Advertisement
E-Paper

তুমি জিতবেই, উমাকে বললেন সন্ধ্যা

ঘড়ির কাঁটা তখন এগারোটা ছুঁইছুঁই। বিদ্যাসাগর হলের মাঠে ব্যস্ততা চরমে। খানিক পরেই রোড-শো শুরু হবে যে। তারপর আবার মনোনয়ন। ঝক্কি তো কম নয়। মেদিনীপুরের রোদ তখন চড়তে শুরু করেছে। পাল্লা দিয়ে চড়ছে দীনেন রায়, প্রদ্যোত্‌ ঘোষ, নির্মল ঘোষের মতো নেতাদের ব্যস্ততা।

বরুণ দে

শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০১৪ ০১:০৩
একসঙ্গে। মনোনয়ন জমা দিতে যাচ্ছেন মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সন্ধ্যা রায় ও উমা সরেন। —নিজস্ব চিত্র।

একসঙ্গে। মনোনয়ন জমা দিতে যাচ্ছেন মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সন্ধ্যা রায় ও উমা সরেন। —নিজস্ব চিত্র।

ঘড়ির কাঁটা তখন এগারোটা ছুঁইছুঁই। বিদ্যাসাগর হলের মাঠে ব্যস্ততা চরমে। খানিক পরেই রোড-শো শুরু হবে যে। তারপর আবার মনোনয়ন। ঝক্কি তো কম নয়। মেদিনীপুরের রোদ তখন চড়তে শুরু করেছে। পাল্লা দিয়ে চড়ছে দীনেন রায়, প্রদ্যোত্‌ ঘোষ, নির্মল ঘোষের মতো নেতাদের ব্যস্ততা। দলের জেলা কার্যকরী সভাপতি প্রদ্যোত্‌বাবুর চিন্তা যেন একটু বেশিই। তিনি যে মেদিনীপুরের তৃণমূল প্রার্থী সন্ধ্যা রায়ের নির্বাচনী এজেন্ট। নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার মধ্যেই খোঁজ নিচ্ছিলেন, ‘সন্ধ্যাদি এসেছে? আর বেশি দেরি করা যাবে না। রোড- শো শুরু করতে হবে।”

বলতে বলতেই রুপোলি রঙের গাড়ি এসে পৌঁছাল বিদ্যাসাগর হলের মাঠে। মুহুর্তে গাড়ি ঘিরে ধরল উত্‌সাহী কয়েকজন কর্মী-সমর্থক। গাড়ির ভিতর থেকে হাত নাড়লেন অভিনেত্রী তথা মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সন্ধ্যা রায়। মিনিট কুড়ি আগেই এসে পৌঁছেছেন ঝাড়গ্রামের তৃণমূল প্রার্থী চিকিত্‌সক উমা সরেন। অদূরেই সাদা রঙের গাড়িতেই ছিলেন তিনি। তারকা এই প্রার্থীর সঙ্গে তাঁর শেষ দেখা গেল ১৮ মার্চ, মেদিনীপুরে দলের এক কর্মী-সম্মেলনে। সে দিন পাশে ছিলেন ঘাটালের তৃণমূল প্রার্থী দীপক অধিকারী অর্থাত্‌ দেব। তিন প্রার্থী উপস্থিত থাকলেও কর্মীদের আবেগ-উচ্ছ্বাস ছিল টলিউডের ‘খোকাবাবু’কে ঘিরেই। সে দিন সন্ধ্যাদেবীর সঙ্গেও বেশি কথা বলা হয়ে ওঠেনি উমার।

তাই সন্ধ্যাদেবী এসেছেন শুনে এ দিন গাড়ি থেকে নেমে দেখা করতে চলে আসেন উমা। অভিনেত্রী প্রার্থীর পা ছুঁয়ে প্রণাম করে বলেন, “কেমন আছেন?” ঝাড়গ্রামের প্রার্থীকে দেখেই গাড়ির গাড়ির দরজা খুলে সন্ধ্যাদেবীর উত্তর, “ভাল। তুমি?” কথা বলতে বলতেই দলের যুবতী প্রার্থীর মাথায় হাত রেখে বলেন, “অল দ্য বেস্ট। ভাল থেকো। তুমি জিতবেই।” উঠে আসে গরমের কথাও। উমা বলছিলেন, “এখনই যা গরম।” সন্ধ্যাদেবী বলছিলেন, “তাই তো দেখছি। এর মধ্যেই সব করতে হবে।” মিনিট পাঁচেক কথা বলার পর সন্ধ্যাদেবীর সঙ্গে ফের সৌজন্য বিনিময় করে হলঘরটার মধ্যে চলে যান উমা। সন্ধ্যাদেবী অবশ্য গাড়িতেই বসেছিলেন।

বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ বিদ্যাসাগর হলের মাঠ থেকে শুরু হল রোড- শো। গাড়ি থেকে নেমে সাজানো হুড খোলা জিপে উঠলেন সন্ধ্যাদেবী। জিপে উঠলেন উমাও। জিপে ওঠার মুখে গাড়ির সামনে এসে অভিনেত্রীকে জড়িয়ে ধরেন এক বৃদ্ধা। নাম সন্ধ্যা চক্রবর্তী। বাড়ি মেদিনীপুর শহরেই। বৃদ্ধা বলছিলেন, “আপনার কত ছবি দেখেছি। আপনি জিতবেনই।” মিছিলটাও ছিল বেশ রঙিন। কর্মী-সমর্থকদের কারও হাতে দলের তেরঙা পতাকা। কারও গায়ে ‘মা-মাটি-মানুষ’ লেখা গেঞ্জি। মিছিলের মাঝের দিকে তাসা-ব্যান্ড বাজছে। একেবারে শেষের দিকে হুড খোলা জিপ। বিদ্যাসাগর হলের মাঠ ছেড়ে মিছিল এগোতে থাকে বটতলাচকের দিকে। সেখান থেকে গোলকুয়াচক হয়ে কলেজ মোড়। এ দিন বিকেলেও মেদিনীপুর শহরে রোড-শো করেন সন্ধ্যাদেবী।

নতুন বছরের সকালে পুজো দিতে কালীমন্দিরে গিয়েছিলেন। বিকেলে মসজিদে গিয়ে দোয়া প্রার্থনাও করেন। বুধবারও বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে কপালে দই-চন্দনের ফোঁটা নিয়ে বেরিয়েছেন সন্ধ্যাদেবী। কেন? এক তৃণমূল কর্মী বলছিলেন, “শুভ কাজে বেরোনোর আগে দই- চন্দনের ফোঁটা নেওয়া ভাল।” মনোনয়ন-পর্বের পর কালেক্টরেট চত্বর থেকে বেরোচ্ছিলেন তৃণমূল নেতারা। ছিলেন খড়্গপুরের কাউন্সিলর তথা রেলশহরের প্রাক্তন উপপুরপ্রধান তুষার চৌধুরী। হাতে পঞ্জিকা। এক তৃণমূল কর্মী রসিকতা করে বলছিলেন, “তুষারদা। হাতে পঞ্জিকা কেন? দিনক্ষণ দেখলে না কি!” প্রাক্তন উপপুরপ্রধান বলছিলেন, “কী যে বলিস!”

election nomination sandhya roy uma soren barun dey medinipur
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy