Advertisement
E-Paper

সুরক্ষায় বন্দুক-প্রার্থী তৃণমূল নেতা

কিন্তু সঞ্জয়ের হঠাৎ বন্দুকের প্রয়োজন পড়ল কেন?

বরুণ দে

শেষ আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২০ ০৬:৩৮
সঞ্জয় পান ও শুভ্রা দে সেনগুপ্ত। ফাইল চিত্র

সঞ্জয় পান ও শুভ্রা দে সেনগুপ্ত। ফাইল চিত্র

কয়েক মাস হল তিনি দলের ব্লক সভাপতির পদ খুইয়েছেন। পদ খোয়ানো কেশপুরের সেই তৃণমূল নেতা এ বার বন্দুকের লাইসেন্স পেতে আবেদন করলেন। প্রশাসনের কাছে ওই নেতা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্যই তিনি নিজের কাছে বন্দুক রাখতে চান।

তৃণমূলের প্রাক্তন কেশপুর ব্লক সভাপতি সঞ্জয় পানের এমন আবেদন ঘিরে দলের মধ্যেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে। দলের এক সূত্রে খবর, সঞ্জয় যাতে দ্রুত লাইসেন্স পেতে পারেন, প্রশাসনের কাছে সেই সুপারিশ করেছেন কেশপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী শুভ্রা দে সেনগুপ্ত। শুভ্রা ও সঞ্জয়ের দীর্ঘ দিনের সুসম্পর্ক। যদিও বন্দুকের জন্য সুপারিশের কথা মানছেন না কেউই। তবে সঞ্জয় স্বীকার করছেন, মেদিনীপুরে এসে বন্দুকের লাইসেন্স চেয়ে আবেদন তিনি করেছেন। আবেদন মঞ্জুর হলে তিনি একনলা বন্দুক কিনতে পারেন কিংবা দোনলা। সঞ্জয়ের মতো আপনিও কি আগামী দিনে বন্দুকের লাইসেন্সের আবেদন করবেন? শুভ্রার জবাব, ‘‘প্রশ্নই নেই। আমি সাধারণ মানুষ। এই বেশ আছি।’’

কিন্তু সঞ্জয়ের হঠাৎ বন্দুকের প্রয়োজন পড়ল কেন? সঞ্জয়ের জবাব, ‘‘আমাকে জঙ্গলমহলে যেতে হয়। কাছে একটা বন্দুক থাকলে অনেকটা নিশ্চিন্ত।’’ তাহলে কি নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন? সঞ্জয় বলেন, ‘‘ব্যাপারটা ঠিক তেমন নয়। আমার তো এখনও একজন নিরাপত্তারক্ষী রয়েছে।’’ সঞ্জয়ের আদি বাড়ি কেশপুরের তেঘরিতে। মেদিনীপুরেও বাড়ি রয়েছে। আর শালবনিতে তাঁর পাম্প, পাইপ-সহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ব্যবসা রয়েছে। সঞ্জয় জানাচ্ছেন, তাঁর ঠাকুরদার লাইসেন্সধারী বন্দুক ছিল। সেটি এখন জেঠুর কাছে রয়েছে।

কেন পিস্তলের বদলে বন্দুকের লাইসেন্সের আবেদন করেছেন, সেই ব্যাখ্যাও দিতে ভোলেননি কেশপুরের এই তৃণমূল নেতা। সঞ্জয়ের কথায়, ‘‘আমি আসলে চাষি। তাই পিস্তলের জন্য নয়, বন্দুকের লাইসেন্সের জন্যই আবেদন করেছি। পিস্তল বড় ব্যবসায়ী বা বড় লোকেদের কাছে থাকে। আমি অত বড় নই!’’ ব্লক সভাপতির পদ হারানোর পরে ‘পুনর্বাসন’ হিসেবে সঞ্জয়কে দলের জেলা সাধারণ সম্পাদকের পদ দেওয়া হয়েছে। তারপরেও সঞ্জয় দলে এখন নিষ্ক্রিয়ই। কেশপুরে দলের কর্মসূচিতেও তাঁকে বিশেষ দেখা যায় না।

বাম-আমল হোক বা তৃণমূলের জমানা, বোমা-গুলি, রাজনৈতিক হানাহানির সূত্রেই বারবার শিরোনামে আসে কেশপুর। পশ্চিম মেদিনীপুরের এই তালুকে তবে কি আবার ভয়ভীতির পরিবেশ ফিরছে? না হলে শাসক দলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতির এমন আবেদন কেন?

কেশপুরের তৃণমূল বিধায়ক শিউলি সাহা বলছেন, ‘‘এখন কেশপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একদম ঠিকঠাকই রয়েছে। ওর (সঞ্জয়) ব্যক্তিগত কোনও ভয়ভীতি থেকে থাকতে পারে।’’ বন্দুকের লাইসেন্সের আবেদনের বিষয়টি সঞ্জয়ের ‘ব্যক্তিগত’ বলে দাবি তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতিরও। অজিত বলেন, ‘‘ব্যক্তিগত কারণে কেউ আবেদন করে থাকতে পারেন। এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই।’’ বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অন্তরা ভট্টাচার্যের অবশ্য খোঁচা, ‘‘তৃণমূল নেতাকেও বন্দুকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হচ্ছে। বোঝাই যাচ্ছে কি পরিস্থিতি!’’

সঞ্জয়ের আবেদনটির কী অবস্থা? কালেক্টরেটের আর্মস সেকশনের এক আধিকারিক জানাচ্ছেন, আবেদন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে কয়েক মাস হল নতুন লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবদিক দেখে পদক্ষেপ করা হবে।

TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy