এলাকায় প্রাণীবন্ধু নিয়োগ হবে। এ জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছিল। আবেদন করেছিলেন কয়েক জন। আবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন খোদ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধানের ছেলেই। অথচ, তিনি ইন্টারভিউ দিতে পারলেন না। ইন্টারভিউ দিতে না-পেরে বিডিওর কাছে অভিযোগও জানালেন। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে। উপপ্রধানের ছেলের নালিশ, ইচ্ছাকৃত ভাবেই কয়েক জনকে ইন্টারভিউতে ডাকা হয়নি। অবশ্য প্রাণী সম্পদ দফতর এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। দফতরের দাবি, নিয়ম মেনেই ইন্টারভিউ হয়েছে। কারচুপি হয়নি।
শালবনি ব্লকে সব মিলিয়ে ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। আগে থেকেই প্রতিটি পঞ্চায়েতে প্রাণীবন্ধু ছিলেন। ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতে এক জন করে রয়েছেন। শুধুমাত্র বাঁকিবাঁধ গ্রাম পঞ্চায়েতে দু’জন রয়েছেন। যে ৯টি পঞ্চায়েতে এক জন করে প্রাণীবন্ধু রয়েছেন, সেখানে আরও একজন করে প্রাণীবন্ধু নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। পশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকাকরণ-সহ বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন প্রাণীবন্ধুরা। ন’টি পঞ্চায়েতে একজন করে প্রাণীবন্ধু নিয়োগের জন্য কিছু দিন আগে ব্লকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেই মতো বেশ কয়েক জন আবেদন করেন। বুধবার ছিল ইন্টারভিউ।
আবেদন করেও এ দিন ইন্টারভিউ দিতে পারেননি শালবনি পঞ্চায়েতের বনমালিপুরের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ মাহাতো, চিরঞ্জিৎ মাহাতো। চিরঞ্জিৎ শালবনি পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান অজয় মাহাতোর ছেলে। ইন্টারভিউ দিতে না-পেরে এ দিন বিডিওর কাছে অভিযোগও জানান এই দুই যুবক। চিরঞ্জিৎ বলেন, “বুধবার যে ইন্টারভিউ হবে, তা জানতামই না। বেলার দিকে জানতে পারি। ততক্ষণে ইন্টারভিউ শেষ হয়ে গিয়েছে।” প্রসেনজিৎ বলেন, “আবেদন করেও ইন্টারভিউ দিতে পারলাম না। খারাপ লাগছে। আমি যোগ্য কি না সেটা পরের কথা। ইন্টারভিউ দেওয়ার সুযোগটা তো পাবো! এমনটা হলে তো মনে হতেই পারে নিয়োগে কারচুপি হচ্ছে।” চিরঞ্জিতদের দাবি, কয়েক জন আবেদনকারীকে ফোন করেও ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। ব্লক থেকে তাঁর কাছে কোনও ফোন আসেনি।
প্রাণী সম্পদ দফতরের দাবি, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। প্রাণীবন্ধু নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি ব্লকের নোটিস বোর্ডে দেওয়া হয়েছিল। কবে ইন্টারভিউ হবে, তা-ও নোটিস বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি আকারে জানানো হয়েছিল। ইন্টারভিউয়ের কথা ওই ন’টি পঞ্চায়েতের প্রধানরাও জানতেন। দফতরের শালবনি ব্লক আধিকারিক অনুপ মণ্ডল বলেন, “বুধবার ইন্টারভিউ হবে বলে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।” কেন সকলকে ফোন করা হল না? অনুপবাবু বলেন, “হয়তো সকলকে ফোনে পাওয়া যায়নি!”
চিরঞ্জিতের বাবা, শালবনি পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অজয়বাবুর দাবি, বুধবার ইন্টারভিউ হবে, তা জানতেন না। প্রধানও তাঁকে কিছু জানাননি। শালবনি পঞ্চায়েতের প্রধান শক্তিরানি পাল বলেন, “কবে ইন্টারভিউ হবে, তা বিজ্ঞপ্তি আকারে নোটিস বোর্ডে দেওয়া হয়েছিল। আলাদা ভাবে আবেদনকারীদের জানানোর কথা তো ছিল না।” শালবনি পঞ্চায়েত তৃণমূলের দখলে রয়েছে। দলেরই এক সূত্রে খবর, অন্য এলাকার মতো এই এলাকাতেও শাসক দলের গোষ্ঠী কোন্দল রয়েছে। তৃণমূল প্রধানের সঙ্গে ‘সুসম্পর্ক’ নেই দলেরই উপপ্রধানের। তবে, শালবনি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নেপাল সিংহ বলেন, “নিয়ম মেনেই ইন্টারভিউ হয়েছে।” ব্লক প্রাণী সম্পদ আধিকারিক জানিয়েছেন, নিয়ম মেনেই সব কিছু হয়েছে।”