Advertisement
E-Paper

পুনর্মিলনের হঠাৎ নোটিস, পণ্ড হল ক্লাস

বদলে কলেজের প্রশাসনিক অফিস ভবনের নোটিস বোর্ডে ঝোলানো রয়েছে বিজ্ঞপ্তি ‘কলেজের সব ক্লাস বাতিল’। ঘটনাটি শুক্রবার তমলুক কলেজের।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০৩:২৩
ক্লাস হল না। ফিরে যাচ্ছেন ছাত্রীরা। নিজস্ব চিত্র

ক্লাস হল না। ফিরে যাচ্ছেন ছাত্রীরা। নিজস্ব চিত্র

অন্য দিনের মতোই কলেজে ক্লাস করতে এসেছিলেন তাঁরা। কিন্তু ভিতরে ঢুকেই অবাক পড়ুয়ার দল। সুনসান কলেজ চত্বরে এদিক ওদিক ছাত্রছাত্রীদের জটলা থাকলেও দেখা নেই অধ্যাপক-কর্মীদের। বদলে কলেজের প্রশাসনিক অফিস ভবনের নোটিস বোর্ডে ঝোলানো রয়েছে বিজ্ঞপ্তি ‘কলেজের সব ক্লাস বাতিল’। ঘটনাটি শুক্রবার তমলুক কলেজের।

ছাত্রছাত্রীদের দাবি, অধ্যক্ষের দেওয়া বৃহস্পতিবারের ( ১৪ ফেব্রুয়ারি ) ওই নোটিসে ছুটির কারণ হিসেবে জানানো হয়েছ কলেজ কর্মীদের গেট টুগেদারের জন্য শুক্রবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি পূর্ব সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা ছাড়া সমস্ত ক্লাস বাতিল করা হল। কলেজের ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, কলেজের নোটিস বোর্ডে অধ্যক্ষের ক্লাস ছুটি দেওয়ার ওই বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি, বহস্পতিবার থাকলেও সেটি ওইদিন কলেজ ছুটির পরে দেওয়া হয়েছে। ফলেই তাঁরা কলেজে থাকলেও জানতে পারেননি যে শুক্রবার কলেজের সব ক্লাস বাতিল করা হয়েছে। তাই এদিন কলেজে এলেও ক্লাস না হওয়ায় হয়রানিতে পড়তে হয় তাঁদের। বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যান তাঁরা।

কাজের দিনে আচমকা নৌটিস দিয়ে এ ভাবে সমস্ত ক্লাস বন্ধ রেখে কলেজের অধ্যাপক-কর্মীদের মিলনোৎসব আয়োজন, কেমন কর্মসংস্কৃতি তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্রছাত্রীদের অনেকে। এক ছাত্র ক্ষোভের সুরে বলেন, ‘‘গতকাল কলেজে এসেছিলাম। কিন্তু ক্লাস বাতিল হওয়ার কোনও নোটিস দেওয়ার কথা জানতে পারিনি। আজ কলেজে আসাক পর ক্লাস বাতিলের নোটিস চোখে পড়ে। কেন এ ভাবে আমাদের হয়রান করা হল বুঝলাম না।’’ কলেজের ছাত্র সংগঠন ডিএসও-র জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও তমলুক কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুদর্শন মান্নার অভিযোগ, ‘‘কলেজের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা শুক্রবার কলেজ ছেড়ে শহরের এক জায়গায় গিয়ে মিলনোৎসব করেছেন বলে জানতে পেরেছি। খোঁজ নিয়ে জেনেছি বৃহস্পতিবার বিকেল চারটের পরেই ক্লাস বাতিলের নোটিস দেওয়া হয়। ফলে ছাত্রছাত্রীরা সেই নোটিসের কথা জানতে পারেননি। শুক্রবার কাজের দিনে ক্লাস বাতিল করে অধ্যাপক-কর্মীদের মিলনোৎসব করায় ছাত্রছাত্রীদের একদিনের পড়া নষ্ট হল। ছাত্রছাত্রীদের এমন হয়রানির জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারেন না। কলেজ কর্তৃপক্ষের এমন ভূমিকার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’’

এই নোটিস ঘিরেই বিতর্ক।

কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মতিনের অবশ্য দাবি, ‘’শুক্রবার কলেজের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বার্ষিক মিলনোৎসব আয়োজন করা হয়। এর জন্য বৃহস্পতিবার নোটিস দিয়ে ক্লাস বন্ধ থাকার এবং নির্ধারিত পরীক্ষা নেওয়ার কথা পড়ুয়াদের জানানো হয়েছিল। দেরিতে নোটিস দেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়।’’

কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা তমলুকের সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘ছাত্রছাত্রীদের পঠন-পাঠন বন্ধ করে শিক্ষক-অশিক্ষককর্মীদের মিলনোৎসব করা ঠিক নয়। এ বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’’

Tamluk College Reunion Notice
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy