স্মারক বক্তৃতা
নিজস্ব সংবাদদাতা • ঝাড়গ্রাম
প্রয়াত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. অমলেন্দু রায়ের স্মৃতির উদ্দেশে বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজের সভাঘরে একটি স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। স্মারক বক্তৃতার বিষয় ছিল, ‘কোয়ালিটি এডুকেশন অ্যাজ এ মোড অফ সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট’। বক্তৃতায় অংশ নেন বেলুড় বিদ্যামন্দিরের অধ্যক্ষ স্বামী শাস্ত্রজ্ঞানন্দ ও অধ্যাপক পুলকনারায়ণ ধর। সভায় অমলেন্দুবাবুর স্মৃতিচারণা করেন রাজ কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিমাইচাঁদ মাসান্ত, উচ্চ শিক্ষা দফতরের যুগ্ম অধিকর্তা রমাপ্রসাদ ভট্টাচার্য, শিক্ষাবিদ সুব্রত পান্ডা, সমীর মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রাজ কলেজের প্রাণিবিদ্যার অধ্যাপক সুশান্ত রায় কর্মকার। গত বছর ৩০ মার্চ হাওড়ার আন্দুল স্টেশনে ট্রেন থেকে নামার সময় পড়ে গিয়ে রেলে কাটা পড়ে মারা যান অমলেন্দুবাবু।
নদীর চরে হাড়গোড় মিলল শালবনির গ্রামে
নদীর চর থেকে হাড়গোড় উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শালবনি থানার খামারবাড়ে। বুধবার সন্ধের মুখে ওই হাড়গোড় উদ্ধার হয়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, খামারবাড় এলাকার পাশ দিয়েই চলে গিয়েছে তমাল নদী। নদীর চরে বালি তুলছিলেন কয়েকজন। তখনই একটি জায়গা থেকে কিছু হাড়গোড় মেলে। রাজ্যে পালাবদলের পর পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাড়গোড় উদ্ধার হয়েছে। ২০১১ সালের জুনের গোড়ায় প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গড়বেতার সিপিএম বিধায়ক সুশান্ত ঘোষের আদি বাড়ি বেনাচাপড়ার অদূরে দাসেরবাঁধ থেকে মাটি খুঁড়ে হাড়গোড় উদ্ধার হয়। এটাই ছিল শুরু। হাড়গোড় উদ্ধারের ঘটনায় নাম জড়ায় বহু সিপিএম নেতা-কর্মীর। বুধবারের ঘটনায় অবশ্য তৃণমূল সরাসরি সিপিএমকে দোষারোপ করেনি। থানায় নির্দিষ্ট কারোর নামে লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়নি। গ্রামের দিকে অনেকেই নদীর চরে মৃতদেহ সৎকার করেন। উদ্ধার হওয়া হাড়গোড় কোনও অর্ধদগ্ধ মৃতদেহের হতে পারে বলেও মনে করছেন স্থানীয় কয়েকজন। তৃণমূলের শালবনি ব্লক সভাপতি নেপাল সিংহ বলেন, “নদীর চর থেকে কিছু হাড়গোড় মিলেছে। গ্রামবাসীরা পুলিশকে জানিয়েছিলেন। পুলিশ আসেও। আমরা চাই, পুলিশ ঘটনার তদন্ত করুক। কী ভাবে নদীর চরে হাড়গোড় এল, তা খতিয়ে দেখুক।” পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
নারায়ণগড়ে প্রচার বিজেপির
বৃহস্পতিবার পিংলা ও নারায়ণগড় বিধানসভা এলাকায় প্রচার চালাল বিজেপি। পিংলা বিধানসভা ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত আর নারায়ণগড় পড়ে মেদিনীপুর লোকসভায়। এ দিন নারায়ণগড়ে প্রার্থী প্রভাকর তিওয়ারিকে নিয়ে দু’দফায় কর্মসূচি রেখেছিল বিজেপি। প্রথমে নারায়ণগড়ের খাকুড়দা বাজার এলাকায় কর্মিসভা ও পরে মিছিল হয়। বিকেলে বেরোয় দ্বিতীয় মিছিলটি। নারায়ণগড় থেকে চাতুরিভাড়া পর্যন্ত মেদিনীপুর কেন্দ্রের প্রার্থীকে নিয়ে মিছিলের নেতৃত্ব দেন মেদিনীপুর শহর বিজেপি সভাপতি অরূপ দাস। ছিলেন ব্লক সভাপতি কৃষ্ণপদ রায়ও। নারায়ণগড়ের বিধানসভা বরাবর বামেদের দখলে থেকেছে। তবে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে জিতেছে তৃণমূল। প্রার্থী তথা রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি প্রভাকর তিওয়ারি বলেন, “জরুরি অবস্থার পর মানুষ কংগ্রেসকে চুপচাপ ভোট দিয়েছিল। এ বার বিজেপি সরকার কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠা করতে মানুষ বিজেপি প্রার্থীদেরই ভোট দেবে। এই লোকসভায় সন্ধ্যা রায় কোনও ফ্যাক্টর নয়, সিপিআই প্রার্থীর সঙ্গেই লড়াই হবে।” এ দিনই পিংলা বিধানসভার মাদপুর বাজারেও প্রার্থী মহম্মদ আলম-কে নিয়ে প্রচারে নামল বিজেপি। এ দিন প্রথমে একটি প্রেক্ষাগৃহে কর্মিসভা হয়। এর পর বাজার এলাকায় মিছিল হয়। নেতৃত্বে থাকা বিজেপির জেলা যুব সভাপতি শুভজিৎ রায় বলেন, “ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী দীপক অধিকারীর বিরুদ্ধেই আমাদের লড়াই চলবে। বিজেপি বিপুল ভোটে জিতবে।”
বৈঠক সেক্টর অফিসারদের
লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্বে এ বার সেক্টর অফিসারদের নিয়ে বৈঠকে বসছে জেলা প্রশাসন। বৈঠক হবে মহকুমাস্তরে। আজ, শুক্রবার দুপুরে মেদিনীপুরে জেলা পরিকল্পনা ভবনে এই বৈঠক হবে। ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে এ বার প্রশিক্ষণে বেশি জোর দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। আগেও সেক্টর অফিসারদের নিয়ে একদফা বৈঠক হয়েছে। আইসি, ওসি, বিডিও, এসডিওদের নিয়েও ইতিমধ্যে দু’দফা বৈঠক হয়েছে। মূলত, পুলিশ ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় আরও দৃড় করতেই ওই বৈঠক হয়েছে। যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক গুলাম আলি আনসারি, জেলা পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ প্রমুখ। পশ্চিম মেদিনীপুরের কোন কোন এলাকা সংবেদনশীল, কী কারণে সংবেদনশীল, এলাকার পরিস্থিতি এখন কেমন, নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর কোন কোন এলাকায় কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে, আলোচনায় এ সব উঠে আসে। এখন থেকেই এ সমস্ত দিকে বিশেষ নজর রাখার নির্দেশও দেওয়া হয় বৈঠক থেকে। জেলায় এ বার দু’দফায় ভোট হবে। ৭ মে ঝাড়গ্রাম এবং মেদিনীপুরে। ১২ মে ঘাটালে। গণনা ১৬ মে। ঝাড়গ্রাম এবং মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি হবে ১২ এপ্রিল। অন্যদিকে, ঘাটাল কেন্দ্রের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি হবে ১৭ এপ্রিল। জেলা প্রশাসন মনে করছে, আধিকারিক- কর্মীদের নিয়ে যত বেশি বৈঠক- শিবির হবে, তত ভুলভ্রান্তি কমবে।
লালগড়ের স্কুলে শিক্ষকদের হাতাহাতি
এক শিক্ষককে নিয়মিত ‘অন ডিউটি’ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েছিলেন কয়েকজন শিক্ষক। স্কুলের মধ্যেই বচসা থেকে হাতাহাতি শুরু করেন শিক্ষকেরা। ওই ঘটনা চলাকালীন বেশ কয়েকজন অভিভাবক ও গ্রামবাসীর একাংশ স্কুলে চড়াও হয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক-সহ কয়েকজন শিক্ষককে মারধর করেন বলে অভিযোগ। এরপর স্কুলের একটি ঘরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক-সহ শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের তালাবন্ধ করে প্রবল বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন ওই অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা। বৃহস্পতিবার লালগড়ের নেপুরা অঞ্চলের নছিপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ঘটনা। গোলমালের জেরে এ দিন স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ গিয়ে আটক শিক্ষকদের উদ্ধার করে। স্থানীয় সূত্রে খবর, স্কুল পরিচালন কমিটির ক্ষমতায় থাকা তৃণমূলপন্থী দু’টি গোষ্ঠীর বিবাদের জেরেই ঘটনাটি ঘটে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সনৎকুমার দাস বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। পরিকল্পিত ভাবে ওই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। পরিচালন কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন মহলে অভিযোগ জানাব।”
চোলাই ঠেকে হানা
চোলাই ঠেকে অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বুধবার রাতে চৈতন্যপুর বাজার এলাকায় চোলাই মদের ঠেকে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় চোলাই ঠেক চললেও পুলিশ ও আবগারি দফতর এতদিন নিষ্ক্রিয় ছিল। কিন্তু এলাকায় চোলাইয়ের রমরমা বাড়তে থাকায় এ দিন তল্লাশি চালায় পুলিশ। যদিও পুলিশ আসার খবর পেয়ে যাওয়ায় চোলাইয়ের কারবারিরা চম্পট দেয়। পুলিশ ঠেকগুলি থেকে বেশ কিছু মদের বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য দিকে, ভবানীপুর থানা এলাকার বড়বাজিতপুরেও কয়েকটি চোলাই ঠেকে হানা দেয় পুলিশ। ওই গ্রামেরই বাসিন্দা অর্জুন মান্না নামের এক চোলাই ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সিপিআইয়ের প্রচার
ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের সিপিআই প্রার্থী সন্তোষ রাণার সমর্থনে প্রথম প্রকাশ্য প্রচার হল খড়্গপুর-২ ব্লকে। বৃহস্পতিবার ব্লকের পপআড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মাংলই থেকে বুড়ামুলা পর্যন্ত এই মিছিলে হাজির ছিলেন খড়্গপুর গ্রামীণের বিধায়ক নাজমুল হক, সিপিএম জোনাল কমিটির সম্পাদক কামের আলি, সিপিআই লোকাল কমিটির সম্পাদক বিমল মণ্ডল। এর পর পিংলা বিধানসভা এলাকার ওই পঞ্চায়েতে এ দিন বুড়ামুলা, কেঁউসি, রামভদ্রপুর, কাজিচক, মালকুড়িতে কর্মিসভার আয়োজন করা হয়েছিল।
শহরে চাঞ্চল্য
এক সদ্যোজাতের দেহাংশ পড়ে থাকতে দেখে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চাঞ্চল্য ছড়ায় মেদিনীপুরের ডিএম বাংলোর সামনে। রাস্তার একপাশে দেহাংশ পড়ে থাকতে দেখে পথচলতি অনেকেই দাঁড়িয়ে পড়েন। সাময়িক যানজটেরও সৃষ্টি হয়। কী ভাবে সদ্যোজাতের দেহাংশ এখানে এল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।