পরীক্ষা দিতে মঙ্গলবারই কলকাতা থেকে মেদিনীপুরে এসেছিলেন পৌলমী মণ্ডল। শহরে পা রেখেই পৌলমীর প্রতিক্রিয়া, “মেদিনীপুরে যে এত ঠান্ডা থাকবে বুঝতে পারিনি। কাঁপুনি দিচ্ছে তো!”
চলতি মরসুমে শীতলতম দিন দেখল মেদিনীপুর। দিন কয়েক হল পারদ নামতে শুরু করেছিল। সোমবার রাতে তাপমাত্রা হয় ১২.৫। মেদিনীপুরে চলতি মরসুমে এর আগে তাপমাত্রার পারদ এতটা নামেনি। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের মিটিওরোলজি পার্ক সূত্রে খবর, সোমবার মেদিনীপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৫ ডিগ্রি। আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৫ ডিগ্রি। রবিবারও মেদিনীপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬.৫ ডিগ্রি। সোমবার একধাক্কায় তা ৪ ডিগ্রি নেমে যায়। ঠান্ডা ছিল মঙ্গলবারও।
মেদিনীপুরের শীতলতম দিন দেখার কথা মানছেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক। তাঁর কথায়, “সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৫ ডিগ্রি। এর আগে কখনও তাপমাত্রা এতটা নামেনি।’’ এখন মেদিনীপুরে দিনের বেশির ভাগ সময়ই ঠান্ডা। দিনে রোদের দেখা মিলছে। তবে ঠান্ডা ভাবটা যাচ্ছে না। মেদিনীপুরে যে শীত শুধু জাঁকিয়ে বসেছে তা নয়, দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম থাকছে। বাতাসের গতিবেগ অবশ্য কিছুটা কম। চলতি মরসুমে এর আগে পারদ ১৩ ডিগ্রি পর্যন্ত নেমেছে। এই তাপমাত্রা বেশ কয়েকদিন ধরেই ঘোরাফেরা করেছে। ফলে, বিকেল হলেই সোয়েটার, মাফলার, জ্যাকেট পরে বেরোতে হচ্ছে। রাত যত বাড়ছে, ঠান্ডাও বাড়ছে।
নামছে পারদ
• ১২ ডিসেম্বর- ১৭
• ১৩ ডিসেম্বর- ১৭.৫
• ১৪ ডিসেম্বর- ১৫
• ১৫ ডিসেম্বর- ১৬.৫
• ১৬ ডিসেম্বর- ১৪
• ১৭ ডিসেম্বর- ১৬.৫
• ১৮ ডিসেম্বর- ১২.৫
* শেষ এক সপ্তাহে মেদিনীপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা
* তাপমাত্রা ডিগ্রি সেলসিয়াসে
এর আগে শেষ কবে মেদিনীপুরের তাপমাত্রা অনেকটা নেমেছিল?
বিশ্ববিদ্যালয়ের মিটিওরোলজি পার্ক সূত্রে খবর, গত বছর ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষ দিকে এমন পরিস্থিতি হয়েছিল। ওই সময়ও শীতে কেঁপেছে মেদিনীপুর। একদিন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রিতে নেমে যায়। আগে ওটাই ছিল এই মরসুমের মেদিনীপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এখন তাপমাত্রা যেখানে ঘোরাফেরা করছে, তাতে শীতটা আরও কিছুদিন থাকবে বলেই মনে করছেন আবহবিদেরা। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা ১৩- ১৪ ডিগ্রির আশেপাশে থাকলে ডেঙ্গির দাপট আরও কমবে বলে মনে করছে প্রশাসন। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বেরা বলেন, “পারদ নামতে থাকলেই মশাবাহিত রোগের সংক্রমণ কমতে শুরু করে। গত দেড়-দু’সপ্তাহে জেলায় ডেঙ্গির সংক্রমণ অনেকটাই কমেছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এই জায়গায় ঘোরাফেরা করলে নিশ্চিত ভাবে আগামী দিনে মশার উত্পাত আরও কমবে।”