Advertisement
E-Paper

ভেড়ি নিয়ে গণ্ডগোলে নাম জড়াল তৃণমূলের

চরের দখল নিয়ে উত্তেজনা ছড়াল তমলুকে। বিরোধে জড়ালেন তৃণমূলের স্থানীয় দুই নেতা। মঙ্গলবার চণ্ডীপুরের ভগবানখালি গ্রামে হলদি নদীর চর এলাকায় এক ব্যবসায়ীর মাছের ভেড়ি ও বালি খাদানের জন্য তৈরি রাস্তা কেটে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে গোলামাল বাধে। সে সময় নারায়ণ মাইতি নামে ওই ব্যবসায়ী, তাঁর ছেলে ও ভাইকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ মে ২০১৫ ০০:৫৮

চরের দখল নিয়ে উত্তেজনা ছড়াল তমলুকে। বিরোধে জড়ালেন তৃণমূলের স্থানীয় দুই নেতা।

মঙ্গলবার চণ্ডীপুরের ভগবানখালি গ্রামে হলদি নদীর চর এলাকায় এক ব্যবসায়ীর মাছের ভেড়ি ও বালি খাদানের জন্য তৈরি রাস্তা কেটে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে গোলামাল বাধে। সে সময় নারায়ণ মাইতি নামে ওই ব্যবসায়ী, তাঁর ছেলে ও ভাইকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা চণ্ডীপুর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ স্বপন প্রধানের নেতৃত্বেই ঘটনা বলে অভিযোগ করেছেন নারায়ণবাবু।

অন্য দিকে স্বপনবাবুও ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পাল্টা মারধরের অভিযোগ তুলেছেন। আহত নারায়ণবাবুকে এ দিন বিকেলে তমলুক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। অন্যদিকে স্বপনবাবুও চণ্ডীপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা করিয়েছেন বলে খবর। জানা গিয়েছে, ভগবানখালি গ্রামের কাছে হলদি নদীর তীর সংলগ্ন এলাকায় কয়েকবছর আগে বিশাল চর তৈরি হয়েছে। ওই চরের জমি লিজ নিয়ে বালি খাদান ও মাছের ভেড়ি তৈরি করছেন চণ্ডীপুর বাজারের বাসিন্দা নারায়ণ মাইতি। নারায়ণবাবুও তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি ওই বালিখাদান ও মাছের ভেড়ি তৈরি নিয়ে নারায়ণবাবুর সঙ্গে ভাগবানখালির স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা চণ্ডীপুর পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধ বেধেছে।

Advertisement

জানা গিয়েছে পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ স্বপনবাবুরও মাছের ভেড়ি রয়েছে। নারায়ণবাবুর অভিযোগ, ‘‘হলদি নদীর তীরবর্তী চর এলাকায় আমি ১ একর ৩৯ ডেসিমল জমি সেচ দফতর থেকে লিজ নিয়েছি নদী থেকে বালি তুলে রাখার জন্য। আর স্থানীয় গ্রামবাসীদের কাছ থেকে ১৮ বিঘে জমি লিজ নিয়েছি মাছের ভেড়ি তৈরির জন্য। এ জন্য সরকারিভাবে অনুমতি নিয়েছি। কিন্তু পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ স্বপন প্রধান আমাকে বাধা দিচ্ছেন। মঙ্গলবার সকালে স্বপনবাবুর নেতৃত্বে কিছু লোকজন এসে চড়াও হয়, মারধরও করে। এ বিষয়ে দলীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছি।’’

এ দিকে স্বপনবাবু বলেন, ‘‘চর এলাকায় পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে ম্যানগ্রোভ বনসৃজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু নারায়ণবাবু বালি খাদান ও মাছের ভেড়ি তৈরির জন্য জলনিকাশি বন্ধ করে রাস্তা বানিয়েছেন। এ দিন গ্রামবাসীরা ওই নিকাশি নালা উপর তৈরি রাস্তা কাটতে গিয়েছিলেন। তাতেই গোলমাল। আমি গ্রামবাসীদের সঙ্গে ছিলাম। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’’

অন্য দিকে তমলুকের শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের মথুরী গ্রাম সংলগ্ন রূপনারায়ণ নদীর তীরে জেগে ওঠা চরেও মাছের ভেড়ি তৈরির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। নদী-সংলগ্ন ওই চরের জমিতে গত কয়েকবছর ধরে চাষ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। এ দিন তাঁরাই মাছের ভেড়ি তৈরির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানান। স্থানীয় বাসিন্দা তরুণ মিশ্র, সতীশ সাঁতরা, চণ্ডী সাঁতরাদের অভিযোগ, ‘‘রূপনারায়ণ নদীর ভাঙনের পরে প্রায় ২০ বছর আগে ওই চর তৈরি হয়েছে। তারপর থেকেই ওখানে আমরা চাষ করে আসছি। কিন্তু এখন এলাকার প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান ও তাঁর লোকজন মিলে জোর করে ওই চরের জমি দখল করে মাছের ভেড়ি তৈরি করতে চেষ্টা করছেন। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ
জানানো হয়েছে।’’

ধলহরা গ্রামপঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য তথা প্রাক্তন প্রধান আতিয়ার রহমান অবশ্য অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘‘নদীর চর এলাকায় জোর করে মাছের ভেড়ি তৈরির চেষ্টার অভিযোগ ভিত্তিহীন। চর এলাকার রায়ত জমি সংলগ্ন বেশকিছু খাস জমি দখল করে চাষ করছে কিছু ব্যক্তি। সেখানে পঞ্চায়েতের উদ্যোগে উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাতে বাধা দেওয়ার জন্যই এই মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।’’

পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক অন্তরা আচার্য বলেন, ‘‘নদীর চর এলাকায় সরকারি অনুমতি ছাড়া মাছের ভেড়ি তৈরি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ বিষয়ে অভিযোগ খতিয়ে দেখার পরে প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

tamluk tmc tamluk tmc group rivalry fishing pond controversy chandipur block vaghabankhali village
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy