Advertisement
E-Paper

দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে ফের সাজছে ভুলাভেদা-কাঁকড়াঝোর বনপথ

টানা দশ বছর পাহাড়ি বনপথে পর্যটকদের পা পড়েনি। তবে মাওবাদী হানার বিধ্বংসী স্মৃতি ভুলিয়ে বেলপাহাড়ির ভুলাভেদা থেকে কাঁকড়াঝোর যাওয়ার পনেরো কিলোমিটার দীর্ঘ পাহাড়ি বনপথকে পুজোর আগে পর্যটকদের জন্য খুলে দিতে উদ্যোগী হয়েছে পর্যটন দফতর। রাস্তাটিকে আগেই পর্যটকদের জন্য ‘ট্রেকিং রুট’ করা হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ জন্য ৬৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে পর্যটন দফতর। প্রকল্পটি রূপায়িত হচ্ছে ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের মাধ্যমে।

কিংশুক গুপ্ত

শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০১৪ ০৪:৩৮
এই জঙ্গলপথে পর্যটকের আনাগোনা এখন সময়ের অপেক্ষা। ছবি: দেবরাজ ঘোষ।

এই জঙ্গলপথে পর্যটকের আনাগোনা এখন সময়ের অপেক্ষা। ছবি: দেবরাজ ঘোষ।

টানা দশ বছর পাহাড়ি বনপথে পর্যটকদের পা পড়েনি। তবে মাওবাদী হানার বিধ্বংসী স্মৃতি ভুলিয়ে বেলপাহাড়ির ভুলাভেদা থেকে কাঁকড়াঝোর যাওয়ার পনেরো কিলোমিটার দীর্ঘ পাহাড়ি বনপথকে পুজোর আগে পর্যটকদের জন্য খুলে দিতে উদ্যোগী হয়েছে পর্যটন দফতর। রাস্তাটিকে আগেই পর্যটকদের জন্য ‘ট্রেকিং রুট’ করা হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ জন্য ৬৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে পর্যটন দফতর। প্রকল্পটি রূপায়িত হচ্ছে ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের মাধ্যমে। কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে জানিয়ে ঝাড়গ্রামের ডিএফও আশিস কুমার সামন্ত বলেন, “পনেরো কিলোমিটার দীর্ঘ ওই পাহাড়ি জঙ্গল পথটিকে ‘ট্রেকিং রুট’ বানানোর জন্য ই-টেন্ডারের মাধ্যমে দু’টি ঠিকাদারি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুজোর আগেই কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করছি।”

দশ বছর আগের কথা। ২০০৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ভুলাভেদা-কাঁকড়াঝোর পাহাড়ি রাস্তার মাঝে দলদলি এলাকায় মাওবাদীদের বিধ্বংসী মাইন বিস্ফোরণে পুলিশের একটি গাড়ি উল্টে যায়। নিহত হন চালক-সহ সাত পুলিশ কর্মী। রাজ্যের মধ্যে সেটিই সবচেয়ে বড় মাইন হামলা ছিল। ওই ঘটনার পর থেকে ভুলাভেদা-কাঁকড়াঝোর রাস্তাটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। ওই ঘটনার পর ওদলচুয়া থেকে কাঁকড়াঝোর যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় বিকল্প একটি পিচ রাস্তা তৈরি হয়।

বন দফতর সূত্রে খবর, ঘন শাল জঙ্গলের মাঝে ভুলাভেদা থেকে কাঁকড়াঝোর যাওয়ার পাহাড়ি-পাথুরে লালমাটির রাস্তাটির নৈসর্গিক দৃশ্য অপরূপ। তাই পাহাড়ি পথটির চেহারার কোনও বদল না করেই সেটিকে ট্রেকিং রুট করা হচ্ছে। রাস্তার ধসপ্রবণ এলাকাগুলিতে কংক্রিটের চাতাল করা হচ্ছে। এ ছাড়াও পাথুরে লালমাটির রাস্তাটিকে ট্রেকিং-এর উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। রাস্তাটির মাঝে একাধিক জায়গায় পাহাড়ি ঝোরা রয়েছে। বৃষ্টি হলে ঝোরার জল রাস্তার উপর দিয়ে অপর প্রান্তে বইতে থাকে। সে জন্য রাস্তার যে যে অংশগুলিতে পাহাড়ি ঝোরা রয়েছে সেখানে কজওয়ে অথবা কালভার্ট কিংবা কংক্রিটের চাতাল করা হচ্ছে। ঝাড়গ্রামের ডিএফও আশিসবাবু জানিয়েছেন, স্থানীয় স্বহায়ক দলের পুরুষ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে গাইডের কাজে নামানো হবে। যে সমস্ত পর্যটক ভুলাভেদা-কাঁকড়াঝোর পাহাড়ি রাস্তায় ট্রেকিং করবেন, তাঁরা প্রয়োজনে গাইডের সাহায্য নিতে পারবেন। এলাকার জঙ্গল-পথ ও গাছ-গাছড়া সম্পর্কে অভিজ্ঞ গ্রামবাসীদেরই গাইডের কাজ দেওয়া হবে। এর ফলে বাসিন্দাদের বিকল্প আয়ের পথও সুগম হবে।

কাঁকড়াঝোরের বাসিন্দা মঙ্গল মুড়া, দলদলি গ্রামের পার্বতী শবরদের মতো স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, “আগে এই রাস্তা দিয়ে বহু পর্যটক আসতেন। পর্যটকরা এলে আমরা দুটো পয়সার মুখ দেখতাম। আবার কবে সুদিন ফিরবে, আমরা সেই অপেক্ষায় আছি।”সত্তর-আশির দশকে বহু বাংলা ছবির শ্যুটিং হয়েছে ভুলাভেদা-কাঁকড়াঝোরের পাহাড়ি রাস্তায়। পর্দায় ফুটে উঠেছে এখানকার নৈসর্গিক সৌন্দর্য। সেই দৃশ্যে মুগ্ধ হয়েছেন সকলেই। দশ বছর সংস্কারের অভাবে রাস্তাটি যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে উঠেছিল। হয়তো তাই অনেকেই এই সৌন্দর্য এখনও উপভোগ করে উঠতে পারেননি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানে ভুলাভেদা-কাঁকড়াঝোর বনপথে পা পড়বে পর্যটকদের। তাই অপেক্ষা শুধু মঙ্গল মুড়া, পার্বতী শবরদের নয়। এমন সুন্দর পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরতে যাওয়ার অধীর অপেক্ষায় রয়েছেন পর্যটকরাও।

tourists tourism kankrajhor-bhulabjeda jhargram kingshuk gupta
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy