Advertisement
E-Paper

নজর নেই, চাঙড় খসছে মৎস্য বিপণন কেন্দ্রের

প্রতি সপ্তাহে শুক্র থেকে রবিবার পর্যন্ত রাতদিন ধরে কেনাবেচা চলে। হাজির হন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ী ও এজেন্টরা। শতাধিক ট্রাকে শুঁটকি মাছ ও ফিসমিল আমদানি ও রফতানি হয়।

অমিত করমহাপাত্র

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:২২
বেহাল মৎস্য বিপণন কেন্দ্র। নিজস্ব চিত্র।

বেহাল মৎস্য বিপণন কেন্দ্র। নিজস্ব চিত্র।

প্রতি সপ্তাহে শুক্র থেকে রবিবার পর্যন্ত রাতদিন ধরে কেনাবেচা চলে। হাজির হন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ী ও এজেন্টরা। শতাধিক ট্রাকে শুঁটকি মাছ ও ফিসমিল আমদানি ও রফতানি হয়। ওই তিন দিনেই লেনদেন হয় চার পাঁচ কোটি টাকা। প্রতি সপ্তাহে শুধু এই বাজার থেকে সরকার রাজস্ব আদায় করে প্রায় এক লক্ষ টাকা। তবুও অব্যবস্থা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে এগরা-২ ব্লকের বালিঘাইতে চলছে এই বিপনণ কেন্দ্র।

দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, সারা ভারতে শুঁটকি মাছের ১৪টি বাজার রয়েছে। কিন্তু বালিঘাই বাজার মাছের বৈচিত্র্য ও মিষ্টি জলের শুঁটকি মাছের ক্ষেত্রে প্রথম সারিতে রয়েছে। এখানে দেশের মোট ২৪ টি উপকূলবর্তী এলাকা থেকে ও রাজ্যের ১৪ টি এলাকা থেকে শুঁটকি মাছ নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। সেগুলি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রফতানি তো হয়ই। তাছাড়া তার ৬০ শতাংশ বাংলাদেশ ও শিলিগুড়ি হয়ে চলে যায় নেপাল, ভুটান, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড-সহ বিভিন্ন দেশে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, যে হারে এই বাজারের গুরুত্ব ও চাহিদা বাড়ছে সেই হারে পরিকাঠামোর
উন্নয়ন হয়নি।

স্বাধীনতার আগে থেকেই বর্তমান পশ্চিম মেদিনীপুরের খাকুড়দায় ছিল এই বাজার। কিন্তু সেখানে নানা সমস্যায় ভিন রাজ্যের ব্যবসায়ীরা পৃথক বাজার খুঁজছিলেন। ১৯৮২ সালে সেই বাজার উঠে আসে বালিঘাই বাজারে। কিন্তু শুঁটকির গন্ধে বিব্রত মানুষদের চাপে পাশের মল্লিকপুর মৌজায় সরকারিভাবে বাজারটি সরানো হয়। ৪ একর জমি কিনে ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিপনণ কেন্দ্রের জন্য দু’টি খোলা ছাউনি, ৫০ টি স্টল, আড়ত, ৫০০ মেট্রিক টনের গোডাউন, লোডিং শেড, নিলাম কেন্দ্র, অফিস ঘর, নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য ঘর, শৌচাগার করে দেওয়া হয়। কিন্তু এই এলাকাটি মূল বাজার এলাকা থেকে প্রায় দু’কিলোমিটার দূরে হওয়ায় সমস্যায় পড়তে হয় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের। কোনও সময় নিরাপত্তা রক্ষীরা না থাকায় চুরি হচ্ছে সরকারি জিনিসপত্র।

বালিঘাই দক্ষিণবঙ্গীয় উপসাগরীয় শুকনো মাছের ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক প্রভাত মণ্ডলের অভিযোগ, ‘‘সরকারি অবহেলায় এই বাজার নষ্ট হতে বসেছে। আমরা সংশ্লিষ্ট দফতর ও জেলা থেকে রাজ্য প্রশাসন সর্বত্র দাবি জানিয়েছি। কিন্তু সাড়া পাওয়া যায়নি।’’ তাঁদের দাবি, সরকারিভাবে ঋণ পেলে আরও বেশি শুটকি মাছ কিনে মজুত করে রাখতে পারতেন। বিহারের রঞ্জনকুমার প্রসাদ, অন্ধ্রপ্রদেশের ফিরোজ খানের অভিযোগ, থাকার কোনও ব্যবস্থা নেই। সামান্য ঘরের ভাড়া চার-ছ’গুণ নিয়ে নেন ঘর মালিকরা। এই চত্বরে নেই ব্যাঙ্কিং পরিষেবাও। এই সুযোগে ফুলে ফেঁপে উঠছে কয়েকজন মহাজন। অল বেঙ্গল ড্রাই ফিস বায়ার্স অ্যাসোসিয়েশানের সহ সম্পাদক বিনোভা জানা বলেন, “একে পাঁচিল নেই তাতে আবার ঝাপসা কয়েকটা পুরনো ল্যাম্প পোস্ট। পুলিশ থাকে না। হামেশাই কেপমারির ঘটনা ঘটে।” শিবানী বর, রুণা বরদের মতো মহিলা শ্রমিকরা পৃথক শৌচাগার না থাকায় সমস্যায় পড়েন। রাতে কাজ করা অনেক ক্ষেত্রেই ঝুঁকি হয়ে যায়।

জেলা বিপনণ দফতরের আধিকারিক তথা জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সচিব খগেন্দ্রনাথ ঘোড়াই বলেন, “বালিঘাই বাজারের প্রতি বছরই কিছু কিছু উন্নয়ন করা হচ্ছে। এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করার মতো পরিস্থিতি নেই। তবে কয়েকটি উন্নয়নের জন্য রাজ্য দফতরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।” তিনি জানান, ব্যাঙ্কের সঙ্গে আলোচনা হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। খোলা জমিতে নিরাপত্তার প্রশ্নে তাঁরা রাজি হয়নি। নিরাপত্তা কর্মী রাখার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy