ইজ়রায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর কি হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছেন সে দেশের মহিলা ফুটবলারেরা? এএফসি এশিয়ান কাপের ম্যাচে জাতীয় সঙ্গীত গাইলেন না কেউ। মনে করা হচ্ছে, খামেনেইয়ের মৃত্যুতে খুশি হয়ে মহিলা ফুটবলারেরা এরকম করেছেন। ইরান সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পথেই যেতে পারেন তাঁরা।
দেশ ছাড়ার আগে ইরানের মহিলা ফুটবলারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, জাতীয় সঙ্গীত গাইতে হবে। কিন্তু মাঠে তা দেখা গেল না। এমনকি, গ্যালারিতেও ইরানের ৪৭ বছর আগের পুরনো জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা গেল। এখনকার পতাকাও বর্জন করল মহিলা দল। তবে কি ইজ়রায়েল ও আমেরিকার পাশাপাশি ঘরের বিদ্রোহের মুখেও এ বার পড়তে হবে ইরানকে!
কয়েক মাস আগে এএফসি এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে দেখা গিয়েছিল, জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার পাশাপাশি দেশের জাতীয় পতাকাকে সেলাম করছেন মহিলা ফুটবলারেরা। কয়েক মাস পরেই ছবিটা বদলে গেল। বোঝা গেল, আগের বার রাষ্ট্রের চাপে সেটা করতে বাধ্য হয়েছিলেন তাঁরা।
সোমবার গোল্ড কোস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে উদ্বোধনী ম্যাচ ছিল ইরানের। ম্যাচ ইরান ০-৩ হারলেও সকলের নজর কেড়ে নিয়েছে খেলার আগের সেই মুহূর্ত। জাতীয় সঙ্গীত বাজছে। অথচ কেউ ঠোঁট নাড়াচ্ছেন না। এমনকি কারও চোখ-মুখে কোনও অভিব্যক্তি নেই। আনন্দ, দুঃখ, রাগ কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। ইরানের কোচ মারজ়িয়ে জ়াফারি অবশ্য সেই দৃশ্য দেখে মুচকি মুচকি হাসছিলেন। দেখে বোঝা যাচ্ছিল, খুশি হয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
ক্রীড়া সাংবাদিক ট্রেসি হোমস এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, “ইরানের কোনও ফুটবলার, এমনকি কোচও জাতীয় সঙ্গীত গাইলেন না। ইরান ছাড়ার আগে তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল জাতীয় সঙ্গীত গাইতেই হবে। নইলে দেশের অসম্মান হবে। কিন্তু তার পরেও গাইলেন না তাঁরা।” ট্রেসি আরও লিখেছেন, “দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেখান থেকে শক্তি পাচ্ছে মহিলারা। এমনকি, গ্যালারিতে ইরানের বেশ কিছু সমর্থককে দেখা গিয়েছে ইসলামিক বিপ্লবের পূর্ববর্তী পতাকা ওড়াতে।”
১৯০৭ সালে ইরানের প্রথম পতাকা প্রকাশ পায়। সেখানে সূর্য ও সিংহের প্রতীক ছিল। পরে ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের পর নতুন পতাকা প্রকাশ পায়। সেই পতাকাই এখনও চলছে। কিন্তু গোল্ড কোস্টের মাঠে দেখা গিয়েছে ১৯০৭ সালের সেই পুরনো পতাকা।
ইরানে ইসলামির শাসনে বার বার মহিলাদের অধিকার নিয়ে আন্দোলন হয়েছে। নানা রকম নিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছে। খামেনেই নিহত হওয়ার পর ঘর সামলাতে ব্যস্ত ইরান। একসঙ্গে ইজ়রায়েল ও আমেরিকার মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাদের। এই পরিস্থিতিতে কি নিজেদের অধিকার বুঝে নেওয়ার লড়াই শুরু করতে চাইছেন সে দেশের মহিলারা। সেই ইঙ্গিতই কিন্তু দিলেন ফুটবলারেরা।