায় গানের থেকে নাচেই বিশেষ আগ্রহ ছিল আমার। তাই দোল যে বিশেষ ভাল লাগার উৎসব হিসেবে জায়গা করে নিয়েছিল সেটা বলাই বাহুল্য। এ দিকে, শান্তিনিকেতনের দোল কিংবা বসন্তোৎসব তো শুধুই সেখানকার মানুষের ‘এক্সুক্লুসিভ’ অনুষ্ঠান। যদিও সেটা বরাবরই বহু মানুষের সঙ্গে একটা সংস্কৃতির মিলনস্থল। বহু বছর হয়ে গেল শান্তিকেতনের বসন্ত উৎসবে আর থাকা হয় না। তবু রঙের উৎসবের কথা উঠলেই ফিরে যাই শৈশব থেকে কৈশোরের দিনগুলোয়।
পাঠভবনের হস্টেলে থাকতাম। তাই এই দিনটায় ভোর ৪টের সময় উঠে প্রথমে ‘বৈতালিক’ হত। সকাল সকাল সেজেগুজে গৌরপ্রাঙ্গণের স্টেজে নাচতে যেতাম। আসলে ছোটবেলায় নাচতে খুব ভালবাসতাম। এই দিন নাচের অনুষ্ঠান ধাপে ধাপে হত। গৌরপ্রাঙ্গণের পর ছাত্রাবাসের বারান্দায় একটা অনুষ্ঠান। একটা নাচ-গান হত, তার পরে শুরু হত আবির খেলা। তবে শান্তিনিকেতনের দোল উৎসবের সবটাই যে সুখস্মৃতি, তেমনটা নয়।
ছোটবেলা থেকেই দেখতাম অসম্ভব ভিড় হত। যখন ছোট থেকে বড় হচ্ছি, দেখতাম যাদের চিনি না সেই সব পুরুষেরা গায়ে, মুখে জোর করে রং লাগানোর চেষ্টা করত। আমরা পালাতাম, কখনও দৌড় দিতাম প্রায়। একটা বীভৎস ভিড়, যেটা একেবারেই সুখকর স্মৃতি নয়। যাই হোক, বড় হলাম আমরা। ছোটবেলার মুদ্রার বদলে হাতে এল লাঠি। ‘ওরে গৃহবাসী’ গানের সঙ্গে আমরা লাঠি নিয়ে নাচতে শুরু করলাম। তখন সেটা হয়ে উঠল আমাদের অস্ত্রের মতো। বাইরের লোকেদের জন্য, যাতে তারা আমাদের গায়ে জোর করে রং মাখাতে আসতে না পারে!
আরও পড়ুন:
কিন্তু এর মাঝেই এক মধুর স্মৃতি হচ্ছে গোপালদার কাছে আইসক্রিম খাওয়া। এই দিনটা আমরা যত ইচ্ছে আইসক্রিম খেতাম, সারা আইসক্রিমে আবির লেগে যেত। কিন্তু পরোয়া করতাম না। তার পর আবির ধুয়ে সারা দুপুরের ঘুম। ফের গৌরপ্রাঙ্গণে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান দেখতে যাওয়া। সারাটা দিন ঝুপ করে কেটে যেত।
অনেকের অবশ্য দোলের সঙ্গে প্রেমের নানা স্মৃতি জড়িয়ে থাকে। কিন্তু আমার ওই দিনটা এতটাই বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে কাটত যে, এ সব কিছু স্মৃতিতেই নেই। তবে আমার প্রিয় রং কিন্তু সাদা।
তবে শৈশব ও যৌবনে যে বসন্তোৎসব কাটিয়েছি তার এখন সিকিভাগও নেই। কারণ, বহু বছর বিদেশে থাকার দরুণ ওই সময়টায় আর শান্তিনিকেতনে থাকাটা হয়ে ওঠে না। কিন্তু শুনেছি, এখন ভিড় আরও বেড়েছে। শুনেছিলাম এমন ভিড় হয় যে, সেখানকার লোকেরাই বাড়িতে থেকে বেরোতে পারে না। যদিও সবটাই শোনা কথা। শান্তিনিকেতন যে নিজস্ব উৎসবগুলো ছিল সেটা এখন একটা ‘স্পেক্টাক্ল’-এ পরিণত হয়েছে। সেটা বাঞ্ছনীয় নয় বলেই আমার মত।
এখন অবশ্য আমার কাছে দোল মানে নিত্যনৈমিত্তিক জীবন। এ বছরও তার অন্যথা হবে না। যদিও আমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই, সেই ‘সোয়াস ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন’ সারা পৃথিবীর সংস্কৃতি ও ভাষার পীঠস্থান। তাই এই দিনটা ক্যাম্পাসে রঙিন সব জিনিস লাগানো হয়। যদিও সেটা রং নয়। আজকাল ‘হোলি পার্টি’-র চল রয়েছে। কিন্তু আমি কখনও তেমন কোনও অনুষ্ঠানে যাইনি কখনও। বিদেশে নানা অনুষ্ঠানে অংশ নিই। কিন্তু এই ধরনের পার্টি নিয়ে কোনও ধারণা নেই।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- বসন্ত প্রকৃতিতে রং ধরেছে। লাল, হলুদ, কমলা ফুলে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে পলাশ গাছগুলি। সেজেছে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া। ফুটেছে শিমুলও। তবে এই রং যেন পূর্ণতা পায় দোলোৎসবে। আবিরে, রঙে, হাসিতে, গানে, আড্ডায় ছড়িয়ে পড়ে খুশির আবহ।
- দোলোৎসবের আগে সেজে উঠুক অন্দরমহল। টাটকা ফুল, আবির, প্রদীপে কী ভাবে ঘরের ভোল পাল্টাতে পারেন?
- ‘খেলব হোলি রং দে না, তাই কখনও হয়!’ বরং রং তোলার সহজ কিছু উপায় জানা থাকলেই হতে পারে মুশকিল আসান। তবে দোল খেলার আগেই জেনে নিন কী ভাবে সহজেই তুলে ফেলতে পারেন রং।
-
রঙের ছুতোয় শরীর ছোঁয়ার ছাড়পত্র! বলিউডের এই সব গানে শুধুই কি নারী শরীরের উদ্যাপন?
-
প্রথম বার ভাঙের নেশা করেছেন? শারীরিক অস্বস্তি দূর করবেন কী ভাবে, কী ভুলেও করবেন না?
-
দোলের দুপুরে পাঁঠার মাংস দিয়ে ভূরিভোজ করে পেট আইঢাই! বিকেলে খান ‘হজমি-চা’
-
দোলের সন্ধ্যায় আড্ডা বসবে, বাদাম দিয়েই বানিয়ে ফেলুন মুখরোচক খাবার
-
দোলের রং কখনও প্রেমের, কখনও ধ্বংসের! উৎসবে কোন কোন ছবি দেখে রঙিন করবেন দিন?