এক সময় দোলের দিন কয়েক আগে থেকেই বাড়িতে মিষ্টি বানানোর তোড়জোড় শুরু হত। তবে এখন ব্যস্ততার যুগে হাতে সময় কম। সময় বাঁচাতে তাই মানুষ মিষ্টির দোকানের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন। দোল উপলক্ষে মিষ্টির দোকানগুলিতে চোখে পড়বে রকমারি মিষ্টির সম্ভার। রঙিন রসগোল্লা, চকোলেট দিয়ে তৈরি বাহারি সন্দেশ, আরও কত কী! কিন্তু দোল বা হোলির দিনের মিষ্টির যে আভিজাত্য, তা যেন দিনে দিনেই লুপ্ত হচ্ছে। বা়ড়িতে বানানো মিষ্টির যে স্বাদ, মিষ্টি তৈরির মধ্যে যে আন্তরিকতা থাকে, তা দোকান থেকে কেনা মিষ্টিতে কই? চটজলদি বানিয়ে ফেলতে পারবেন, রইল এমন কিছু মিঠাইয়ের হদিস।
ঠান্ডাই লাড্ডু
১/২ কাপ কাঠাবাদাম, ১/২ কাপ কাজুবাদাম, ১/২ কাপ পেস্তা, ২০-২৫টি গোটা গোলমরিচ, ১০টি ছোটএলাচের দানা, ২ টেবিল চামচ পোস্ত, ১ টেবিল চামচ চারমগজ, ২ টেবিল চামচ মৌরি, দু’চিমটে জাফরান, ২ টেবিল চামচ গোলাপের শুকনো পাপড়ি, ১ চা চামচ জায়ফল গুঁড়ো একসঙ্গে মিশিয়ে মিক্সিতে ভাল করে গুঁড়ো করে নিন। এ বার এর সঙ্গে ওট্সের গুঁড়ো, খেজুরবাটা, দুধে ভেজানো কেশর ভাল করে মিশিয়ে নিন। আঠালো মিশ্রণ থেকে ছোট ছোট লাড্ডু বানিয়ে নিন। হোয়াইট চকোলেট গলিয়ে নিন। খানিকটা সাদা চকোলেট সরিয়ে রেখে বাকিটাতে নানা রঙের ফুড কালার মিশিয়ে নিন। বানিয়ে রাখা লাড্ডুগুলি সাদা চকোলেটে ডুবিয়ে একটি থালায় তুলে রাখুন। উপর থেকে রঙিন চকোলেট ছড়িয়ে দিন। থালাটি ফ্রিজে রেখে জমিয়ে নিন।
পাউরুটির গুজিয়া
১ কাপ চিনিতে ১ কাপ জল দিয়ে কেশর আর দু’টি এলাচ মিশিয়ে রস বানিয়ে নিন। এ বার একটি পাত্রে ১ কাপ গুঁড়ো দুধ, আধ কাপ দুধ, ২ টেবিল চামচ চিনি আর ১ চা চামচ ঘি মিশিয়ে ভাল করে করে নাড়াচা়ড়া করুন। মিশ্রণ গাঢ় হয়ে এলে তাতে এলাচগুঁড়ো, ২ টেবিল চামচ নারকেলগুঁড়ো আর কাজু মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি ঠান্ডা করে নিন। এ বার পাউরুটিগুলি গোল করে কেটে নিয়ে বেলন দিয়ে বেলে নিন। পাউরুটির মধ্যে পুর ভরে অর্ধেক চাঁদের মতো করে মুড়ে নিন। এ বার তেল গরম করে গুজিয়াগুলি ভেজে নিন। রসে ডুবিয়ে রাখুন মিনিট পাঁচেক।
রসমালাই লাড্ডু
প্রথমে দুধ গাঢ় করে নিয়ে তাতে কনডেনন্স়়ড মিল্ক মিশিয়ে নিন। এ বার মিশ্রণটি ঠান্ডা করে ফ্রিজে রেখে দিন। মিক্সিতে ছানা, কাজুবাদাম, চিনি আর এলাচগুঁড়ো নিয়ে বেটে নিন। এ বার ছানার মিশ্রণটিতে মৌরি লজেন্স, গুলকন্দ, সবুজ ফুড কালার মিশিয়ে নিন। এ বার মিশ্রণটি থেকে ছোট ছোট লাড্ডু বানিয়ে নিন। পাউরুটির ধার কেটে সেগুলি দুধে ভিজিয়ে চিপে নিন। এ বার তার মধ্যে ছানার গোলাগুলি ভরে লাড্ডু বানিয়ে নিন। একটি কাচের পাত্রে লাড্ডুগুলি সাজিয়ে উপর থেকে বানিয়ে রাখা মালাই আর পেস্তাকুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।
কফি শ্রীখণ্ড
জল ঝরানো টক দইয়ের সঙ্গে কফির গুঁড়ো, মিল্ক চকোলেট পাউডার আর পরিমাণ মতো চিনির গুঁড়ো ভাল করে মিশিয়ে নিন। এ বার মাটির ভাঁড় কিংবা কাচের বাটিতে মিশ্রণটি ঢেলে তার উপরে খানিকটা চকো চিপ্স ছড়িয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। আট থেকে আশি, সকলেই পছন্দ করবেন এই কফি শ্রীখণ্ড।
দইয়ের মালপোয়া
একটি পাত্রে টক দই নিয়ে খুব ভাল করে ফেটিয়ে নিন। দই বেশি টক হলে স্বাদমতো চিনি দিতে পারেন। এ বার আরেকটি পাত্রে ময়দার সঙ্গে ২ টেবিল চামচ ঘি দিয়ে হাতে মেখে নিন। এ বার দইয়ের মিশ্রণে মৌরি মিশিয়ে নিন। সেই মিশ্রণে অল্প অল্প করে ময়দাও মেশাতে থাকুন। মিশ্রণটি যেন খুব বেশি ঘন না হয়ে যায়, সে দিকে খেয়াল রাখুন। এ বার কড়াইয়ে ঘি গরম করে মালপোয়াগুলি লাল করে ভেজে নিন। অন্য একটি কড়াইতে দেড় কাপ জলে এক কাপ চিনি মিশিয়ে রস তৈরি করে নিয়ে গরম মালপোয়াগুলি সেই রসে ডুবিয়ে রাখুন বেশ খানিক ক্ষণ। এ বার উপর থেকে খানিকটা ক্ষীর ছড়িয়ে পরিবেশন করুন দইয়ের মালপোয়া।