Advertisement
E-Paper

স্কুলে নিভৃতাবাস, চিন্তা উচ্চ মাধ্যমিকে

মহকুমায় ঘাটাল, দাসপুর ও চন্দ্রকোনায় মোট ১৭টি স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কেন্দ্র হয়।

অভিজিৎ চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২০ ০২:৩২
উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম দফার পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল সোনাখালি উচ্চ বিদ্যালয়। সেখানে এখন নিভৃতাবাস। ছবি: কৌশিক সাঁতরা

উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম দফার পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল সোনাখালি উচ্চ বিদ্যালয়। সেখানে এখন নিভৃতাবাস। ছবি: কৌশিক সাঁতরা

পরিযায়ীদের হাত ধরে ঘাটাল মহকুমা জুড়ে এখন করোনা আক্রান্তের বাড়বাড়ন্ত। সেই সূত্রে মহকুমার প্রায় প্রতিটি স্কুলেই এখন চলছে নিভৃতবাস (কোয়রান্টিন) কেন্দ্র। যে সব বিদ্যালয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষাকেন্দ্র হয়, সেখানেও চলছে নিভৃতবাস কেন্দ্র। অথচ জুলাইয়ের গোড়াতেই বাকি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার নির্ঘণ্ট স্থির করেছে শিক্ষা দফতর। ফলে, পরীক্ষা কী ভাবে হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ ঘনাচ্ছে।

উচ্চ মাধ্যমিকের বাকি পরীক্ষা আগামী ২, ৬ এবং ৮ জুলাই হবে বলে ঘোষণা করেছে রাজ্য শিক্ষা দফতর। ঘাটাল মহকুমায় ১৯৬টি হাইস্কুল রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা কেন্দ্র হয়, এমন বহু স্কুলে এখন পরিযায়ী শ্রমিকরা রয়েছেন। মহকুমায় ঘাটাল, দাসপুর ও চন্দ্রকোনায় মোট ১৭টি স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কেন্দ্র হয়। এর মধ্যে দু’-তিনটি বিদ্যালয় বাদে বাকি সব স্কুলেই নিভৃতবাস কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এ বার মহকুমায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৮,৪৭০ জন। করোনা বিধি দূরত্ব বজায় রেখে পরীক্ষার্থীদের আয়োজন করতে হবে। তার আগে নিভৃতবাস কেন্দ্র ফাঁকা করতে হবে, গোটা চত্বর জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক রশ্মি কমল বলেন, “পরীক্ষা শুরুর অনেক আগেই সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিকে খালি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে, পরীক্ষায় সমস্যা হওয়ার কথা নয়।” জেলা স্কুল পরিদর্শক চাপেশ্বর সর্দারেরও বক্তব্য, “ প্রয়োজন মতো স্কুলগুলিকে জীবাণুমুক্ত করে প্রস্তুত করা হবে। পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই হবে।” জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, ঘাটাল-দাসপুরে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হয়, এমন স্কুলগুলিকে ২০ জুনের মধ্যে খালি করে দেওয়া হবে। সেখানে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হবে। তবে শিক্ষা দফতরের এক সূত্র মনে করিয়ে দিয়েছে, সামাজিক দূরত্ববিধি মানতে হলে কিছু কেন্দ্রে সমস্যা হবে। সে ক্ষেত্রে মূল কেন্দ্র রেখে লাগোয়া স্কুলগুলি নেওয়া হতে পারে। হাতে সময়ও নেই। নতুন কেন্দ্র করতে হলে বেশ কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। ঝামেলাও রয়েছে। বাড়তি স্কুল পেতেও সমস্যা হবে।

তা ছাড়া, যতই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্কুল খালি করে জীবাণুমুক্ত করার কথা বলা হোক, তা আদপে হবে কিনা শিক্ষা দফতরই সংশয়ে আছে। দফতরের একটি অংশের ব্যাখ্যা, নির্দিষ্ট মেয়াদ ফুরনোর আগে পরিযায়ীদের বাড়ি পাঠিয়ে দিলে ঝুঁকি বাড়বে। তা ছাড়া ঘাটাল-দাসপুরে এখনও ভিন্ রাজ্য থেকে অনেকে ফিরছেন। পরীক্ষা শুরুর আগে তাঁদের ১৪ দিনের নিভৃতবাস শেষ হবে না। সে ক্ষেত্রে তাঁরা যাবেন কোথায়? দাসপুরের এক স্কুল কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, তাঁদের স্কুলে পাঁচশোর উপরে পরীক্ষার্থী। সব পরীক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে বসাতে হবে। কিন্তু সেই জায়গা নেই। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদকে জানানো হয়েছে। তবে এখনও কেউ যোগাযোগ করেনি।

ঘাটালের এক স্কুল কর্তৃপক্ষ আবার জানালেন, নতুন নিয়মে তাঁদের স্কুলেও সমস্যা হবে। সে ক্ষেত্রে মূল কেন্দ্র রেখে অন্য লাগোয়া স্কুল নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু হাতে সময় বিশেষ নেই। ফলে, উদ্বেগ থাকছেই। নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক বিপদতারণ ঘোষ বলেন, “সামাজিক দূরত্ব মেনেই যাতে পরীক্ষা নেওয়া হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকবে।” তৃণমূল প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠনের পক্ষে সুজিত বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, “পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। রাজ্য সরকার সতর্ক রয়েছে।”

Coronavirus Health Covid-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy