নতুন করে খুলেছে স্কুল-কলেজের দরজা। তবে অনেকেই আর স্কুলমুখো হচ্ছে না। সেই সব স্কুলছুটদের ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হল ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা দফতর।
জঙ্গলমহলের এই জেলায় অভিভাবকদের ডেকে স্কুল কর্তৃপক্ষকে বৈঠক করার জন্য জেলা শিক্ষা দফতরকে নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। স্কুল কর্তৃপক্ষ যাতে স্কুলছুটদের নামের তালিকা তৈরি করে পড়ুয়াদের বাড়ি বাড়ি যান, সেই নির্দেশও দিয়েছে শিক্ষা দফতর। জেলাশাসক জয়সি দাশগুপ্ত জানালেন, মে মাসে স্কুলছুটদের সংখ্যা জানতে সমীক্ষা করা হয়েছিল। তখন জেলাজুড়ে ছ’শো স্কুলছুট পড়ুয়ার খোঁজ মেলে। তাদের চিহ্নিতকরণ হয়েছে। এ বার ক্লাসে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে। যারা দীর্ঘ কয়েক বছর পড়াশোনার বাইরে ছিল, তাদের জন্য ব্রিজ কোর্স চালু করা যায় তা দেখা হচ্ছে। জেলাশাসকের কথায়, ‘‘আমরা হয়তো সবাইকে স্কুলে ফিরিয়ে আনতে পারব না। কিন্তু চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’’
তিন দিন হল স্কুল খুলেছে। আপাতত নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি। কিন্তু ঝাড়গ্রাম জেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার অনেকটাই কম। শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, অনেক মেয়ের অপরিণত বয়সেই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছেলেদের অনেকে কাজে ভিন্ রাজ্যে গিয়েছে বা নামাল খাটতে চলে গিয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, গত মে মাসের সমীক্ষা অনুযায়ী স্কুলছুটের সংখ্যা ছ’শো হলেও নভেম্বরের মাঝামাঝি এসে স্কুল খোলার পর সংখ্যাটা আরও বেড়েছে। পড়ুয়াদের স্কুল ফেরানোর জন্য বুধবার জেলাশাসক জয়সি দাশগুপ্ত জেলা প্রশাসনের আধিকারিক ও জেলা শিক্ষা দফতরের আধিকারিকদের বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে জেলাশাসক জানিয়ে দিয়েছেন, লকডাউনে জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে অনেকে পড়াশোনা বিমুখ হয়ে গিয়েছে। তাদের ফেরাতে হবে। অভিভাবকদের সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষকে বৈঠক করার নির্দেশ দিয়েছেন দিনি। পাশাপাশি স্কুলে উপস্থিতির হার বাড়ানোর কথা বলেছেন।
গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলিতে উপস্থিতির হার তৃতীয় দিনেও কমই। নয়াগ্রামের বালিকা বিদ্যাপীঠে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মোট ৬৫৬ জন থাকলেও তৃতীয় দিনে মাত্র ১৪২ জন এসেছেন। গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ স্কুলে ২৫ শতাংশ পড়ুয়াও আসছে না। এই অবস্থায় উদ্বেগ বেড়েছে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা দফতরের। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক শক্তিভূকণ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘স্কুলছুটদের নামের তালিকা তৈরি করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের যোগাযোগ করে মতামত নেওয়া হবে। পড়ুয়াদের স্কুলে ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করা হবে। ক্লাসে যারা আসছে তাদের বলা হচ্ছে বন্ধুদের যাতে স্কুলে ডেকে নিয়ে আসে।’’
স্কুলে স্কুলে নির্দেশ পৌঁছতে শুরু করেছে। পৌহাড়দা রামকৃষ্ণ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সুদীপ্তকুমার গিরির কথায়, ‘‘‘যে সব পডুয়ারা স্কুলে আসছে না এক সপ্তাহ পরে তাদের নামের তালিকা তৈরি করে জেলায় জানানোর নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলা হয়েছে।’’ বেলপাহাড়ি এসসি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সোমনাথ দ্বিবেদীও বলছেন, ‘‘যে সব পড়ুয়া তিনদিন স্কুলে আসছে না, আমরা তাদের বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেব।’’
প্রশাসনের অধিকারিকরা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, পড়াশোনা করলে বৃত্তি, সবুজসাথী সাইকেল, কন্যাশ্রীর ২৫ হাজার টাকা পাবে। জেলাশাসক আরও জানাচ্ছেন, যে সব মেয়েদের বাল্যবিবাহ হয়ে গিয়েছে তারা কম বয়সে অন্তঃসত্ত্বা হচ্ছে। তাঁএই প্রবণতা আটকাতে ব্লক হাসপাতালের অন্বেষা ক্লিনিকে কাউন্সেলিং করা হচ্ছে।